নিচে মেহগনির চাষ পদ্ধতির বর্ণনা দেওয়া হলো: প্রজাতি নির্বাচন: সুইটেনিয়া মাইক্রোফাইলা নামক প্রজাতি আমাদের দেশের জন্য ভালো।
বীজ সংগ্রহ ও রোপণ: মেহগনি গাছের জন্য প্রধানত বীজ থেকে উৎপাদিত চারা রোপণ করা হয়। তবে স্টাম্পও রোপণ করা যায়। দুই ভাগ দোআঁশ মাটি ও একভাগ জৈব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে পলিব্যাগে বীজ বপন করতে হবে। প্রতি পলিব্যাগে দুটি বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের পর হালকা সেচ দিতে হবে। ছোট অবস্থায় চারায় দুপুর রোদের সময় ছায়া ঢাকনা দিতে হবে। বীজের অঙ্কুরোদগমে ২০-৩০ দিন লাগে। চারার রোপণ দূরত্ব ৯-১০ মিটার হলে ভালো হয়।
মাটি তৈরি: চারা রোপণের পূর্বে নির্বাচিত যায়গা আবর্জনামুক্ত ও সমান করে নিতে হবে। চারার আকার অনুসারে গর্তের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা ৬০-৮০ সেমি হওয়া দরকার। গর্ত করার পর গর্তের মাটিতে সার মিশাতে হবে। সার মিশানো মাটি ও গর্ত ১৫ দিন রোদে শুকাতে হবে। মাটি পুনরায় কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে চারা রোপণ করতে হবে।
মাটি তৈরির সময় সার প্রয়োগের নিয়মাবলি: জৈব সার ১০-১৫ কেজি । ছাই ১-২ কেজি, ইউরিয়া ২০০-৩০০ গ্রাম। টিএসপি ১০০-৫০০ গ্রাম। এমপি ৫০-১০০ গ্রাম।
অন্যান্য পরিচর্যা: খরার সময় পানি সেচ দিতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। চারা অবস্থায় মূল গাছের পার্শ্বকুড়ি অপসারণ করতে হবে। চারায় খুঁটি ও বেড়া দিতে হবে। সেচের পর গাছের গোড়ায় মালচিং বা জাবড়া দিতে হবে। গাছ বড় হওয়ার পর ডাল ছাঁটাই করে কাঠামো তৈরি করতে হবে।
নিচে কাঁঠাল গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো :
কাঁঠাল গাছ একটি বহুবিধ ব্যবহার উপযোগী উদ্ভিদ। পাকা কাঁঠালের রসালো কোয়া খুবই মিষ্টি। শর্করা ও ভিটামিনের অভাব মেটাতে পাকা কাঁঠালের জুড়ি মেলা ভার। কাঁচা কাঁঠাল এবং কাঁঠাল বীজ সবজি হিসাবে ব্যবহার হয়। কাঁঠাল কাঠ খুবই উন্নত মানের। এর রং গাঢ় হলুদ। এর কাঠ খুবই টেকসই এবং ভালো পলিশ নেয়। বাঁশগৃহের জানালা ও দরজা তৈরিতে এ কাঠ ব্যবহৃত হয়। ঘরের সব রকম আসবাবপত্র তৈরিতে কাঁঠাল কাঠ ব্যবহার করা যায়। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কাঁঠাল কাঠ এবং পুষ্টির জন্য এর ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁঠাল পাতা দুর্যোগকালীন সময়ে গরু ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
বাঁশকে বলা হয় গরিবের কাঠ। গৃহ নির্মাণ থেকে শুরু করে গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক ব্যবহার্য প্রায় সকল ক্ষেত্রে বাঁশের ব্যবহার রয়েছে। বাঁশ গ্রামীণ কুটির শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। নিচে বাঁশের নানাবিধ ব্যবহার বর্ণনা করা হলো-
১. নির্মাণ কাজে বাঁশ: গ্রামীণ স্বল্প আয়ের মানুষেরা বাড়ি-ঘর নির্মাণে বাঁশের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বরাক ও এ জাতীয় শক্ত বাঁশ গৃহ নির্মাণে বেশি ব্যবহার হয়।
২. আসবাব তৈরিতে বাঁশ: প্রধানত মুলী, মরাল ও তল্লা বাঁশ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি হয়। বুক সেলফ, সোফা, মোড়া, চেয়ার প্রভৃতি এসব বাঁশ দিয়ে তৈরি করা যায়।
৩. সজ্জিতকরণে বাঁশ: মরাল, তল্লা ও সূক্ষ্ম আঁশ সম্পন্ন বাঁশ দিয়ে সজ্জিতকরণ করা হয়। ঘর-বাড়ি ও অফিস সজ্জিত করণে এসব বাঁশের প্রচুর ব্যবহার হয়ে থাকে।
৪. যন্ত্রপাতি তৈরিতে বাঁশ শক্ত ধরনের বরাক বাঁশ দিয়ে যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। লাঙল, জোয়াল, কোদাল, মই, আঁচড়া প্রভৃতি বরাক বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়।
