'নিধিকুন্ড' শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্জন বা গোপন স্থানে ধন সঞ্চয় করে রাখা। সাধারণত ধন বলতে টাকা-পয়সা, অলংকার, জমি, গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতিকে বোঝায়। মানুষ সুখের আশায় এসব ধন সঞ্চয় করে। বুদ্ধ উক্ত ধনগুলোকে প্রকৃত ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। নিধিকুণ্ড সূত্রে বুদ্ধ প্রকৃত ধন সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করেন। দান, শীল, ভাবনা এবং আত্মসংযম দ্বারা অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন।
রাজগৃহের অধিবাসী মহাপন্থক ভিক্ষুব্রত গ্রহণ করার অল্প সময়ের মধ্যেই অর্হত্ব লাভ করেন। তখন তিনি তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা চুল্লপন্থকে ডিক্ষুব্রতে দীক্ষা প্রদান করেন এবং ভাবলেন সহজে তাঁরও মুক্তি লাভ হবে।
চুল্লপন্থক মেধাবী ছিলেন না বলে দীর্ঘ ৪ মাসেও একটি গাথা মুখস্থ করতে পারেননি। ভাইয়ের বুদ্ধির জড়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে মহাপন্থক তাঁকে ভিক্ষুসঙ্ঘ ছেড়ে চলে যেতে আদেশ দিলেন। বিহার ত্যাগের সময় বুদ্ধ তাকে দেখতে পেয়ে একখন্ড কাপড় দিয়ে বললেন, "সূর্য উঠলে সূর্যের তাকিয়ে কাপড়টি নাড়বে।” তিনি তা করলে কিছুক্ষণের মধ্যে হাতের ঘামে কাপড়টি ময়লা হয়ে গেল। এতে তিনি জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করে অর্হত্ব ফল লাভ করলে বুদ্ধ তাঁর প্রশংসা করে ৫নং থেকে ৭নং গাথা ভাষণ করেছিলেন।
অপ্রমাদ বর্গে অপ্রমত্ত এবং প্রমত্ত ব্যক্তির স্বরূপ সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়। যিনি অবিচল থেকে নিষ্ঠার সাথে সৎকাজ করেন তিনি অপ্রমত্ত ব্যক্তি। কিন্তু প্রমত্ত ব্যক্তি অপ্রমত্ত ব্যক্তির বিপরীত চরিত্রের অধিকারী। প্রমত্ত ব্যক্তি অসংযম, অস্থির এবং আলস্যপরায়ণ হয়। সে রাগ-দ্বেষ, মোহ দ্বারা বশীভূত হয়। সে হিংসা ও আক্রোশের বশে অন্যের ক্ষতি করে। প্রমাদ তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তার পক্ষে জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল ছিন্ন করা সম্ভব নয়। সে নির্বাণ লাভ করতে পারেন না। প্রমত্ত ব্যক্তির অবর্ণ, দুর্নাম দৈনন্দিন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।
'নিধিকুন্ড সূত্র' ত্রিপিটকের অন্তর্গত খুদ্দকপাঠ গ্রন্থে বর্ণিত আছে। প্রকৃত সম্পদ বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধ নিধিকুন্ড সূত্রটি দেশনা করেন। অপ্রমাদ বর্গ ত্রিপিটকের ধর্মপদ গ্রন্থে পাওয়া যায়। অপ্রমাদ বর্গে কীভাবে জগতে অপ্রমত্ত বা অবিচল থেকে সৎকাজ করা যায় এবং চিত্তকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা বর্ণিত আছে। নিধিকুণ্ড সূত্র এবং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলো মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে। এ অধ্যায়ের প্রথম অংশে আমরা নিধিকুন্ড সূত্র এবং দ্বিতীয় অংশে অপ্রমাদ বর্গ পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- নিধিকুন্ড সূত্রের পটভূমি বর্ণনা করতে পারব।
- প্রকৃত নিধিসমূহ কী উল্লেখ করতে পারব।
