রচনা লিখুন: 'বাংলাদেশের শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনা: সংকট ও উত্তরণের উপায়'

Updated: 18 hours ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনা: সংকট ও উত্তরণের উপায়

ভূমিকা

ভাষা কেবল মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই নয়, বরং তা একটি জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং জ্ঞানচর্চার মূল ভিত্তি। আর শিক্ষা হলো সেই জ্ঞানচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, বিজ্ঞানসম্মত এবং দূরদর্শী 'ভাষা পরিকল্পনা' (Language Planning) থাকা অপরিহার্য। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ শিক্ষার মাধ্যম এবং ভাষা শেখার কৌশলের ওপরই নির্ভর করে একটি প্রজন্মের মেধা ও মননের বিকাশ। বাংলাদেশ একমাত্র রাষ্ট্র যা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি সুসংহত ও যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাষা পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ভাষা নিয়ে এক ধরনের কাঠামোগত সংকট ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় উন্নয়ন ও মেধাবিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ভাষা পরিকল্পনা: তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা

সমাজভাষাবিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো ভাষা পরিকল্পনা। সহজ ভাষায়, একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা রাষ্ট্রে ভাষার মর্যাদা, ব্যবহার, বিকাশ এবং ভাষা শেখার পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে নীতিগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকেই ভাষা পরিকল্পনা বলা হয়। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, একটি আদর্শ ভাষা পরিকল্পনার প্রধানত তিনটি মৌলিক দিক বা স্তর থাকে। প্রথম স্তরটি হলো মর্যাদা পরিকল্পনা। এটি মূলত রাজনৈতিক ও আইনি সিদ্ধান্ত, যেখানে রাষ্ট্রে কোনো নির্দিষ্ট ভাষার সামাজিক ও সরকারি অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। যেমন কোন ভাষাটি রাষ্ট্রভাষা হবে, কোনটি দাপ্তরিক কাজের ভাষা হবে এবং কোন ভাষাটি শিক্ষাদানের প্রধান মাধ্যম হবে-তা এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় স্তরটি হলো রূপগত বা অবয়ব পরিকল্পনা, যা সম্পূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ। কোনো ভাষার আধুনিকায়ন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিভাষা তৈরি করা, প্রমিত অভিধান প্রণয়ন, ব্যাকরণের সহজীকরণ ও সংস্কার এবং লিপি বা বর্ণমালার আধুনিকায়ন এই স্তরের কাজ। শেষ স্তরটি হলো অর্জন বা শিক্ষণ পরিকল্পনা, যা সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জড়িত। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ঠিক কীভাবে, কোন স্তরে এবং কতটুকু দক্ষতায় জাতীয় ভাষা কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক বা বিদেশি ভাষা শেখাবে-তার সুনির্দিষ্ট শিক্ষাক্রম তৈরি করা এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এই তিনটি স্তরেরই চরম অসমন্বয় পরিলক্ষিত হয়। মর্যাদা পরিকল্পনায় বাংলাকে উঁচুতে রাখা হলেও, রূপগত এবং অর্জন পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রায়োগিক রূপটি সংকটের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল দাবিটি কেবল রাষ্ট্রভাষার আইনি স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর অন্তর্নিহিত দর্শন ছিল-শিক্ষার মাধ্যম, আদালতের রায় এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই 'কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন' অত্যন্ত দূরদর্শী একটি ভাষা পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছিল। কমিশনের স্পষ্ট সুপারিশ ছিল-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মূল মাধ্যম হতে হবে মাতৃভাষা বাংলা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ার জন্য মাধ্যমিক স্তর থেকে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ভাষা (প্রধানত ইংরেজি) শিক্ষার সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আশির দশকে 'সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭' পাস করা হয়। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ঘন ঘন শিক্ষানীতির বদল এবং দূরদর্শী বাস্তবায়ন কৌশলের অভাবে এই ঐতিহাসিক কমিশনগুলোর সুপারিশ ও আইনি নির্দেশনাগুলো পুরোপুরি কাগজের দলিল হিসেবেই থেকে গেছে। ফলস্বরূপ, বর্তমান সময়ে এসে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা নিয়ে এক বহুমুখী সংকটের জন্ম হয়েছে।

শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার বর্তমান সংকটসমূহ

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকালে ভাষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গভীর ও স্পর্শকাতর সংকট চোখে পড়ে। এগুলোকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়:

উচ্চশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চায় বাংলার সীমাবদ্ধতা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম বাংলা হলেও উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসায় প্রশাসন এবং উন্নত প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নেই বললেই চলে। এসব ক্ষেত্রে ইংরেজিই একমাত্র মাধ্যম। উচ্চস্তরের উপযোগী মানসম্মত বাংলা পাঠ্যপুস্তক, অনুবাদ গ্রন্থ এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরিভাষার চরম অভাব রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আকস্মিকভাবে মাতৃভাষা থেকে ইংরেজিমাধ্যমে প্রবেশ করতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খায়। এর ফলে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না। ভাষাগত এই অন্তরালের কারণে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তুর মৌলিক জ্ঞান গভীরভাবে আয়ত্ত করার চেয়ে না বুঝে মুখস্থ করার প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

