আমাদের পৃথিবী অনেক প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে পরিপূর্ণ। এখানে রয়েছে-
১. নানা ধরনের গাছ-লতা-পাতা।
২. জীবজন্তু, কীট-পতঙ্গ।
৩. বনভূমি, উঁচু পাহাড়-পর্বত, সমভূমি।
৪. বিশাল জলরাশি, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর।
৫. সবুজ শস্যক্ষেত্র।
৬. গাছে-গাছে জানা-অজানা ফুল-ফল। ডালে-ডালে পাখি।
৭. আকাশে রয়েছে চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র।
স্রষ্টার রয়েছে অনেক নাম। বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা স্রষ্টাকে বিভিন্ন নামে ডাকে। যেমন-
১. হিন্দুধর্মে স্রষ্টাকে ঈশ্বর বলা হয়। এছাড়াও পরমেশ্বর, ব্রহ্ম, পরমব্রহ্ম, পরমাত্মা, হরি, ভগবান প্রভৃতি নামেও ডাকা হয়।
২. খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে ঈশ্বর বা গড বলে ডাকে।
৩. ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে আল্লাহ বলে ডাকে।
৪. বৌদ্ধরা গৌতম বুদ্ধের অনুশাসন মেনে চলে।
৫. ইংরেজি ভাষায় স্রষ্টাকে গড বলে ডাকে।
৬. ফারসি ভাষায় খোদা বলে ডাকা হয়।
পৃথিবীর কোনোকিছুই হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। সমস্ত সৃষ্টির মূলে রয়েছেন একজন মহান স্রষ্টা। যেমন- একজন কাঠমিস্ত্রি তৈরি 'করেন চেয়ার-টেবিল, রাজমিস্ত্রি তৈরি করেন দালান-কোঠা। তেমনি চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, মানুষ, গাছ-লতা-পাতা, জীবজন্তু, কীট-পতঙ্গ, বনভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, সবুজ শস্যক্ষেত্র প্রভৃতিসহ জগতের সকল কিছুর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। হিন্দুধর্মে এই সৃষ্টিকর্তাকে বলা হয় ঈশ্বর। তাই বলা যায়, ঈশ্বর-ই সবকিছুর স্রষ্টা।
বিভিন্ন ভাষায় স্রষ্টার বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন-ইংরেজি ভাষায় ঈশ্বরকে গড বলা হয়। আরবিতে বলা হয় আল্লাহ। ফারসি ভাষায় বলা হয় খোদা।
স্রষ্টা ও সৃষ্টি পরিচ্ছেদ হতে আমরা যেসব নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা হলো-
১. ঈশ্বরের সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসা মানে ঈশ্বরকে ভালোবাসা।
২. সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হবেন।
৩. ঈশ্বর সন্তুষ্ট হলে আমাদের মঙ্গল করবেন।
৪. ঈশ্বর ও তাঁর সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসা আমাদের কর্তব্য।
৫. সকল জীবকে ভালোবাসব এবং ঈশ্বর বলে মনে করব।
ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি সকল শক্তির অধিকারী।
ঈশ্বর অনাদি, অনন্ত এবং সকল গুণের অধিকারী। তাঁর সমান বা তাঁর চেয়ে বড় কেউ নেই। তিনি সবকিছু করতে পারেন। তিনি জীব ও জগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। তিনি সর্বশক্তির উর্ধ্বে। তাঁর ইচ্ছাতেই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে আর সন্ধ্যায় অস্ত যায়, ঋতুর পরিবর্তন হয়। তিনি মহাবিশ্বের স্রষ্টা।
পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবই ঈশ্ব মহাবিশ্ব নামে পরিচিত। এ মহাবিশ্বের সবকিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এ নিয়মেই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে আর সন্ধ্যায়-অস্ত যায়। ঋতুর পরিবর্তন হয়। ঘটে সব প্রাকৃতিক ঘটনা।রের সৃষ্টি। তবে পৃথিবীর বাইরেও ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন বিশাল এক জগৎ, যা মহাবিশ্ব নামে পরিচিত। এ মহাবিশ্বের সবকিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এ নিয়মেই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে আর সন্ধ্যায়-অস্ত যায়। ঋতুর পরিবর্তন হয়। ঘটে সব প্রাকৃতিক ঘটনা।
সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি। যেভাবে দিন-রাত হয়-
১. ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে আর সন্ধ্যায় অস্ত যায়।
২. সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ঘোরে। ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করে তখন সেই অংশে সূর্যের আলো পড়ে এবং সেখানে দিন হয়।
৩. পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না, সেখানে। অন্ধকার থাকে। ফলে সেখানে রাত হয়।
ঈশ্বর সকল শক্তির অধিকারী। তাই তাঁকে সর্বশক্তিমান বলা হয়। তিনি যেভাবে মহাবিশ্বকে ধারণ করেছেন তা হলো-
১. তিনি জগতের সকল জায়গায় রয়েছেন।
২. তাঁর ইশারায় এ মহাবিশ্বের সবকিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে।
৩. আমাদের জন্ম-মৃত্যু তাঁরই দান।
৪. অসীম তাঁর ক্ষমতা। তাঁর ক্ষমতার বাইরে কিছু নেই।'
৫. তিনি সৃষ্টি করেন। তিনি পালন করেন। আবার তিনিই ধ্বংস করেন।
ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক হলো-
১. ঈশ্বর স্রষ্টা, জীব তাঁর সৃষ্টি। তাই ঈশ্বরের সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসাই হচ্ছে ঈশ্বরকে ভালোবাসা।
২. আমরা ঈশ্বরকে না দেখতে পেলেও তিনি সকল জীবের মধ্যে আছেন।
৩. ঈশ্বর আছেন বলেই আমাদের জীবন আছে।
৪. তিনি প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। আর এই প্রকৃতিকে নির্ভর করেই আমরা বেঁচে থাকি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ আমাদের এ পৃথিবীর সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই তিনি আছেন তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে। তিনি আছেন বলেই আমাদের জীবন আছে। ঈশ্বর সৃষ্ট প্রকৃতিতে আছে আমাদের প্রয়োজন মেটানোর মতো সবকিছু। প্রকৃতিকে নির্ভর করে আমরা বেঁচে থাকি। এভাবে তিনি আমাদের লালন-পালন করেন। যেহেতু ঈশ্বর তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করেন, তাই সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসলে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়। এজন্য আমরা সকল সৃষ্টিকে ভালোবাসব।
ঈশ্বরের প্রতি আমরা বিভিন্ন কারণে কৃতজ্ঞ। কেননা, ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের সুন্দরভাবে প্রতিপালন করেছেন। তিনি আমাদের জন্য প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া তিনি সৃষ্টি করছেন সবুজ শস্যক্ষেত্র, ফল-মূল, নদ-নদী, জীবজন্তু, পশু-পাখি ইত্যাদি। তিনি আছেন বলেই আমাদের জীবন আছে।
জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। কথায় আছে, ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। এজন্য আমরা জীবকে ভালোবাসব। কারণ জীবকে ভালোবাসলে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়। তাই স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
"জীবে প্রেম করে যেই জন,
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"
অর্থাৎ যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকেই সেবা করেন। তাই আমরা কোনো জীবকেই অবহেলা করব না। জীবকে অবহেলা করলে ঈশ্বরকে অবহেলা করা হয়।
আমরা ঈশ্বরকে দেখতে পাই না। কারণ তিনি আছেন সকল জীবের মধ্যে। তিনি আছেন তাঁর সকল সৃষ্টির মধ্যে। তিনি আছেন বলেই আমাদের জীবন আছে। ঈশ্বর সকল জীবকে সৃষ্টি করেছেন। তাই ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ঈশ্বর আছেন সকল সৃষ্টির মধ্যে। তিনি আছেন বলেই আমাদের জীবন আছে। তাঁর সৃষ্ট প্রকৃতির সেবার ওপর নির্ভর করে আমরা বেঁচে থাকি। এভাবে তিনি আমাদের লালন-পালন করেন।
বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে বলা হয় উপাসনা। যেভাবে উপাসনা করা যায় তা হলো-
১. উপাসনা করার সময় বিশেষ আসনে বসতে হয়।
২. উত্তর বা পূর্বদিকে মুখ করে সোজা হয়ে বসতে হয়।
৩. একমনে ঈশ্বরকে ডাকতে হয়, তাঁকে আরাধনা করতে হয়।
৪. ঈশ্বরের গুণকীর্তন, স্তব-স্তুতি, পূজা, ধ্যান, জপ ইত্যাদি করতে হয়।
৫. দেব-দেবীর প্রতিমা বা ছবির সামনে বসে পূজা ও যজ্ঞ করতে হয়।
উপাসনার একটি দিক প্রার্থনা। উপাসনা ও প্রার্থনা করলে যে ফল পাওয়া যায় তা হলো-
১. উপাসনা ও প্রার্থনার মাধমে মনোযোগ বাড়ে।
২. আমাদের দেহ-মন ভালো থাকে।
৩. শরীর সুস্থ থাকে।
৪. সৎ ও ধর্মপথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।
৫. উপাসনা ও প্রার্থনা করলে ঈশ্বর আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হন।
৬. ঈশ্বর আমাদের মঙ্গল করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন।
'বিপদে মোরে রক্ষা করো' প্রার্থনা সংগীতটির মূলভাব হলো-
১. কবি তার বিপদে তাকে রক্ষা করার পরিবর্তে তিনি যেন ভয়হীন থাকতে পারেন সেই প্রার্থনা করেছেন।
২. দুঃখে সহায়, সান্ত্বনা না চেয়ে শক্তি ও সাহস চান।
৩. কবি প্রভুর কাছে নিজেকে উদ্ধার করার পরিবর্তে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার শক্তি ও সাহস চেয়েছেন, যাতে নিজেই সকল বাধা-বিপত্তির মোকাবিলা করতে পারেন।
৪. কবি প্রভুর কাছে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার প্রার্থনা করেছেন
উপাসনার অর্থ হলো ঈশ্বরকে স্মরণ করা। যা গুণকীর্তন, স্তব-ভুতি, পূজা, ধ্যান, জপের মাধ্যমে করা হয়। উপাসনা দুইভাবে করা যায়। যথা-
১. সাকার উপাসনা: সাকার উপাসনায় দেব-দেবীর প্রতিমা বা
ছবির সামনে বসতে হয়। পূজা করতে হয়। যজ্ঞ করতে হয়। সাকার উপাসনাকে প্রতীকী উপাসনাও বলা হয়।
২. নিরাকার উপাসনা: নিরাকার উপাসনা জপ, ধ্যান, গুণকীর্তনের মাধ্যমে করা হয়।
উপাসনা একটি নিত্যকর্ম। প্রতিদিন, সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় উপাসনা করতে হয়।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!