হিন্দুধর্মের অনুসারীরা ঈশ্বরে গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয় ঈশ্বর নিরাকার। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। নিরাকার ঈশ্বরকে ব্রহ্ম বলা হয়। যখন তিনি প্রভুত্ব করেন তখন তিনি ঈশ্বর। জীবকে যখন কৃপা করেন, তখন তাকে ভগবান বলা হয়।
হিন্দুধর্মের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, নিরাকার ঈশ্বর প্রয়োজনে সাকার রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে নেমে আসতে পারেন। ঈশ্বর এভাবে নেমে আসলে তাকে অবতার বলে। আবার ঈশ্বরের কোনো গুণ বা শক্তি আকার ধারণ করলে তার নাম হয় দেব-দেবী।
আমরা জানি, জীবের মধ্যে আত্মারূপে ঈশ্বর অবস্থান করেন। জীব ঈশ্বরের অংশ। তাই জীবমাত্রই শ্রদ্ধেয় এবং তার সেবা করতে হয়। কারণ জীবসেবা ঈশ্বরেরই সেবা করা। সুতরাং হিন্দুধর্মের নৈতিক শিক্ষার মুলভিত্তি হলো ঈশ্বর। আর হিন্দুধর্ম অনুসারে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর, অবতার, দেব-দেবী এবং জীব সব মিলিয়ে এক ঈশ্বর।
পৃথিবীর যেকোনো ধর্ম কতকগুলো ধর্মবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এ ধর্মবিশ্বাসগুলোই তার ভিত্তি। হিন্দুধর্মের দুটি প্রধান ভিত্তি হলো কর্মবাদ এবং জন্মান্তরবাদ।
জীবের জীবিকা অর্জনের জন্য ঈশ্বর কর্ম সৃষ্টি করেছেন। আমরা যা কিছু করি, সে সবই কর্ম। ঘর বাড়ি তৈরি করা, ফসল উৎপাদন করা, ব্যবসা বাণিজ্য করা, লেখাপড়া করা, পূজা-অর্চনা, ধ্যান-ধারণা সবই কর্মের মধ্যে পড়ে। প্রত্যেক কর্মেরই শুভ অশুভ ফল, উৎপন্ন হয়। সেটি কর্মকর্তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হয়। ভোগ ছাড়া কোনো কর্মফল নষ্ট হয় না। কর্মফল ভোগের জন্য প্রয়োজনে পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হয়। এটাই কর্মবাদ।
চলতি জন্মে কর্মফলের ভোগ যদি শেষ না হয়, তাহলে কৃতকর্মের ফল ভোগের জন্যই মানুষের পুনঃপুনঃ জন্ম হয়। আর জন্মের পর মৃত্যু, মৃত্যুর পর পুর্নজন্মকে জন্মান্তরবাদ বলে। এই কর্মবাদ এবং জন্মান্তরবাদ হিন্দুধর্মের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।
হিন্দুধর্ম অনুসারে কর্মাচরণের মূল লক্ষ্য হলো, "আত্মমোক্ষায় জগদ্ধিতায় 'চ।” অর্থাৎ ধর্মাচরণের মূল লক্ষ্য হলো নিজের মোক্ষলাভ এবং জগতের কল্যাণ।
হিন্দুধর্ম কেবল নিজের সুখের চিন্তা করার বিষয়টি মোটেই অনুমোদন করে না। কেবল নিজের মোক্ষলাভের বিষয়ে চিন্তা করলেই হবে না। নিজের মোক্ষলাভের পাশাপাশি জগতের কল্যাণ করতে হবে। জগতের কল্যাণ করতে না পারলে ধর্মাচরণ সম্পূর্ণ হবে না। ফলে মোক্ষলাভ হবে না। সুতরাং মোক্ষলাভের অন্যতম উপায় হলো জীব ও জগতের কল্যাণ করা।
সমাজে একজন নারীর তিনটি অবস্থান দেখা যায়- কন্যা, বধু ও মাতা। বধু হিসাবে স্বামীর সংসার দেখাশোনা, ছেলে মেয়ে লালন পালন, শিক্ষার ব্যবস্থা করা তার কাজ। এই কাজের মধ্য দিয়ে নারী তার সংসার ধর্ম পালন করে। একজন আদর্শ মায়ের হাতে আদর্শ সন্তান গড়ে উঠতে পারে। রোগে, শোকে, আনন্দে, উৎসবে মা হলেন সন্তানের শ্রেষ্ঠ আশ্রয়।
হিন্দুধর্মের অন্যতম ধর্মশাস্ত্র মনুসংহিতায় বলা হয়েছে "যে সংসারে নারীরা আনন্দে উৎসবে সুখে জীবনযাপন করে সে সংসার ঈশ্বরের কৃপায় শান্তি সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে।" মহাভারতের অনুশাসন পর্বে বলা হয়েছে "যে পরিবারে নারীর প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করা হয় সে পরিবারে দেবতারা আনন্দে বাস করেন।"
নারীর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ ধর্মের অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়। এছাড়া নারী তার কাজের মাধ্যমে সংসার ধর্ম এবং সন্তানদের শিক্ষা, চরিত্র গঠনে উৎসাহ দিয়ে থাকে। এমন মাতৃরূপী নারীর প্রতি সন্তানের কতর্ব্য হলো মাকে শ্রদ্ধা করা। উল্লেখিত দৃষ্টান্ত থেকে বলা যায়, মাতৃরূপই একজন নারীর সর্বশ্রেষ্ঠ অবস্থান।
Related Question
View Allমোক্ষ' কথাটির মানে হচ্ছে চিরমুক্তি লাভ।
কর্মবাদ ও জন্মান্তর হিন্দুধর্মের দুটি ভিত্তি।
চলতি জন্মে কর্মফলের ভোগ যদি শেষ না হয় তাহলে কৃতকর্মের ফল ভোগের জন্যই মানুষের পুনরায় জন্ম হয়। এটিই কর্মবাদ। আর জন্মের পর মৃত্যু, মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম এটি জন্মান্তর। তাই বলা হয়, জন্মান্তরের পেছনে রয়েছে কর্মবাদ।
ঈশ্বরের বিশ্বাস আত্মমুক্তি ও জগতের হিতসাধন এগুলো হচ্ছে হিন্দুধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকের অধীর বাবু তার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন সকলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সবার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। এসব বৈশিষ্ট্য হিন্দুধর্মে প্রতিফলিত হয়েছে। হিন্দুধর্ম পবিত্রভাবে জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে। সৎ, মহৎ, সহনশীল ও মনুষ্যত্ব অর্জন করতে শিক্ষা দেয়। এক প্রকৃত ধর্ম পালনকারীর মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান সেগুলোর সব বৈশিষ্ট্যই অধীর বাবুর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
হিন্দুধর্ম আমাদের মঙ্গল এবং জীবজগতের কল্যাণে নিবেদিত। এসব বৈশিষ্ট্য থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কেউ তার জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে ও সর্বদা মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করে পরম শান্তি লাভ করতে পারে।
যে পরিবারে নারীর প্রতি যথাযোগ্য সম্মান বা মর্যাদা প্রদর্শন করা হয়, দেবতারা সে পরিবারে আনন্দে বাস করে।
উদ্দীপকের অধীর বাবুর মা, বোন ও স্ত্রীর প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। যা পঠিত বইয়ে নারীর মর্যাদার কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বামী হিসেবে অধীর বাবু স্ত্রীকে যথেষ্ট ভালোবাসেন এবং তাকে যথেষ্ট মর্যাদা দেন। অপরদিকে মা ও বোনকে সে প্রাণাধিক ভালোবাসেন। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের প্রকৃতি বা শক্তি হচ্ছে নারী। এ শক্তিকে বলা হয় আদ্যা শক্তি বা মহামায়া। শক্তি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আর সেই শক্তির দেবী হচ্ছেন নারী। এভাবে নারী শক্তির প্রতি হিন্দুধর্মে যথেষ্ট মর্যাদা দান করা হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে অধীর বাবু তার মা, বোন ও স্ত্রীকে যথেষ্ট মর্যাদা দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের উচিত ধর্মগ্রন্থের অনুশাসন মেনে নারীর প্রতি সমতাপূর্ণ আচরণ করা। নারীর মধ্যেও আত্মারূপে - ঈশ্বর অবস্থান করেন, তাই নারীর প্রতি মর্যাদা প্রকাশ তো ঈশ্বরের - প্রতি মর্যাদা প্রকাশ করারই নামান্তর।
হিন্দুধর্মে ঈশ্বরকে নিরাকার বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হিন্দুধর্মেরও বিশেষ তত্ত্ব, কতকগুলো ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মকৃতা রয়েছে। যেগুলো হিন্দুধর্মের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। যেমন- ঈশ্বরতত্ত্ব, ঈশ্বরে বিশ্বাস ও ভক্তি, কর্মবাদ ও জন্মান্তর, অবতারবাদ, মোক্ষলাভ, জীব ও জগতের কল্যাণ ভাবনা ইত্যাদি। আর এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে হিন্দুধর্মের স্বরূপ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
