ধর্মপালনের মধ্য দিয়ে নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা যায়। নৈতিকতা গঠনে ধর্ম খুবই সহায়ক। সত্য, সংযম, অক্রোধ, ক্ষমা প্রভৃতি ধর্মের এক একটি গুণ। যিনি নৈতিক গুণগুলো অর্জন করেন এবং জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করেন তিনি ধার্মিক বলে বিবেচিত হন। ধর্ম শিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি তা জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করতে হয়। আর ধর্ম থেকে পাওয়া জ্ঞান নিজেদের জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করা হলে তা নৈতিক আচরণ হয়। ধর্ম একদিকে নিজের ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন। এই ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে থেমে থাকলে কোনো লাভ নেই। আমি যদি জীবের মধ্যে আত্মরূপে ঈশ্বর আছেন জেনে জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে শ্রদ্ধা করি এবং জীবের সেবা করি, তাহলে ধর্মীয় জ্ঞান সার্থক হবে।
এখানে ধর্মশিক্ষা হলো জীবকে ঈশ্বর বলে বিবেচনা করা। আর নৈতিক শিক্ষা হলো জীবের সেবা করা উচিত। তাই ধর্ম হলো নৈতিক শিক্ষার একটি উপায়। সুতরাং নৈতিক শিক্ষা ধর্মীয় শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে। আর ধর্ম নৈতিক শিক্ষার ভিত্তিকে দৃঢ়তর করে তোলে।
উদারতা হলো চরিত্রের মহত্ব বা সাধুতা। যারা সাধু ও মহান তারা সকল মানুষকে সমান মনে করেন। ধনী-গরিব, পণ্ডিত-মূর্খ সবাই তাঁদের কাছে সমান মর্যাদা পায়। সকল ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর কাছে সমান। শাস্ত্রে আছে, উদার চরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বকম্। অর্থাৎ উদারচরিত ব্যক্তিদের কাছে পৃথিবীর সকলেই আত্মীয়। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মানুষ জাতি করিতায় উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়-
"কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবার সমান রাঙ্গা।"
মানুষের মধ্যে ভেদাভেদহীন এই চেতনাকে উদারতা বলে। উদারতা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মের অঙ্গ। উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে, মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ব্যক্তিস্বার্থের চিন্তা আমাদের মনকে সংকীর্ণ করে তোলে। তখন আমরা সমাজের অন্যান্যদের স্বার্থ, সুখ ও কল্যাণের কথা ভুলে যাই। তাতে সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ হয়। সুতরাং সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে উদারতার গুরুত্ব অপরিসীম।
কোনো স্বার্থের প্রত্যাশা না করে পরের মঙ্গলের জন্য যে কাজ করা হয় তাকে পরোপকার বলে। কবি কামিনী রায়ের একটি কবিতায় পরোপকারের পরিচয় পাওয়া যায়-
"পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলেই দাও
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"
পরোপকারের একটি উদাহরণ হলো- পল্লব মধুর সহপাঠী। একই পাড়ার থাকে। একদিন মধু স্কুলে এলো না। পল্লব স্কুল থেকে ফেরার পথে মধুর বাড়ি গিয়ে দেখে তার ভীষণ জ্বর, পল্লব ডাক্তার ডেকে আনল। মধুর পরিবারের প্রতি পল্লবের এই আচরণকে পরোপকার বলে।
পরোপকারের মধ্য দিয়ে জীবের সেবা করা হয়। পরোপকার করলে ব্যক্তি উদার হয়। মনে প্রশান্তি আসে। পরোপকারী এবং উপকত ব্যক্তির মধ্যে প্রীতির বন্ধন স্থাপিত হয়। তাই ব্যক্তিজীবন ও সমাজের ক্ষেত্রে পরোপকার বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।
মাদক হলো এমন কিছু জিনিস যা নেশার সৃষ্টি করে। মাদক সেবন একটি অনৈতিক কাজ। মাদক সেবন ব্যক্তির দেহের ক্ষতি করে, মনের ক্ষতি করে অর্থের ক্ষতি করে এবং পরিবার ও সমাজের অমঙ্গল ডেকে আনে।
