মানবিকতা এমন একটি গুণ যা মানুষের ভিতরকার মানবীয় বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। এটি দ্বারা মূলত স্নেহ-ভালোবাসা,, মায়া-মমতা, সততা, সত্যবাদিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, উদারতা, পরোপকার ইত্যাদিকে বোঝায়। এই গুণটি মানুষের সমাজবদ্ধ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে এবং তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
যে কাজগুলো সবার জন্য মঙ্গলজনক তাকে ভালো কাজ বলে। ভালো কাজের মধ্যে রয়েছে- গুরুজনদের সম্মান করা, সত্য কথা বলা, নিয়মিত প্রার্থনা করা, পড়ালেখা করা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে, যে কাজগুলো সবার জন্য ক্ষতিকর তাকে মন্দ কাজ বলে। মন্দ কাজের মধ্যে রয়েছে- মিথ্যা কথা বলা, গুরুজনদের অশ্রদ্ধা, ঝগড়া করা ইত্যাদি। আমাদের সকলের উচিত মন্দ কাজ পরিহার করা।
যে কাজগুলো করলে সবার মঙ্গল হয় তাকে ভালো কাজ বলে। আমি নিয়মিত করি এমন কয়েকটি কাজের নাম হলো-
১. গুরুজনদের সম্মান করি।
২. সহপাঠীদের সাথে মিলেমিশে চলি।
৩. সত্য কথা বলি।
৪. নিয়মিত লেখাপড়া করি।
৫. নিয়মিত প্রার্থনা করি।
যে কাজ সবার জন্য ক্ষতিকর তাকে মন্দ কাজ বলে। আমি নিজেকে বিরত রাখি এমন কয়েকটি কাজ হলো-
১. ঝগড়া করা ;
২. মিথ্যা কথা বলা;
৩. গুরুজনদের অশ্রদ্ধা করা;
৪. পরনিন্দা করা;
৫. বিদ্যালয়ের বেঞ্চ বা দেয়ালে লেখালেখি করা।
অন্যের মঙ্গল বা উপকার করা মানুষের একটি মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি মানবতার মূল ভিত্তি এবং সমাজের শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি প্রধান উপাদান। পরোপকারের মাধমে ব্যক্তির মধ্যে উদারতা, সহানুভূতি এবং মমত্ববোধ প্রকাশ পায়। পরোপকার শুধু অন্যের উপকারেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরোক্ষভাবে নিজের মন এবং আত্মার শান্তি অর্জনের পথও তৈরি করে। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, অসুস্থদের সেবা করা বা দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক গুণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাই বলা যায়, পরোপকার এক মহৎ মানবিক গুণ, যা মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানবিক করে তোলে।
বক রাক্ষস সম্পর্কে চারটি বাক্য নিচে লেখা হলো-
১. বক রাক্ষস একচক্রা নগরীর একদিকের একটি বনে বাস করত।
২. প্রতিদিন তাঁকে খাবার হিসেবে একজন মানুষ, দুটি মহিষ এবং প্রচুর ভাত এবং সাথে দই মিষ্টি দিতে হতো।
৩. বক রাক্ষস একটা গাছের কাণ্ড দিয়ে ভীমকে পেটাতে লাগল।
৪. ভীম বক রাক্ষসকে আক্রমণ করলেন এবং মেরে ফেললেন।
ভীমের পরোপকার উপাখ্যান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি যেভাবে আমার বিপদগ্রস্ত বন্ধুর উপকার করব তা হলো-
১. সর্বপ্রথম বন্ধুর বিপদের কারণ সম্পর্কে জানব।
২. তারপর খুশি মনে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে আমি তাকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করব।
৩. যদি আমি একা সমস্যার সমাধান করতে না পারি, তাহলে বন্ধুদের সহযোগিতা নেব।
৪. এতেও সম্ভব না হলে আমি গুরুজন বা পিতা-মাতার সহযোগিতা নেব।
পরের উপকার করাকেই পরোপকার বলা হয়। পরোপকারী ব্যক্তিরা যেমন প্রকৃতির হয় তা হলো-
১. পরোপকারী ব্যক্তিরা মহৎ হন।
২. তারা সবসময় অন্যের কথাই ভাবেন।
৩. তারা নিজের জন্য ভাবেন না।
৪. তারা নিজের কাজের বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করেন না।
৫. তাঁরা মহৎ।
'বক' ছিল এক রাক্ষস। সে একচক্রা নগরীর একদিকের বনে বাস করত। তার প্রাত্যহিক খাবারের তালিকায় ছিল-
১. একজন মানুষ,
২. দুটি মহিষ,
৩. প্রচুর ভাত এবং
৪. সেই সাথে ছিল দই-মিষ্টি।
ন্যায় শব্দটি সাধারণ নীতিবোধ, নৈতিকতা এবং সঠিক বিচারব্যবস্থার ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। নিচে ন্যায়-এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
১. ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষ তার অধিকারের সুরক্ষা পায় এবং একটি সুবিন্যস্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
২. কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ তা বিচার করা যায়।
৩. সত্য-মিথ্যা, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করা যায়।
৪. কল্যাণ-অকল্যাণ, পাপ-পুণ্য বুঝতে পারা যায়।
৫. দোষ-গুণের পার্থক্য করা যায়।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অনেক কারণ রয়েছে। তবে অন্যান্য কারণের মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হলো রাজ্যের অধিকার আদায়। পাণ্ডবরা ছিল ন্যায় পরায়ণ। আর কৌরবরা ছিল লোভী ও স্বার্থপর। তাই কৌরবরা সম্পূর্ণ রাজ্য নিতে চায়। তখন কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধের নাম কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ।
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ উন্নত জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ-
১. এর মাধ্যমে আমরা সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা রোধ করতে পারব।
২. ভালো-মন্দ বিচার করতে পারব।
৩. সত্য-মিথ্যা, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করতে পারব।
৪. কল্যাণ-অকল্যাণ, পাপ-পুণ্য বুঝতে পারব।
৫. দোষ-গুণের পার্থক্য করতে পারব।
আমাদের জীবনের মঙ্গলের জন্য নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন। নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য।
২. ধর্মীয় মূল্যবোধ অর্জন করার জন্য।
৩. ভালো-মন্দ বিচার করার জন্য।
৪. সত্য-মিথ্যা, উচিত-অনুচিত পার্থক্য করার জন্য।
৫. কল্যাণ-অকল্যাণ, পাপ-পুণ্য বুঝতে পারার জন্য।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সম্পর্কে বলা যায়-
১. কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে রাজ্যের অধিকার নিয়ে ঝগড়া হয়।
২. কৌরবরা সম্পূর্ণ রাজ্য নিতে চাইলেন।
৩. ১৮ দিন যুদ্ধ হয়।
৪. যুদ্ধে পাণ্ডবরা জয় লাভ করে।
৫. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ন্যায়-অন্যায়ের যুদ্ধ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলতে বোঝায়-
১. যারা চোখে দেখতে পায় না।
২. যারা কানে শুনতে পায় না।
৩. যারা কথা বলতে পারে না।
৪. যারা হাঁটতে পারে না।
আমি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য যা করব তা হলো-
১. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করব।
২. তার সাথে ভালোভাবে কথা বলব।
৩. একসাথে খেলাধুলা করব।
৪. প্রয়োজনে হাত ধরে নিয়ে বসতে দেব।
৫. যদি সে কোনোকিছু না বোঝে তবে তাকে তা বুঝিয়ে দেব।
৬. তার যেকোনো প্রয়োজনে আমি তাকে সহযোগিতা করব।
শুভর মতো জাতীয় পুরস্কার পেলে আমার খুব ভালো লাগবে। কারণ জাতীয় পুরস্কার পেলে পুরো দেশ আমাকে চিনবে এবং আমার প্রশংসা করবে। আমার বিদ্যালয়টির নামও পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এতে আমার বাবা-মায়ের সম্মান বাড়বে।
যারা চোখে দেখতে পায় না, কানে শুনতে পায় না, কথা বলতে পারে না, হাঁটতে পারে না তাদেরকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলা হয়।
একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সহপাঠীর জন্য যা করা উচিত তা হলো-
১. তাকে বন্ধু ভাবতে হবে।
২. হাত ধরে নিয়ে পাশে বসাতে হবে।
৩. তার সাথে ভালোভাবে কথা বলতে হবে।
৪. একসাথে খেলাধুলা করতে হবে।
৫. যেকোনো প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allমানুষ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সত্যবাদিতা হলো সত্য কথা বলা।
আমরা প্রতিদিন নানান কাজ করে থাকি।
মানুষের প্রধান গুণ মানবিকতা
একে অন্যকে শ্রদ্ধা করা হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
পরের উপকার করাই হলো পরোপকার
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!