রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে পুরাণ অন্যতম। পুরাণ শব্দের অর্থ হলো পুরাতন বা প্রাচীন। তবে এখানে পুরাণ হলো বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক শ্রেণীর ধর্মগ্রন্থ। পুরাণে সৃষ্টি ও দেবতাদের উপাখ্যান, ঋষি ও রাজাদের বংশ, পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিচিতি, তীর্থমাহাত্ম্য, দান, ব্রত, তপস্যা, আয়ুর্বেদ প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বেদভিত্তিক হিন্দুধর্ম ও সমাজের নানা কথা বলা হয়েছে। গল্প বলার ছলে পুরাণ রচিত। মানুষ গল্প শুনতে ভালোবাসে। পুরাণের গল্পের উদ্দেশ্য হলো ধর্মজীবন ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। মানুষকে কল্যাণকর সুন্দর জীবন সম্পর্কে গল্পের মাধ্যমে উপদেশ ও নীতি শিক্ষা প্রদান পুরাণের মূল বিষয়বস্তু। 'জীবজগতের সৃষ্টি গল্পের আকারে পুরাণে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া বর্ণাশ্রম ধর্ম, আচার অনুষ্ঠান, শ্রাদ্ধ, দান, পূজা-ব্রত ও তীর্থস্থানের বর্ণনাসহ অনেক বিষয় পুরাণে রয়েছে। পুরাণের মধ্যে সেকালের ধর্ম ও জীবনের প্রতি প্রতিফলন ঘটেছে। তাই পুরাণ পাঠ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
8 months ago
উত্তরঃ

পুরাণ হলো বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক শ্রেণির ধর্মগ্রন্থ। পুরাণে সৃষ্টি ও দেবতাদের উপাখ্যান, ঋষি ও রাজাদের বংশ, পৃথিবীর ভৌগোলিক পরিচিতি, তীর্থমাহাত্ম্য, দান, ব্রত, তপস্যা, আয়ুবেদ প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বেদভিত্তিক হিন্দুধর্মে সমাজের নানা কথা বলা হয়েছে।

মর্হষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব পুরাণসমূহের রচয়িতা। পুরাণে যে গল্প শুনানো হয়েছে সে গল্পের উদ্দেশ্য হলো ধর্মজীবন ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। মানুষকে কল্যাণকর সুন্দর জীবন সম্পর্কে গল্পের মাধ্যমে উপদেশ ও নীতিশিক্ষা প্রদান পুরাণে রয়েছে। পুরাণের সংখ্যা অনেক। তবে প্রধান প্রধান পুরাণের সংখ্যা আঠার। পুরাণের মধ্যে তিনজন দেবতার মাহাত্ম্য বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়েছে। জীবজগতের সৃষ্টি গল্পের আকারে পুরাণে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া আশ্রমধর্ম, আচার অনুষ্ঠান, শ্রাদ্ধ, দান, পূজা, ব্রত ও তীর্থস্থানের বর্ণনাসহ অনেক বিষয় পুরাণে রয়েছে। পুরাণের মধ্যে কত গল্প, কত উপন্যাস, কত উপদেশ, জীবনের উত্থান পতনের কথা রয়েছে তা বলে শেষ করা যায় না।

সুতরাং পুরাণ বলতে একটি মাত্র গ্রন্থকে বোঝায় না। পুরাণ বহুগ্রন্থের সমষ্টি। তাই পুরাণকে শুধু গ্রন্থ না বলে গ্রন্থাবলি বলা উচিত। হিন্দুধর্মের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে পুরাণ অন্যতম।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
8 months ago
উত্তরঃ

শ্রীশ্রীচণ্ডী পাঠ থেকে আমরা শিক্ষা পাই। দেবীদুর্গা অন্যায়কে দমন করেন। শ্রীশ্রীচণ্ডী আমাদের শক্তি ও সাহস জোগায়। চণ্ডী হলো স্বর্গহারা দেবতাদের ঐক্যের সম্মিলিত তেজ বা শক্তি। এখানে একতাই শান্তি এর প্রমাণ মেলে। এছাড়া হিন্দুধর্মে নারীকে বিশেষভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই চণ্ডী নারী শক্তির প্রতীক। তিনি মায়ের মতো করুণাময়ী।

শ্রীশ্রীচণ্ডীর বন্দনার মাধ্যমে শত্রুর কবল থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। সকল প্রকার দুর্গতিনাশিনি বলেই তিনি শ্রীদুর্গা। এ বোধ থেকে দেবীকে আমরা প্রণামমন্ত্রে বলি-

"সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে ।"

সরলার্থ: তুমি সকল প্রকার কল্যাণদায়িনী। তুমি মঙ্গলময়ী, তুমি সর্বপ্রকার অভীষ্টপূরণকারিণী। তুমি জগতের শরণভূতা, তুমি ত্রিনয়ণা, তুমি গৌরি, তুমি নারায়ণী। হে দেবী, তোমাকে প্রণাম করি।

সুতরাং শ্রীশ্রীচণ্ডীর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা অসহায়ের পাশে দাঁড়াব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে আদর্শ মূল্যবোধ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলব। এভাবেই শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষা সমাজের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
8 months ago
উত্তরঃ

