ইমান আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো বিশ্বাস স্থাপন করা। ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই। তিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। সকল প্রশংসা ও ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। এজন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ইমানের মূল বিষয় ৭টি। যথা-
১. মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস।
২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস।
৩. আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস।
৪. নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস।
৫. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস।
৬. ভাগ্যের ভালো-মন্দ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিশ্বাস।
৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস।
ইমানে মুজমাল হলো ইমানের সার-সংক্ষেপ। বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ইমানে মুজমাল নিম্নরূপ-
উচ্চারণ : আমানু বিল্লাহি কামা হুয়া বি আস্থায়িহী ওয়া ছিফাতিহী ওয়া ক্বাবিলু জামিয়া আহকামিহী ওয়া আর্কানিহী।
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম যেভাবে তিনি আছেন তাঁর নামসমূহে ও গুণাবলিতে। আমি তাঁর সব আদেশ ও নিষেধসমূহ মেনে নিলাম।
আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.) এর নির্দেশমতো কাজ করাকে ইবাদাত বলে। আমরা আল্লাহকে খুশি করার জন্য ইবাদাত করব। আমি যেসব ইবাদাত করি তা হলো-
১. সালাত আদায় করি।
২. সাওম পালন করি।
৩. রোগীর সেবা করি।
৪. বড়োদের শ্রদ্ধা করি ও ছোটদের স্নেহ করি।
৫. ইয়াতিম-মিসকিনকে সাহায্য করি।
৬. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথে চলি।
এছাড়াও অনেক ভালো কাজ করি। যা আমরা করি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।
ইবাদাত শব্দের অর্থ আনুগত্য। ইসলামের পাঁচটি মৌলিক বিষয় হলো ইমান, সালাত, সাওম, হজ ও জাকাত।
ইমান : মহান আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবি-রাসুল, আখিরাত এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন হলো ইমান।
সালাত: ইমানের পর মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সাত বছর থেকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আবশ্যক।
সাওম : সাওম অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাওয়া-দাওয়া ও নিষিদ্ধ কাজ করা থেকে বিরত থাকাকে সাওম বলে। মুসলমানদের ওপর রমজান মাসে রোজা পালন করা ফরজ।
সূরা আন্-নাসের আয়াত সংখ্যা ৬টি।
অর্থ:
১. (হে মুহাম্মদ!) আপনি বলুন, আমি মানুষের পালনকর্তার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
২. মানুষের অধিপতির কাছে।
৩. মানুষের ইলাহের কাছে।
৪. আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে।
৫. যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।
৬. জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। পবিত্র কুরআনে আমাদের জন্য সঠিক ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব অনেক। কুরআনের একটি বর্ণ, তিলাওয়াত করলে দশটি নেকি পাওয়া যায়। রাসুল (স.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সে সবচেয়ে উত্তম, যে কুরঅ্যান মাজিদ নিজে শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” তাই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম।
পবিত্র কুরআন পড়ার জন্য হরকত শিখতে হয়। হরকত হলো এক ধরনের চিহ্ন যা আরবি হরফের সঙ্গে যুক্ত করলে আমরা সঠিকভাবে কুরআনের শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারব। আরবি ভাষায় হরকত তিনটি। যথা- যবর , যের ও পেশ ।
হরকতের উচ্চারণ :

Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!