ক্যাঙ্গারু বললেই অস্ট্রেলিয়া এবং সিংহ বললেই আফ্রিকার কথা মনে পড়ে।
বিভিন্ন ধরনের বাঘ সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. রয়েল বেঙ্গল টাইগার: বাঘদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো
রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এর স্বভাব চরিত্র রাজার মতো। এ বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন। গায়ে ডোরাকাটা এ বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর।
২. চিতাবাঘ: সবচেয়ে দ্রুতগতির বাঘ হলো চিতাবাঘ। এছাড়া এই বাঘের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এরা গাছে উঠতে পারে, যা অন্যান্য বাঘ পারে না।
৩. ওলবাঘ: একসময় অন্যান্য বাঘের পাশাপাশি সুন্দরবনে ওলবাঘ নামের এক জাতীয় বাঘ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের বাঘ আর দেখা যায় না।
পশুপাখি ও জীবজন্তু যেকোনো দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নানা প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন: বন্যা, খরা, ঝড় ইত্যাদি থেকে রক্ষার পেছনে এসব প্রাণিকুলের অবদান রয়েছে। একটি দেশের পরিবেশ রক্ষায় কোনো কোনো প্রাণীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: শকুন মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর সব আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে। এছাড়া পশুপাখি ও জীবজন্তু পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের অনেক উপকার করে।
শকুন নানাভাবে মানুষের উপকার করে। শকুন আমাদের চারপাশের যাবতীয় আবর্জনা নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মানুষের পক্ষে যা কিছু ক্ষতিকর, সেইসব আবর্জনা খেয়ে শকুন আমাদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও বসবাসের উপযোগী রাখে। এভাবে নোংরা আবর্জনা খেয়ে শকুন মানুষের উপকার করে।
গাছপালার মতোই বন্য পশুপাখি জীবজন্তু স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। পৃথিবীতে কোনো প্রাণীই অপ্রয়োজনীয় নয়। কোনো না কোনোভাবে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে। যেমন: শকুন মানুষের পক্ষে যেসব ক্ষতিকর সেইসব আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে। পৃথিবীতে পশুপাখি, জীবজন্তু না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে দেখা দেবে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব কারণে পৃথিবীতে মানুষের জীবনধারণ হুমকির মধ্যে পড়বে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিশাল বন। এর নাম সুন্দরবন। এই বনে রয়েছে প্রচুর গাছপালা, তেমনি রয়েছে নানা প্রাণী ও জীবজন্তু। বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকে এই সুন্দরবনে ।
বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজকীয় বাঘের নাম হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বাঘ থাকে সুন্দরবনে। এ বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আবার ভয়ংকর। এর চালচলনও রাজার মতো। সুন্দরবনের ভেজা স্যাঁতসেঁতে গোলপাতার বনে এ বাঘ ঘুরে বেড়ায়।
সুন্দরবনের প্রাণীদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে আমার কয়েকটি পরামর্শ হলো-
১. অবাধে পশুপাখি ও জীবজন্তু শিকার বন্ধ করতে হবে।
২. সুন্দরবনের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
৩. প্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে হবে।
৪. জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সবচেয়ে দ্রুতগতির বাঘ হলো চিতাবাঘ। এই বাঘ গাছে উঠতে পারে, যা অন্যান্য বাঘ পারে না। বাঘের চেয়ে চিতাবাঘ আকারে ছোটো। আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চমৎকার এ বাঘটি দেখা যায়। একসময় চিতাবাঘের দেখা মিলত।
নাকের ওপর শিং থাকে গন্ডারের। কালো ও ধূসর রঙের চতুষ্পদ প্রাণী হলো গণ্ডার। এরা উচ্চতায় ও লম্বায় গরুর আকারের। গণ্ডার অত্যন্ত বদমেজাজি ও একগুঁয়ে স্বভাবের। তবে এরা তীক্ষ্ণ ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তির অধিকারী।
বাংলাদেশের রাঙামাটি আর বান্দরবানের জঙ্গলে হাতি দেখতে পাওয়া যায়। হাতি বৃহত্তম স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। হাতি দলবদ্ধ হয়ে বাস করে। হাতি বিশাল দেহের অধিকারী। হাতির শুঁড় অনেক লম্বা।