৫. যানবাহন তৈরি ও জ্বালানি হিসাবে বাঁশ: শক্ত ধরনের বরাক বাঁশ যানবাহন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। রিকসা, নৌকা, গরু ও ঘোড়ার গাড়ি তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার হয়ে থাকে। সব ধরনের বাঁশ, বাঁশ পাতা ও অন্যান্য অংশ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
নিচে গুটি কলম পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো- গুটি কলম খুবই জনপ্রিয় ও সহজ পদ্ধতি। লেবু, পেয়ারা, সফেদা, লিচু, রঙ্গন প্রভৃতি গাছে এ পদ্ধতিতে কলম করা হয়।

গুটি কলম তৈরির জন্য এক বছর বয়সের সতেজ'ডাল নির্বাচন করতে হবে। এবার তিন ভাগ দোআঁশ মাটির সাথে একভাগ পচা গোবর সার মিশিয়ে পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। চিত্রের মত করে ধারাল ছুরি দিয়ে নির্বাচিত কাণ্ডের অগ্রভাগ থেকে অন্তত ৬০ সে.মি. নিচের ৫ সে.মি. গোল করে ছাড়িয়ে নিতে হবে। ছালমুক্ত অংশ প্রথমে চট দিয়ে একটু ঘষে নিতে হবে। এবার ছালমুক্ত অংশে চিত্রের মতো করে পেস্ট পলিথিনে মুড়ে দুই মুখ সুতা দিয়ে বাঁধতে হবে। ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে ছাল তোলা অংশে সাদা শিকড় পলিথিনের বাইরে থেকে দেখা যাবে। শিকড় ভালো করে গজালে এবং বাদামি রঙের হলে ডালটিকে কেটে টবে লাগিয়ে কয়েকদিন ছায়ায় রাখতে হবে। মাঝে মাঝে টবের মাটিতে পানি দিতে হবে। রোদে রাখলে কয়েকদিন পর নতুন পাতা গজাবে।
কাঁঠালের চারা রোপণের একমাস আগে বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ মিটার দূরে দূরে (১ ১ ১) ঘন মি. আকারের গর্ত করতে হবে। গর্ত তৈরির সময় উপরের ও নিচের মাটি আলাদা রাখতে হবে। ১৫ দিন গর্ত ও গর্তের মাটি রোদে শুকাতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সাথে সার মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। পরে নিচের মাটি গর্তে স্থাপন করতে হবে। সারের পরিমাণ হবে- পচা গোবর ২০ কেজি। হাড়ের গুঁড়া ৪০০ গ্রাম অথবা টিএসপি ১৫০ গ্রাম। ছাই ২ কেজি অথবা এপি ১৫০ গ্রাম। এভাবে জমি তৈরির পর চারা রোপণ করতে হবে।
বাঁশের কান্ডকে টুকরো টুকরো করে চারা তৈরির পদ্ধতিকে গিঁট কলম পদ্ধতি বলা হয়। এ কলম করার জন্য ১-৩ বছরের সবল বাঁশ নির্বাচন করতে হবে। সদ্য কাটা বাঁশকে ১, ২, ৩ গিট লম্বা খন্ডে ভাগ করতে হবে।

চৈত্র-বৈশাখ মাসে খণ্ডগুলো অস্থায়ী বেডে লাগানোর উপর্যুক্ত সময়। বাঁশের টুকরোর গিটের কুঁড়ি সতেজ ও অক্ষত আছে কিনা তা লক্ষ রাখতে হবে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের দিকে অধিকাংশ গিঁট কলমে শিকড় গজাবে। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই শিকড়সহ গিট কলম বেড থেকে উঠিয়ে নিয়ে মাঠে লাগাতে হবে।
নিচে মোথা দ্বারা বাঁশ চাষ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
বাঁশ চাষের জন্য ১-৩ বছর বয়সী মোথা বা অফসেট সংগ্রহ করতে হয়। বাঁশের গোড়ার দিকে ৩-৪টি গিটসহ মাটির নিচের মোথাকে অফসেট বলে। অফসেটের জন্য নির্বাচিত বাঁশ অবশ্যই সতেজ হতে হবে। চৈত্র মাস অফসেট সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। বর্ষা শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংগৃহীত অফসেট অস্থায়ী নার্সারিতে বালির বেডে লাগোনো আবশ্যক। ১৫-২৫ দিনের মধ্যে অধিকাংশ অফসেট থেকে নতুন পাতা ও কুঁড়ি গজায়। এ অফসেট আষাঢ় মাসে তিনভাগ মাটি ও একভাগ গোবর দিয়ে তৈরি গর্তে লাগাতে হয়।
আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গাছ হলো নিম। এ গাছের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। নিম পাতার নির্যাস শস্যের কীটনাশক হিসেবে বহুল প্রচলিত, যা গ্রামীণ কৃষিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