শ্রীশ্রীচণ্ডী মার্কণ্ডেয় পুরাণের একটি অংশ। মার্কণ্ডেয় পুরাণের ৮৩ থেকে ৯৫ পর্যন্ত ১৩টি অধ্যায়ের নাম চণ্ডী। চণ্ডীতে সাতশ মন্ত্র আছে। শ্রীশ্রীচণ্ডী মার্কণ্ডেয় পুরাণের অংশ হয়েও বিষয়বস্তু ও রচনার গুণে আলাদা গ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে। দুর্গাপূজা ও বাসন্তী পূজায় বিশেষভাবে চণ্ডীপাঠ করা হয়। চণ্ডী একটি নিত্যপাঠ্য গ্রন্থ। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্যের কাহিনী, দেবী মহামায়ায় কাহিনী, দেবী অম্বিকা ও দেবী কালিকার উদ্ভব ও মহিমা বর্ণিত হয়েছে। শ্রীশ্রীচণ্ডী অর্থাৎ দেবীদুর্গা মাতৃশক্তিরূপে অধিষ্ঠিত। এজন্য সকল প্রকার দুঃখ দুর্গতির অবসানকল্পে তার আরাধনা করা হয়।

শ্রীশ্রীচণ্ডীর বন্দনার মাধ্যমে শত্রুর কবল থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। তাই আমরা দেবীর আদর্শ অনুসরণ করব। আমরা শরণাগতকে রক্ষা করব, অসহায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, আদর্শ মূল্যবোধ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
8 months ago
46

ধর্মগ্রন্থে ধর্মের কথা থাকে, মানুষের কল্যাণের কথা থাকে। ঈশ্বরের মাহাত্ম্য, দেব-দেবীর উপাখ্যান, সমাজ ও জীবন সম্পর্কে নানা উপদেশমূলক কাহিনী প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের বিষয়বস্তু। ধর্মগ্রন্থ পাঠ করলে আমাদের কল্যাণ হয়। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীশ্রীচণ্ডী প্রভৃতি আমাদের ধর্মগ্রন্থ। বেদ আমাদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এ অধ্যায় থেকে আমরা সংক্ষেপে পুরাণ ও শ্রীশ্রীচণ্ডী সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • পুরাণের অর্থ ও ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • পুরাণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করতে পারব
  • মার্কণ্ডেয় পুরাণের অংশ হিসেবে শ্রীশ্রীচণ্ডীর পরিচয় বর্ণনা করতে পারব
  • শ্রীশ্রীচণ্ডীর একটি কাহিনি বর্ণনা করতে ও তার শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ধর্মাচরণে ও নৈতিকতাবোধে পুরাণের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
  • পুরাণে বিধৃত শিক্ষার মাধ্যমে সৎ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ হব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

শ্রীশ্রীচণ্ডী স্বতন্ত্রভাবে রচিত হয় নি। এটি হচ্ছে মার্কন্ডেয় পুরাণের একটি অংশ। মার্কন্ডেয় পুরাণের ৮৩ থেকে ৯৫ পর্যন্ত ১৩টি অধ্যায়ের নাম চণ্ডী। এ কারণে শ্রীশ্রীচণ্ডী পুরাণের অন্তর্গত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
125
উত্তরঃ

অনেককাল আগে দেবতাদের রাজা ইন্দ্র ও অসুরদের রাজা মহিষাসুরের মধ্যে স্বর্গরাজ্য দখলকে কেন্দ্র করে এক ভয়ানক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে দেবতারা অসুরদের সাথে হেরে যান। যুদ্ধে হেরে গিয়ে দেবতারা আর স্বর্গে বসবাস করতে পারলেন না। তারা বিতাড়িত হলেন স্বর্গরাজ্য থেকে। রাজা মহিষাসুর স্বর্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করে যাবতীয় সন্ত্রাসী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
উদ্দীপকের আলোচনায় আমরা জানতে পারি, সঞ্জয় একজন দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সবার সাথে সে দুর্ব্যবহার করে। স্বার্থে আঘাত লাগলে সে মারধর পর্যন্ত করে। কিন্তু মহিষাসুর ছিল দৈত্যদের রাজা এবং তার সাথে যুদ্ধ বাধে দেবতাদের। পক্ষান্তরে, সঞ্জয় একজন মর্ত্যের মানুষ এরং সে ঝগড়া করে মানুষের সাথে। এক্ষেত্রে একজন হচ্ছে মর্ত্যবাসী অন্যজন স্বর্গবাসী। তাই উভয়ের মধ্যে মিল থাকলেও যথেষ্ট পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
142
উত্তরঃ

শ্রীশ্রীচণ্ডীর শিক্ষা দেবজিৎ-এর চরিত্রে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে। কথাটি আংশিক মিল রয়েছে।
পৃথিবীতে দুষ্ট বা অসৎ মানুষ একসময় ধ্বংস হবেই আর সাধু ও সৎ মানুষ টিকে থাকবে নিজের সততার মধ্য দিয়ে। যেমনটি দেখা যায় শ্রীশ্রীচণ্ডী উপাখ্যানে। এখানে দেবীদুর্গার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। দেবীদুর্গা অসুরদের দমন করে স্বর্গরাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকের দেবজিৎ অমায়িক, দয়ালু ও পরোপকারী। সে সমাজসেবামূলক কাজ করতে ভালোবাসে। সে তার বাবার অনৈতিক কাজ সমর্থন করে না। এসব গুণাবলি দেবীদুর্গার চরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু দেবীদুর্গা হলেন দেবতা। তাঁর রয়েছে ঐশ্বরিক শক্তি। পক্ষান্তরে, দেবজিৎ হচ্ছে একজন মানুষ। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শ্রীশ্রীচন্ডীর শিক্ষা দেবজিতের চরিত্রে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
80
উত্তরঃ

অসুররা দেবতাদের যখন স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত করে তখন তাঁরা এ কাহিনী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের কাছে বর্ণনা করেন। দেবতারা এ কাহিনী শুনে ভীষণ রেগে যান। তাদের তেজরাশি একত্রিত হয়ে আলোকপুঞ্জে পরিণত হয়। এ আলোকপুঞ্জ থেকেই আবির্ভূত হন দেবীদুর্গা।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
111
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews