প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে বেত শিল্পের ব্যবহার দেখা যায়। বাংলাদেশের বেতের চমৎকার সব কারুশিল্প দেশে ও বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছে। আমাদের দেশের অনেক সৌখিন পরিবারে নামকরা হোটেলে, রেস্তোরায়, সরকারি বেসরকারি অফিস ও অতিথিশালায় বেতের তৈরি কারুশিল্পমণ্ডিত আসবাবপত্র সমাদর পাচ্ছে। বর্তমানে বেতের তৈরি বিভিন্ন সৌখিন দ্রব্যাদি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। পাশাপাশি হাজার হাজার পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি হচ্ছে।
চারুকলার প্রধান বিষয় হলো ছবি আঁকা। এছাড়া চারুকলা সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে আমরা প্রাচীন মানব সমাজের জীবনচিত্র সম্পর্কে জানতে পারি। বর্তমানে চারুশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আর তাই চারুশিল্পীরা হাতে তুলে নিয়েছেন শিল্পের নানা উপকরণ। বর্তমানে ছবি, আঁকার জন্য কাগজ, কাপড় বা ক্যানভাস, পোড়ামাটির ফলক, সিমেন্টের ফলক, দেয়াল এবং কাঠের পাটাতন ব্যবহার করে। এসব উপকরণে চিত্রশিল্পীগণ তাদের চিন্তায় আসা সকল চিত্র সুচারুরূপে অঙ্কন করেন।
প্রাচীনকালে বসবাসকারী মানুষের জীবন সম্পর্কে জানার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য বই বা গ্রন্থ নেই। তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা গুহার দেয়ালে আঁকা চিত্র বিশ্লেষণ করে তাদের জীবনযাপনের ইতিহাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়াও প্রাচীনকালে মানুষ পশুর হাড়, গাছের বাকল এবং পাতা ছবি আঁকার জন্য ব্যবহার করতো। এছাড়াও পশুর চামড়া হাড় এবং গাছের বাকলে মানুষ ছবি আঁকতো।
বর্তমানে আর আগের মতো গাছের পাতা বা বাকল ব্যবহার করা হয় না। এগুলোর স্থানে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন প্রকার রং এবং তুলি। এ রং এবং তুলি নিয়ে কাপড়ের ক্যানভাস, কাঠের পাটাতনে, বাড়ির দেয়ালে ছবি আঁকা হয়। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাগজ, ধাতব প্লেট, মাটির ফলকের উপর চিত্র আঁকছেন। বর্তমানে ছবি আঁকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো কাঁচ। কাঁচের উপর রং তুলি ব্যবহার করে অথবা পাথরের আচর কেটে ছবি আঁকা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রকার রং যখন পানিতে মিশিয়ে তৈরি করা হয় তখন তাকে জল রং বলে। সাধারণত মোটা কাগজ এবং কাপড়ের ক্যানভাসে এ রং বেশি ব্যবহার করা হয়। জল রং ব্যবহার সহজ এবং খুব সহজেই তৈরি করা যায়। বর্তমানে অধিকাংশ চিত্র শিল্পীই জল রং ব্যবহার করে থাকেন। কারণ এ রং তৈরি সহজ এবং খরচ কম। ফলে কম খরচে ছবি আঁকা সম্ভব।
চিত্রশিল্পীদের নিকট তেল রং অত্যন্ত পছন্দনীয় এবং সহজলভ্য। বিভিন্ন প্রকার রং এর সাথে তেল ও তারপিন মিশিয়ে যে রং তৈরি করা হয় তাকে তেল রং বলে। শিল্পিরা এ রং এর সাহায্যে কাপড়ের ক্যানভাস, কাঠের পাটাতনে এবং ঘরের দেয়াল চিত্র অঙ্কন করেন। বর্তমানে চিত্রশিল্পিদের নিকট তেল রং বেশ জনপ্রিয়। তেল রং এর আঁকা চিত্র অনেকদিন পর্যন্ত টিকে থাকে। আবহাওয়া বৈরি হলেও তেল রং এ আঁকা ছবি নষ্ট বা ধ্বংস হয় না।
আধুনিক যুগে মানুষের জানার আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। প্রাচীনকালের চারু ও কারুশিল্প সম্পর্কে জানতে গেলে আমাদের অবশ্যই জাতীয় যাদুঘরে যেতে হবে। সেখানে প্রাচীনকালের অনেক পোড়ামাটির ফলক এবং পাথরে খোদাই করা কারুশিল্পের সাথে পরিচয় ঘটে। অন্যদিকে আধুনিক যুগের চারু ও কারুশিল্প সম্পর্কে জানতে গেলে বিভিন্ন গ্যালারি ও শিল্পকলা একাডেমিতে যে প্রদর্শনীগুলো হয় সে প্রদর্শনী দেখতে হবে। এর মাধ্যমে চারুশিল্প সম্পর্কে ধারণা লাভ সম্ভব।
শীতল পাটি হলো এক প্রকার পাটি যা প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা অনুভূতি প্রদান করে। এটি মূলত মূর্তা নামে এক প্রকার বিশেষ গাছ থেকে সরু সরু নরম ফিতার মতো বের করে বেশ পরিশ্রম করে শীতল পাটি তৈরি করা হয়। এসব পার্টিতে নানা রকম জীবজন্তুর ঘর-বাড়ি, ফুল ও গাছের পাতা, পাটি বুননের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। তাই এ পাটি কারুশিল্প ও লোকশিল্পের একটি মিশ্রিত রূপ। বর্তমানে শীতল পাটির ব্যবহার চোখে না পড়লেও একসময় সারাবিশ্বেই এর কদর ছিল।
সাধারণত মানুষের তৈরি সোনা-রুপা নানা অলঙ্কার, নকশিকাথা, মাটির পুতুল, চিত্রিত কাঠের পুতুল যেমন- হাতি, ঘোড়া, মানুষ ইত্যাদি শিল্পকে লোক শিল্প বলে। এসব শিল্পের মাধ্যমে বাংলার প্রকৃত রূপ এবং গ্রাম বাংলার প্রকৃত ছবি ফুঠে উঠে। বাংলার এ লোকশিল্প আজ সারাবিশ্বে দারুণভাবে সমাদৃত এবং গৃহীত। এগুলো হলো বাংলার নিজস্ব লোক শিল্প যা বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে করেছে সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয়।

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-
- চারু ও কারুকলা কী তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ছবি আঁকার সূচনালগ্নের কথা বর্ণনা করতে পারব।
- কারুশিল্পের সূচনায় আদিম মানুষের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!