রেখা একটি অন্যতম শিল্প উপাদান। কোনো গতিশীল বিন্দুকে রেখা বলা হয়। আঁকাবাঁকা রেখা দিয়ে কোনো নকশাতে নতুনত্ব সৃষ্টি করা সম্ভব। লম্বা রেখা আপাত দৃষ্টিতে উচ্চতাকে বাড়িয়ে দেয়। আড়াআড়ি রেখার ফলে কোন জায়গা প্রশস্ত বা মোটা মনে হয়। কৌণিক রেখার মাধ্যমে কোনো নকশার অতিরিক্ত সৌন্দর্য ও নতুনত্ব ফুটে উঠে। জিগজ্যাগ রেখা অন্যান্য রেখার চেয়ে বেশি গতিশীল ও বৈচিত্র্য আনতে পারে।
কক্ষসজ্জার অন্যতম একটি উপকরণ হলো দেয়ালচিত্র। দেয়ালের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দেয়ালে নানা ধরনের পেইন্টিং এবং ছবি ঝোলানো হয়। দেয়ালে ঝোলানো এই পেইন্টিংকে দেয়ালচিত্র বলা হয়। ছবির আকৃতির সাথে দেয়ালের আকৃতির সামঞ্জস্য থাকতে হবে। একের অধিক ছবি দিয়েও বড় দেয়াল সাজানো যায়। ঘরের সব ছবি একই উচ্চতায় টাঙাতে হবে, ঘরের কর্মকাণ্ডের সাথে মিল রেখে ছবির বিষয়বস্তু হবে। দেয়ালে ছবি এমনভাবে টাঙাতে হবে যাতে কোনো তার, দড়ি, সুতা দৃষ্টিগোচর না হয়। ছবি দেখার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ইকেবানা পদ্ধতিতে ফুলদানিতে তিনটি প্রধান ডাল থাকে। প্রাচ্যরীতি এবং পাশ্চাত্যরীতি অনুসরণ করে ফুল সাজানো হয়। প্রাচ্য রীতিতে ফুল সাজানো বলতে জাপানি পদ্ধতি অনুসরণ করাকে বোঝায়। জাপানিরা ফুল সাজানোতে খুব দক্ষ। তাদের ফুল সাজাবার পদ্ধতিকে ইকেবানা বলা হয়। ইকে অর্থ তাজা, বানা অর্থ ফুলকে বোঝায়। এই পদ্ধতিতে অল্পসংখ্যক ফুলের দরকার হয়। পাশ্চাত্য পদ্ধতি ফুল সাজানোতে অনেক ফুল ব্যবহার করা হয়।
ফুল সাজানোর সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। যেমন-ফুলদানির আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ফুল, ডাল, পাতার উচ্চতা সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। ঘরের আসবাব, পর্দা, কার্পোটের সাথে ফুলের রং যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কখনই তাজা ফুলের মধ্যে কৃত্রিম ফুল মেশানো উচিত না। পিন হোল্ডারটি যেন পানিতে ডুবে থাকে। শুকনা, পোকা খাওয়া পাতা, কোঁকড়ানো পাতা ও ফুল ফেলে দিতে হয়।
ঘরের দেয়াল, মেঝে, ছাদ ও আসবাবপত্রের রঙের সাথে মিল রেখে পর্দার রং নির্বাচন করব। যদি ঘর ছোট হয় তাহলে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করব তাহলে ঘরকে বড় দেখাবে। বিশ্রাম ঘরে হালকা রঙের পর্দা দিয়ে তাহলে ঠান্ডা পরিবেশ সৃষ্টি করবে। বড় ঘরের জন্য বড় ছাপা। চেক, আড়াআড়ি রেখার পর্দা ব্যবহার করব। ছোট ঘরে ছোট ছাপা, লম্বা রেখার পর্দা ব্যবহার করব। শীতকালের জন্য ভারী জমিনের পর্দা রাখব। বসার ঘরে সজ্জামূলক পর্দা ব্যবহার করব।