মাদকদ্রব্য ক্রয়ের জন্য মাদক সেবীকে প্রতিদিন প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ অর্থ যোগাড় করতে মাদকসেবী মা-বাবা, আত্মীয় স্বজনের উপর চাপ প্রয়োগ করে। অনেকে অসদোপায় অবলম্বন করে মাদকের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। কাজেই মাদক সেবন এমন একটি অনৈতিক কাজ, যা আরও অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে।
মাদক সেবনে পরিবার ও সমাজের অমঙ্গল হয়। পরিবারে শান্তি থাকে না। মাদকসেবী কখন কি করে বসে তার জন্য পরিবারের সকল সদস্য উদ্বিগ্ন থাকে। সমাজেও এর প্রভাব পড়ে।
হিন্দুধর্মে মাদক সেবন বা নেশা করা মহাপাপ। মাদকসেবী মহাপাপী। মাদকসেবীর সাথে সম্পর্ক রাখাও মহাপাপ। সুতরাং মাদকাসক্তি থেকে আমরা বিরত থাকব।
Related Question
View Allধর্মের দশটি লক্ষণ রয়েছে।
ধর্মশিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা যে জ্ঞানলাভ করি তা জীবন ও সমাজে প্রয়োগ করি। এটি হচ্ছে ধর্মের নৈতিক শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করলাম এবং এর মধ্যে থেমে থাকলাম; এতে কোনো লাভনেই। যদি আমি জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর আছেন জেনে জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে শ্রদ্ধা করি এবং জীবের সেবা করি তাহলেই ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন সার্থক হবে। তাই বলা যায়, ধর্ম হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার একটি উপায়।
পূরবী দত্তের চরিত্রে উদারতার নৈতিক গুণটি ফুটে উঠেছে।
উদারতা হচ্ছে মহত্ত্ব বা সাধুতা। উদ্দীপকের পূরবী দত্ত সেরকম একজন নারী। তার স্বামী প্রবাসে চাকরি করেন। সেজন্য পূরবী সংসারে সকলের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেন। এটি তার উদারতারই বহিঃপ্রকাশ। উদার ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে উদারচরিতানাং তু বসুধৈব কুটুম্বকম অর্থাৎ উদার চরিত্রের ব্যক্তিদের কাছে পৃথিবীর সকলেই ইষ্টিকুটুম (আত্মীয়)।
নৈতিক মূল্যবোধ একজন ব্যক্তিকে ধার্মিকে পরিণত করে। এজন্য উদ্দীপকের পূরবী দত্তকে ধার্মিক বলতে পারি।
পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা আনয়নের ক্ষেত্রে উদারতার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যারা উদার তারা সকলের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উদারতা ব্যক্তির চরিত্রকে উন্নত করে। সে নিজেকে কখনও বঞ্চিত বোধ করেন না। পাওয়াতে নয় দেওয়াতেই তার আনন্দ। ব্যক্তি স্বার্থচিন্তা মানুষের মনকে সংকীর্ণ করে তোলে। তখন মানুষ পরিবারস্থ ও সমাজের অন্যান্যদের স্বার্থের কথা, সুখের কথা এবং সমাজের কথা ভুলে যায়। এতে সমাজেরও উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। আমরা আমাদের আচরণে উদারতার পরিচয় দেব। অপরের সুখে সুখী হব, অপরের দুঃখে দুঃখী হব। এতে পরিবার ও সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সমাজেরও মঙ্গল হবে।
'?' চিহ্নিত স্থানে আমরা লিখতে পারি নৈতিক গুণাবলি।
নিজের বিপদ জেনেও কল্যাণকর কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে প্রবৃত্তি তার নাম 'সৎসাহস'। সৎসাহস মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং নির্ভিকতার মুখে প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখায়। সবল যখন দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তখন সৎসাহসী দুর্বলের পক্ষে দাঁড়ান। সৎসাহস তাই ধর্মের অঙ্গ এবং একটি নৈতিক গুণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!