- সূত্রটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অপ্রমাদের ব্যাখ্যা দিতে পারব।
- অপ্রমত্ত থাকার সুফল মূল্যায়ন করতে পারব।
- নিধিকুন্ড সূত্র ও অপ্রমাদ বর্গের তুলনামূলক আলোচনা করতে পারব।
Related Question
View Allঅপ্রমাদ বর্গে ১২টি গাথার কথা উল্লেখ আছে।
'অপ্রমাদ' শব্দের অর্থ হচ্ছে উদ্যম, উৎসাহ, উত্থানশীলতা, জাগ্রতভাব, স্মৃতিমান, সংযমশীলতা ইত্যাদি। অপ্রমাদ বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষার ভিত্তি ও মূলনীতি। নির্বাণ লাভের জন্য অপ্রমাদ অত্যাবশ্যক। সুতরাং অপ্রমাদ বর্গের গাথাগুলোর মাধ্যমে উপযুক্ত বিষয়ে জ্ঞানার্জন লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে ঘটনা-১ এ অপ্রমাদ বর্গের ১নং থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত বহন করে। ঘটনা-১ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার সাথে সংগতিপূর্ণ।
বুদ্ধ অপ্রমাদ বর্গের ১ হতে ৩নং গাথা ভাষণ করেছিলেন কৌশাম্বীর অন্তর্গত ঘোষিতারামে অবস্থানকালে। সেসময় মহারাজ উদয়নের প্রধান মহিষী ছিলেন শ্যামাবতী। তিনি ছিলেন বুদ্ধ ভক্ত। তিনি প্রত্যহ বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণের জন্য ঘোষিতারামে যেতেন। রাজার অপর রানি ছিলেন মাগন্ধিয়া, সে বুদ্ধবিদ্বেষী। তিনি রানি শ্যামাবতীর বুদ্ধভক্তি একদম সহ্য করতে পারতেন না। তাই শ্যামাবতীর প্রাসাদে আগুন দেয়। এতে শ্যামাবতীসহ পাঁচশ সহচরী পুড়ে মারা যায়। রাজা রানি মাগন্ধিয়াকে প্রাণদণ্ড দেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-১ এর মাধ্যমে অপ্রমাদ বর্গের ১ থেকে ৩নং গাথার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকের বিকাশ চাকমার কর্মটি ১২নং গাথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘটনা-২ এ অপ্রমাদ বর্গটির ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
ভিক্ষু তিষ্য শ্রাবস্তীর কাছেই নিগম গ্রামে বাস করতেন। বাইরের জগতের সাথে তাঁর কোনো সংস্রব ছিল না বললেই চলে। নিজের কয়েকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ভিক্ষা করে যা পেতেন তাতেই তার প্রয়োজন মিটতো। এর বেশি আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল না। এ কারণে শ্রেষ্ঠীদের মহাদান বা কোশলরাজ প্রসেনজিতের বড় দান উৎসবে তিষ্যকে কখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে লোকে তাঁকে নিন্দা করত এবং বলত তিষ্য শুধু তার স্বজনদেরকেই ভালোবাসেন। বুদ্ধ তিষ্যের এ অল্পে তুষ্ট আর লোভহীনতার কথা শুনে বেশ প্রশংসা করে অপ্রমাদ বর্গের ১২নং গাথাটি ভাষণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে বিকাশ চাকমার ধর্মকর্মের সাথে ভিক্ষু তিষ্যের সাদৃশ্যতা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, ঘটনা-২ অপ্রমাদ বর্গের ১২ নম্বর গাথার প্রতিচ্ছবি।
অনুগামী নিধি হলো দানময়, শীলময়, ভাবনাময়, ধর্ম শ্রবণময়, ধর্মদেশনাময় পুণ্য। অনুগামী নিধি সবখানে সবসময় অনুগমন করে সুখ লাভ করা যায়। অনুগামী নিধি অর্জন করতে হলে দানশীল, ভাবনাময়, ধর্মশ্রবণ ও ধর্মদেশনাময় পুণ্য করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!