গৃহকে মনোরম ও আকর্ষণীয় করার কাজটি শিল্পের একটি ক্ষেত্র। শিল্প হচ্ছে যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টা বা অনুভূতি যা মানুষকে আনন্দ দেয়। এই প্রচেষ্টা কোনো কিছু সৃষ্টির মধ্য দিয়ে হতে পারে, আবার আচরণের মধ্যে দিয়েও হতে পারে। মানুষের কল্যাণের জন্য সুন্দর উদ্দেশ্য নিয়ে শিল্পের সৃষ্টি হয়। গৃহকে সাজানোর কাজটি যখন এসব উদ্দেশ্য পূরণ করে তখন সেটা শিল্পের মর্যাদা পায়। এখন প্রশ্ন হলো, গৃহকে আমরা আকর্ষণীয় করব কীভাবে? এর জন্য গৃহ পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি প্রয়োজন উপযুক্তভাবে গৃহকে সাজানো। এটি অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জা (Interior Decoration) নামে পরিচিত। গৃহকে মনোরম ও আকর্ষনীয় করে তুলতে হলে, যে বিষয়গুলো শেখা দরকার তা এই অধ্যায়ে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হলো-
Related Question
View Allগৃহের ভেতরের পরিবেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানোকে, অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জা বলে।
গৃহ ও গৃহের আশেপাশে যা আছে সব নিয়েই গৃহ পরিবেশ গঠিত। পরিবারের সুখ-শান্তি, স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য নির্ভর করে সুষ্ঠু গৃহ পরিবেশের ওপর।
সালেহা গৃহসজ্জায় পর্দার রঙকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
পর্দা ঘরের আব্রু রক্ষা এবং রোদ ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে। দেয়াল, মেঝে, ছাদ ও আসবাবপত্রের রঙের সাথে মিল রেখে পর্দার রং নির্বাচন করতে হয়। সালেহার বসার ঘরটি ছোট। তিনি তার বসার ঘরে আকাশি রঙের পর্দা ব্যবহার করেন। তিনি তার বসার ঘরটিকে আপাতদৃষ্টিতে বড় দেখানোর জন্য হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করেছেন। ঘরকে বড় দেখানো ছাড়াও হালকা রঙের পর্দা ঘরগুলোতে ঠান্ডা, শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই বলা যায়, সালেহা বেগম গৃহসজ্জায় রঙকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
গৃহসজ্জায় হালিমা পারদর্শী নন।
সালেহা ও হালিমা একই আয়তনের ফ্ল্যাটে থাকেন। প্রতিবেশী মারিয়া সালেহার বাসা থেকে হালিমার বাসায় গিয়ে মন্তব্য করেন হালিমার বসার ঘরটি ছোট। হালিমা বসার ঘরে লাল রঙের ফুলের ছাপার পর্দা ব্যবহার করেন। লাল একটি উষ্ণ রং। এ রঙের পর্দা ব্যবহারের কারণে ঘরের আকৃতি ছোট মনে হয় আর ছাপার পর্দাও আপাতদৃষ্টিতে ঘরের আকৃতিকে ছোট করে তোলে। এছাড়া তিনি দরজার পাশে বড় আকারের একটি টব রেখেছেন। এতে কেউ দরজা খুলে ঘরে ঢোকার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি টবটি দরজার কাছে না রেখে ঘরের অন্য কোথাও স্থাপন করলে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হতো না। সঠিকভাবে সমন্বয় ও গৃহসজ্জার শিল্প উপাদানের প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি তার বসার ঘরটি আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারতেন। এ থেকে বোঝা যায়, গৃহসজ্জায় হালিমা পুরোপুরি পারদর্শী নন।
সুন্দর, সহজ ও আকর্ষণীয় সব কিছুই হলো শিল্প।
সংমিশ্রিত রং বলতে বোঝায় সমপরিমাণ একটি প্রাথমিক রং ও একটি মাধ্যমিক রঙের সংমিশ্রণ। যেমন: লাল + কমলা = লালচে কমলা, হলুদ + সবুজ = হলদে সবুজ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!