চর্মরোগ নিরাময়ে নিম পাতার রস ও নিমের তৈল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম পাতার রস কৃমির উপদ্রব কমায়। নিমের শুকনা পাতা কাপড়ের ও চালের পোকা দমনে ব্যবহৃত হয়। নিমের ডাল ভালো দাঁতের মাজন হিসেবে ব্যবহার হয়। নিমের ছালের রস দাঁতের মাড়ি শক্ত করে। অন্যদিকে নিমের খৈল জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। নিম গাছের ছাল বাতজ্বর, দাদ, বিখাউজ, একজিমা, দাঁতে রক্ত, পুঁজপড়া, পায়রিয়া ও জন্ডিস নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। বাড়িতে দক্ষিণ দিকে এক-দুটি নিম গাছ থাকলে তা বাতাসকেও জীবাণুমুক্ত রাখতে পারে। তাই বলা যায় গ্রামীণ জনস্বাস্থ্যে ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নিম গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
বন রক্ষার উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. বনদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে।
২. জনগণকে বনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।
৩. সামাজিক বন সৃষ্টিতে সবাইকে অংশ নিতে হবে।
৪. বনের পশু-পাখি ধ্বংস করা যাবে না।
৫. স্বাভাবিক নিয়মে বন সৃস্টিতে বাধা দেওয়া যাবে না।
৬. বন সংরক্ষণ আইন জানব এবং সবাইকে তা মেনে চলার পরামর্শ দিতে হবে।
৭. জনগণকে বন সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।
Related Question
View Allমেহগনি গাছের একটি প্রজাতি হলো Swietenia macrophylla
গরিবের কুটির থেকে শুরু করে বড় বড় অট্টালিকা তৈরিতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। গ্রামীণ কুটির শিল্পে, কৃষি উপকরণ এবং কাগজ ও রেয়ন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বাঁশ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও খাল পারাপারের সাঁকো তৈরিতেও বাঁশ ব্যবহার করা হয়। এসব কারণে বাঁশকে নির্মাণ সামগ্রী বলা হয়।
সাজিদের দাদার বাগানের বিশেষ গুণসম্পন্ন ফলটির নাম কাঁঠাল।
কাঁঠাল একটি বহুবিধ ব্যবহার উপযোগী উদ্ভিদ। পাকা কাঁঠালের কোয়া খুবই মিষ্টি। এতে রয়েছে শর্করা ও ভিটামিন। এছাড়াও কাঁঠালে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা হাঁড় ও দাঁতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাঁচা কাঁঠাল এবং কাঁঠালের বীজ সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। কাঁঠাল কাঠ খুবই উন্নত মানের, টেকসই ও ভালো পলিশ নেয়। তাই বাসগৃহের জানালা, দরজা ও আসবাব তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক এবং পুষ্টিগত দিক দিয়ে এ ফলটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব বলা যায় যে, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের কারণে ফলটি বিশেষ গুণসম্পন্ন।
গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে সাজিদের ব্যবহৃত গাছটি হলো নিম।
নিম গাছের ব্যবহার অনেকভাবে হয়ে থাকে। চর্মরোগে এর পাতার রস ও তেল ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতার রস কৃমির উপদ্রব কমায়। নিমের ডাল দাঁতের মাজন, নিমের খৈল জীবাণুনাশক এবং নিম গাছের বাকল বাতজ্বর, দাদ, বিখাউজ, একজিমা, দাঁতের রক্ত ও পুঁজ পড়া, ডায়রিয়া, জণ্ডিস ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের বাকলের রস দাঁতের মাড়ি শক্ত করে। এছাড়া নিম পাতার নির্যাস শস্যের কীটনাশক হিসেবে ভালো কাজ করে, যা গ্রামীণ কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে নিম গাছ - অত্যন্ত উপযোগী।
শীতকালে যে সকল উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় তাদের পত্রঝরা উদ্ভিদ (যেমন- মেহগনি) বলে।
কাঁঠাল গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। পানি জমে থাকে এমন জায়গায় কাঁঠাল গাছ রোপণ করলে তা মারা যায়। তাই বন্যামুক্ত উঁচু স্থানে কাঁঠাল গাছ রোপণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
