যারা চোখে আংশিক বা পুরাপুরি দেখতে পায় না তারাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলে এদের কাজকর্ম ও চলাফেরায় সমস্যা হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা স্পর্শ দিয়ে বস্তু চেনে, বস্তুর নাম শেখে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির নাম ব্রেইল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে স্পর্শের মাধ্যমে উঁচু ফোঁটা দিয়ে বর্ণ ও সংখ্যা তৈরি করে লেখাপড়া করানো হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজে বড়ই অবহেলিত। সমাজে যেখাবে প্রতিবন্ধী শিশুরা অবহেলিত হয় তা হলো-
১. প্রতিবন্ধী শিশুরা কম বুঝতে পারে বলে অনেকেই এদেরকে বোকা, পাগল বলে হাসিঠাট্টা করে।
২. সমবয়সীরা প্রকাশ্যে তাদের উত্ত্যক্ত করে। খেলায় নেয় না। তার সাথে মেশে না।
৩. আত্মীয়স্বজন প্রায়ই বেড়ানোর প্রোগ্রামে এদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেন।
৪. এরা অসুস্থতার কথা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। এজন্য এদের চিকিৎসায় প্রচুর সময়ের দরকার হয়। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলা দেখা যায়।
৫. বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিক্ষক, কর্মচারী আন্তরিক না হলে এদের অযত্ন হয়। যেমন- এদের সাথে ধমকের সুরে কথা বলা, এদের প্রতি মনোযোগের অভাব ইত্যাদি।
নিম্নলিখিত উপায়ে আমি একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে সহায়তা করতে পারি। যেমন-
১. দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলে তাকে ব্রেইল পদ্ধতি শেখাতে হবে।
২. যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে সঙ্গ দেওয়া, দেখাশুনার দায়িত্ব নেওয়া যেতে পারে।
৩. প্রতিবন্ধীদের ধরন অনুযায়ী তাদের খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে।
৪. এলাকায় দরিদ্র প্রতিবন্ধীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে হবে।
৫. অন্য শিশুদের সাথে মেলামেশার জন্য সহযোগিতা করতে হবে।
৬. তাদের মনের ভয় দূর করতে হবে।
৭. প্রতিবন্ধী শিশুদের বৃত্তিমূলক কাজে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
উল্লিখিত উপায়ে একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে সহায়তা প্রদান করা যায়।
প্রতিবন্ধীর জন্য পরিবারের দায়িত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রতিবন্ধি শিশুটাকে অন্য স্বাভাবিক শিশুর মতোই ভালোবাসা দিতে হবে।
২. শিশুর প্রতিবন্ধিতা বোঝার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী বিশেষ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. শিশুর জন্য বিশেষ যত্ন, চিকিৎসা সেবা ও সহায়ক উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. যেকোনো অনুষ্ঠানে পরিবারের সবার সাথে তাকে বেড়াতে নিতে হবে।
৫. প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় অপুষ্টির শিক্ষার বেশি হয়। প্রতিবন্ধী শিশুদের সুষম খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. পরিবারে বাবা-মায়ের সাথে ভাই-বোন বা অন্যান্য সদস্যদেরও প্রতিবন্ধী শিশুটির বিশেষ যত্নে অংশগ্রহণ করতে হবে।
আমাদের চারপাশে এমন কিছু শিশু দেখা যায় যারা স্বাভাবিক শিশুদের মতো নয়। তাদের দেহের গঠন আলাদা, তাদের আচরণ স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর বা সমস্যাগ্রস্ত। এদের মধ্যে কেউ চোখে ভালো দেখতে পায় না, কারও হাঁটাচলায় অসুবিধা, কারও অন্যের কথা বুঝতে দেরি হয়, কেউ বা বয়সে বড় হলেও শিশুদের মতো আচরণ করে। এসব শিশু কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার। এরাই প্রতিবন্ধী শিশু। এদেরকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুও বলা হয়। কারণ এদের পূর্ণ বিকাশে বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। এসব প্রতিবন্ধীদের জীবন যাপনে সহায়তার জন্য এদের সম্বন্ধে আমাদের সবার সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এজন্য প্রতিবছর ৩রা ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়।
কেউ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে থাকে, কেউ জন্মের পর যেকোনো দুর্ঘটনা, অপুষ্টি বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১৬ ভাগ প্রতিবন্ধী। এই হিসাবে আমাদের দেশে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। দরিদ্র দেশ হিসেবে আমাদের দেশে এই সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Related Question
View Allউদ্দীপনা হলো একটি শিশুকে তার চারপাশের বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে জানা ও দেখার সুযোগ করে দেওয়া, আর সেগুলো নিয়ে খেলা করার পরিবেশ সৃষ্টি করা। যেমন- শিশুকে সময় দেওয়া, শিশুর সাথে কথা বলা, গান করা, খেলাধুলা করা, কাজ করা, তাকে ভালোবাসা ইত্যাদি।
অতি শৈশব থেকে এই উদ্দীপকের সুযোগ সৃষ্টি করাই হলো প্রারম্ভিক উদ্দীপনা। সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শিশুকে প্রারম্ভিক উদ্দীপনা দেওয়া প্রয়োজন।
প্রান্তির আচরণে গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা লক্ষ করা যায়।
যেসব শিশুর বুদ্ধি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলা হয়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা তাদের সমবয়সীদের মতো আচরণ করতে পারে না।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মধ্যে তিন ধরনের মাত্রা লক্ষ করা যায়। যথা- মৃদু, মধ্যম ও গুরুতর। গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের বুদ্ধির মাত্রা এত কম থাকে যে তারা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মতো আচরণ করে। গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের অন্যের তত্ত্বাবধানে জীবন ধারণ করতে হয়। প্রান্তি কিশোরী হলেও সে তার দু'বছর বয়সী ভাইয়ের মতো আচরণ করে। সে প্রায়ই অকারণে হাসতে থাকে। তার এ সকল আচরণ দেখে তাকে গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা যায়।
প্রান্তি একজন গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
কিশোরী হলেও প্রান্তি তার দু'বছর বয়সী ভাই প্রত্যয়ের মতো আচরণ করে। তাই তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যয়ের মতোই তাকে গান শুনিয়ে, ছবি আঁকতে দিয়ে, গল্প শুনিয়ে ব্যস্ত রাখে। সবাই তার কথা মন দিয়ে শোনে। তার মা ধৈর্যের সাথে তার যত্ন নেন। এ ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সার্বক্ষণিক যত্নের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যত্ন পেলে এরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী আচরণ করতে পারে। এদের স্বাভাবিক শিশুর মতোই ভালোবাসা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী শিশুকে সময় দেওয়া, তার সাথে কথা বলা, গান, খেলাধুলা করা ইত্যাদিতে অনুপ্রাণিত করতে হয়। তাহলে তাদের আচরণ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রাপ্তি পরিবার থেকে প্রারম্ভিক উদ্দীপনা পাচ্ছে। এর ফলে তার আচরণের উন্নতি ঘটবে ও পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। সুতরাং, প্রান্তির পরিবারের সবার আচরণ তার সুস্থতার জন্য সহায়ক বলে আমি মনে করি।
গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুরা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মতো আচরণ করে থাকে। তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যা দেখা যায়। অন্যের তত্ত্বাবধানে তাদের জীবনধারণ করতে হয়। বিশেষ যত্ন ও প্রশিক্ষণে তাদের দৈনন্দিন কাজের অভ্যাস তৈরি করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!