প্রতিটি দেশের জন্যই জীবজন্তু ও পশুপাখি অমূল্য সম্পদ। তবে সবদেশে সব রকম প্রাণী থাকে না। একসময় বাংলাদেশে গণ্ডার, চিতাবাঘ, ওলবাঘ, শকুন, বুনো শুয়োর প্রভৃতি দেখা গেলেও বর্তমানে এগুলো দেখা যায় না। প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে বলেই এসব প্রাণী আজ বিলুপ্ত। আবার অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশে ক্যাঙ্গারু থাকলেও বাংলাদেশে নেই।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পশুপাখি ও জীবজন্তুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পশুপাখি ও জীবজন্তু দেশের অমূল্য সম্পদ। দেশকে নানা প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষার পেছনে এসব প্রাণিকুলের অবদান রয়েছে। যেমন: মানুষের পক্ষে যা ক্ষতিকর, সেইসব আবর্জনা শকুন খায় এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে।
'সুন্দরবনের প্রাণী' রচনাটিতে বলা হয়েছে, কখনো কখনো বিশেষ কোনো প্রাণীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের বা জায়গার নাম। রয়েল বেঙ্গল টাইগার তেমনি একটি প্রাণী, যেটি বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িত আছে। সুন্দরবনে এর বাস। বাঘ ছাড়াও সুন্দরবনে আরও নানা প্রজাতির অসংখ্য প্রাণী রয়েছে। দেশজুড়ে যেসব পশুপাখি ও জীবজন্তু রয়েছে সেগুলো আমাদের অমূল্য সম্পদ। এসব প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
Related Question
View Allক্যাঙ্গারু বললেই অস্ট্রেলিয়া এবং সিংহ বললেই আফ্রিকার কথা মনে পড়ে।
বিভিন্ন ধরনের বাঘ সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া হলো-
১. রয়েল বেঙ্গল টাইগার: বাঘদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো
রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এর স্বভাব চরিত্র রাজার মতো। এ বাঘের আবাসস্থল সুন্দরবন। গায়ে ডোরাকাটা এ বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর।
২. চিতাবাঘ: সবচেয়ে দ্রুতগতির বাঘ হলো চিতাবাঘ। এছাড়া এই বাঘের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এরা গাছে উঠতে পারে, যা অন্যান্য বাঘ পারে না।
৩. ওলবাঘ: একসময় অন্যান্য বাঘের পাশাপাশি সুন্দরবনে ওলবাঘ নামের এক জাতীয় বাঘ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের বাঘ আর দেখা যায় না।
পশুপাখি ও জীবজন্তু যেকোনো দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নানা প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন: বন্যা, খরা, ঝড় ইত্যাদি থেকে রক্ষার পেছনে এসব প্রাণিকুলের অবদান রয়েছে। একটি দেশের পরিবেশ রক্ষায় কোনো কোনো প্রাণীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: শকুন মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর সব আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে। এছাড়া পশুপাখি ও জীবজন্তু পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের অনেক উপকার করে।
শকুন নানাভাবে মানুষের উপকার করে। শকুন আমাদের চারপাশের যাবতীয় আবর্জনা নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মানুষের পক্ষে যা কিছু ক্ষতিকর, সেইসব আবর্জনা খেয়ে শকুন আমাদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও বসবাসের উপযোগী রাখে। এভাবে নোংরা আবর্জনা খেয়ে শকুন মানুষের উপকার করে।
গাছপালার মতোই বন্য পশুপাখি জীবজন্তু স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। পৃথিবীতে কোনো প্রাণীই অপ্রয়োজনীয় নয়। কোনো না কোনোভাবে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখে। যেমন: শকুন মানুষের পক্ষে যেসব ক্ষতিকর সেইসব আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে। পৃথিবীতে পশুপাখি, জীবজন্তু না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে দেখা দেবে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব কারণে পৃথিবীতে মানুষের জীবনধারণ হুমকির মধ্যে পড়বে।
বাংলাদেশের দক্ষিণে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিশাল বন। এর নাম সুন্দরবন। এই বনে রয়েছে প্রচুর গাছপালা, তেমনি রয়েছে নানা প্রাণী ও জীবজন্তু। বাংলাদেশের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকে এই সুন্দরবনে ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!