উত্তরঃ
বাংলাদেশের শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনা: সংকট ও উত্তরণের উপায়
ভূমিকা
ভাষা কেবল মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই নয়, বরং তা একটি জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং জ্ঞানচর্চার মূল ভিত্তি। আর শিক্ষা হলো সেই জ্ঞানচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, বিজ্ঞানসম্মত এবং দূরদর্শী 'ভাষা পরিকল্পনা' (Language Planning) থাকা অপরিহার্য। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ শিক্ষার মাধ্যম এবং ভাষা শেখার কৌশলের ওপরই নির্ভর করে একটি প্রজন্মের মেধা ও মননের বিকাশ। বাংলাদেশ একমাত্র রাষ্ট্র যা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি সুসংহত ও যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষা পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা নিয়ে এক ধরনের কাঠামোগত সংকট ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় উন্নয়ন ও মেধাবিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ভাষা পরিকল্পনা: তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা
সমাজভাষাবিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো ভাষা পরিকল্পনা। সহজ ভাষায়, একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা রাষ্ট্রে ভাষার মর্যাদা, ব্যবহার, বিকাশ এবং ভাষা শেখার পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে নীতিগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকেই ভাষা পরিকল্পনা বলা হয়। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, একটি আদর্শ ভাষা পরিকল্পনার প্রধানত তিনটি মৌলিক দিক বা স্তর থাকে। প্রথম স্তরটি হলো মর্যাদা পরিকল্পনা। এটি মূলত রাজনৈতিক ও আইনি সিদ্ধান্ত, যেখানে রাষ্ট্রে কোনো নির্দিষ্ট ভাষার সামাজিক ও সরকারি অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। যেমন কোন ভাষাটি রাষ্ট্রভাষা হবে, কোনটি দাপ্তরিক কাজের ভাষা হবে এবং কোন ভাষাটি শিক্ষাদানের প্রধান মাধ্যম হবে-তা এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় স্তরটি হলো রূপগত বা অবয়ব পরিকল্পনা, যা সম্পূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ। কোনো ভাষার আধুনিকায়ন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষা তৈরি করা, প্রমিত অভিধান প্রণয়ন, ব্যাকরণের সহজীকরণ ও সংস্কার এবং লিপি বা বর্ণমালার আধুনিকায়ন এই স্তরের কাজ। শেষ স্তরটি হলো অর্জন বা শিক্ষণ পরিকল্পনা, যা সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জড়িত। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ঠিক কীভাবে, কোন স্তরে এবং কতটুকু দক্ষতায় জাতীয় ভাষা কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক বা বিদেশি ভাষা শেখাবে-তার সুনির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম তৈরি করা এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এই তিনটি স্তরেরই চরম অসমন্বয় পরিলক্ষিত হয়। মর্যাদা পরিকল্পনায় বাংলাকে উঁচুতে রাখা হলেও, রূপগত এবং অর্জন পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রায়োগিক রূপটি সংকটের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল দাবিটি কেবল রাষ্ট্রভাষার আইনি স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর অন্তর্নিহিত দর্শন ছিল-শিক্ষার মাধ্যম, আদালতের রায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই 'কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন' অত্যন্ত দূরদর্শী একটি ভাষা পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছিল। কমিশনের স্পষ্ট সুপারিশ ছিল-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মূল মাধ্যম হতে হবে মাতৃভাষা বাংলা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ার জন্য মাধ্যমিক স্তর থেকে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ভাষা (প্রধানত ইংরেজি) শিক্ষার সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আশির দশকে 'সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭' পাস করা হয়। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ঘন ঘন শিক্ষানীতির বদল এবং দূরদর্শী বাস্তবায়ন কৌশলের অভাবে এই ঐতিহাসিক কমিশনগুলোর সুপারিশ ও আইনি নির্দেশনাগুলো পুরোপুরি কাগজের দলিল হিসেবেই থেকে গেছে। ফলস্বরূপ, বর্তমান সময়ে এসে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা নিয়ে এক বহুমুখী সংকটের জন্ম হয়েছে।
শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার বর্তমান সংকটসমূহ
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে ভাষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গভীর ও স্পর্শকাতর সংকট চোখে পড়ে। এগুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়:
উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চায় বাংলার সীমাবদ্ধতা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম বাংলা হলেও উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসায় প্রশাসন এবং উন্নত প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। এসব ক্ষেত্রে ইংরেজিই একমাত্র মাধ্যম। উচ্চস্তরের উপযোগী মানসম্মত বাংলা পাঠ্যপুস্তক, অনুবাদ গ্রন্থ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরিভাষার চরম অভাব রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আকস্মিকভাবে মাতৃভাষা থেকে ইংরেজিমাধ্যমে প্রবেশ করতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খায়। এর ফলে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না। ভাষাগত এই অন্তরালের কারণে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তুর মৌলিক জ্ঞান গভীরভাবে আয়ত্ত করার চেয়ে না বুঝে মুখস্থ করার প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
শিক্ষাব্যবস্থার ত্রিধারা ও ভাষাভিত্তিক বৈষম্য: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তিনটি ধারায় বিভক্ত-বাংলা মাধ্যম (সাধারণ), ইংরেজি মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। এই তিন ধারার ভাষা পরিকল্পনা তিন রকম। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বাংলায় দুর্বল থেকে যাচ্ছে, আবার বাংলা মাধ্যম ও মাদ্রাসার বিশাল অংশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি শিখতে পারছে না। এই ভাষাভিত্তিক বিভাজন সমাজে গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি করছে। ইংরেজি জানা উচ্চবিত্তের সন্তানরা কর্পোরেট ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছে, আর সাধারণ মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। এতে করে একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মানসিকতার শ্রেণী গড়ে উঠছে, যা জাতীয় সংহতির জন্য বড় হুমকি। কেবল ভাষা দক্ষতার পার্থক্যের কারণে মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা উন্নত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইংরেজি শিক্ষণ পদ্ধতির গলদ: আমাদের শিক্ষানীতিতে ইংরেজিকে একটি 'ভাষা' হিসেবে না শিখিয়ে 'বিষয়' হিসেবে মুখস্থ করানো হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ইংরেজি পড়ানো হলেও, অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা বা লেখার ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলাফল হিসেবে বছরের পর বছর ইংরেজি পড়ার পরও পাস করার পর বিপুল সংখ্যক তরুণ তরুণী চাকরির বাজারে সঠিক যোগাযোগের অভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আধুনিক ভাষা শিক্ষার সহায়ক উপাদান যেমন ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব বা অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের ব্যবহার আমাদের স্কুলগুলোতে প্রায় অনুপস্থিত।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের ভাষাগত অধিকার অবহেলা: বাংলাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সরকার কিছু নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তকও প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা গেছে, সেই সব ভাষায় দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে এই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না। ফলে সাঁওতাল, চাকমা বা মারমা শিশুরা শুরুতেই ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। প্রাথমিক শ্রেণীতে নিজের মাতৃভাষা ছেড়ে হঠাৎ অপরিচিত বাংলায় পড়াশোনা শুরু করায় তাদের শেখার আগ্রহ দ্রুত কমে যায়। ফলে সমতলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় পাহাড়ি ও প্রান্তিক আদিবাসী শিশুরা শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভাষার রূপান্তর: বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি এবং গ্লোবাল ভিলেজের যুগ। এই যুগে টিকে থাকতে হলে ভাষার ডিজিটাল রূপান্তর জরুরি। বাংলায় টাইপিং, সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলিনেস কিংবা ডেটা তৈরির ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। ভাষা পরিকল্পনায় এই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন ঘটানো সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারগুলো দ্রুত বাংলা ইন্টারফেসে যুক্ত না হওয়ায় আমাদের নতুন প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সুবিধাগুলো মাতৃভাষায় ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে বৈশ্বিক ডেটা ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দৌড়ে বাংলা ভাষা এক ধরণের কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।
নীতি নির্ধারণে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয়হীনতা: শিক্ষা খাতে ভাষা নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং বারবার নীতি পরিবর্তনের ফলে শ্রেণীকক্ষে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেখা যায়, নতুন কারিকুলাম বা ভাষা শেখানোর পদ্ধতি চালু করা হলেও শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগেই তা বাতিল বা সংশোধন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েই চরম বিভ্রান্তির শিকার হন এবং ভাষার মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
সংকট থেকে উত্তরণের উপায়সমূহ
শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার এই গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের আবেগ এবং বাস্তবতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে হবে। উত্তরণের প্রধান উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
উচ্চশিক্ষায় বাংলা মাধ্যমের আধুনিকায়ন ও পরিভাষা তৈরি: উচ্চশিক্ষায় বাংলাকে চালুর জন্য অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে 'জাতীয় পরিভাষা কমিশন' গঠন করতে হবে। বাংলা একাডেমি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (UGC) যৌথভাবে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল বিষয়গুলোর সহজ ও গ্রহণযোগ্য বাংলা অনুবাদ করতে হবে এবং এর জন্য লেখকদের বড় ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল বা গবেষণা সাময়িকীর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো দ্রুত বাংলায় অনুবাদের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ অনুবাদক পুল তৈরি করা দরকার। এর পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক টার্মগুলো হুবহু বাংলায় উচ্চারণ লিখে রেখে অনুবাদ সহজ করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উপস্থিতি বাড়াতে দেশীয় প্রোগামারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাংলা ভাষার নির্ভুল ও মানসম্পন্ন ডেটাসেট তৈরি করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
স্বায়ত্তশাসিত ভাষা পরিকল্পনা কমিশন গঠন: শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ভাষার সঠিক প্রয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণে একটি 'স্বাধীন ভাষা পরিকল্পনা কমিশন' গঠন করা প্রয়োজন। এই কমিশন শিক্ষানীতি, বৈশ্বিক চাহিদা এবং আমাদের জাতীয় চেতনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি নিয়মিত তদারকি করবে। এতে সরকারি রদবদলের সাথে নীতি বিঘ্নিত না হয়ে একটি ধারাবাহিক ও প্রগতিশীল ভাষা পরিকল্পনা নিশ্চিত হবে।
উপসংহার
একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো তার ভাষা পরিকল্পনা। বাংলাদেশকে যদি ২১ শতকের জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হয়, তবে ভাষা নিয়ে দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে-মাতৃভাষা বাংলার ভিত্তি মজবুত না করে যেমন মেধার বিকাশ সম্ভব নয়, তেমনি আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির যথাযথ দখল ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জেতা অসম্ভব। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে ইংরেজিকে বর্জন করা যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আভিজাত্যের মোহে বাংলাকে অবহেলা করা চরম লজ্জাজনক। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং বৈষম্যহীন জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা, যা আমাদের আত্মপরিচয় ধরে রেখে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।