শিক্ষাব্যবস্থার ত্রিধারা ও ভাষাভিত্তিক বৈষম্য: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তিনটি ধারায় বিভক্ত-বাংলা মাধ্যম (সাধারণ), ইংরেজি মাধ্যম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। এই তিন ধারার ভাষা পরিকল্পনা তিন রকম। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা বাংলায় দুর্বল থেকে যাচ্ছে, আবার বাংলা মাধ্যম ও মাদ্রাসার বিশাল অংশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি শিখতে পারছে না। এই ভাষাভিত্তিক বিভাজন সমাজে গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি করছে। ইংরেজি জানা উচ্চবিত্তের সন্তানরা কর্পোরেট ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছে, আর সাধারণ মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। এতে করে একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মানসিকতার শ্রেণী গড়ে উঠছে, যা জাতীয় সংহতির জন্য বড় হুমকি। কেবল ভাষা দক্ষতার পার্থক্যের কারণে মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীরা উন্নত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইংরেজি শিক্ষণ পদ্ধতির গলদ: আমাদের শিক্ষানীতিতে ইংরেজিকে একটি 'ভাষা' হিসেবে না শিখিয়ে 'বিষয়' হিসেবে মুখস্থ করানো হয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ইংরেজি পড়ানো হলেও, অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা বা লেখার ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলাফল হিসেবে বছরের পর বছর ইংরেজি পড়ার পরও পাস করার পর বিপুল সংখ্যক তরুণ তরুণী চাকরির বাজারে সঠিক যোগাযোগের অভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আধুনিক ভাষা শিক্ষার সহায়ক উপাদান যেমন ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব বা অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের ব্যবহার আমাদের স্কুলগুলোতে প্রায় অনুপস্থিত।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের ভাষাগত অধিকার অবহেলা: বাংলাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সরকার কিছু নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় পাঠ্যপুস্তকও প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা গেছে, সেই সব ভাষায় দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে এই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না। ফলে সাঁওতাল, চাকমা বা মারমা শিশুরা শুরুতেই ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। প্রাথমিক শ্রেণীতে নিজের মাতৃভাষা ছেড়ে হঠাৎ অপরিচিত বাংলায় পড়াশোনা শুরু করায় তাদের শেখার আগ্রহ দ্রুত কমে যায়। ফলে সমতলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় পাহাড়ি ও প্রান্তিক আদিবাসী শিশুরা শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভাষার রূপান্তর: বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি এবং গ্লোবাল ভিলেজের যুগ। এই যুগে টিকে থাকতে হলে ভাষার ডিজিটাল রূপান্তর জরুরি। বাংলায় টাইপিং, সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলিনেস কিংবা ডেটা তৈরির ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে। ভাষা পরিকল্পনায় এই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন ঘটানো সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারগুলো দ্রুত বাংলা ইন্টারফেসে যুক্ত না হওয়ায় আমাদের নতুন প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক সুবিধাগুলো মাতৃভাষায় ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে বৈশ্বিক ডেটা ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দৌড়ে বাংলা ভাষা এক ধরণের কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

নীতি নির্ধারণে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয়হীনতা: শিক্ষা খাতে ভাষা নীতি নির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং বারবার নীতি পরিবর্তনের ফলে শ্রেণীকক্ষে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেখা যায়, নতুন কারিকুলাম বা ভাষা শেখানোর পদ্ধতি চালু করা হলেও শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগেই তা বাতিল বা সংশোধন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েই চরম বিভ্রান্তির শিকার হন এবং ভাষার মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

সংকট থেকে উত্তরণের উপায়সমূহ

শিক্ষায় ভাষা পরিকল্পনার এই গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের আবেগ এবং বাস্তবতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে হবে। উত্তরণের প্রধান উপায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

উচ্চশিক্ষায় বাংলা মাধ্যমের আধুনিকায়ন ও পরিভাষা তৈরি: উচ্চশিক্ষায় বাংলাকে চালুর জন্য অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে 'জাতীয় পরিভাষা কমিশন' গঠন করতে হবে। বাংলা একাডেমি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (UGC) যৌথভাবে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল বিষয়গুলোর সহজ ও গ্রহণযোগ্য বাংলা অনুবাদ করতে হবে এবং এর জন্য লেখকদের বড় ধরনের প্রণোদনা দিতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল বা গবেষণা সাময়িকীর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো দ্রুত বাংলায় অনুবাদের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ অনুবাদক পুল তৈরি করা দরকার। এর পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক টার্মগুলো হুবহু বাংলায় উচ্চারণ লিখে রেখে অনুবাদ সহজ করার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

উপস্থিতি বাড়াতে দেশীয় প্রোগামারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাংলা ভাষার নির্ভুল ও মানসম্পন্ন ডেটাসেট তৈরি করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

স্বায়ত্তশাসিত ভাষা পরিকল্পনা কমিশন গঠন: শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ভাষার সঠিক প্রয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নির্ধারণে একটি 'স্বাধীন ভাষা পরিকল্পনা কমিশন' গঠন করা প্রয়োজন। এই কমিশন শিক্ষানীতি, বৈশ্বিক চাহিদা এবং আমাদের জাতীয় চেতনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি নিয়মিত তদারকি করবে। এতে সরকারি রদবদলের সাথে নীতি বিঘ্নিত না হয়ে একটি ধারাবাহিক ও প্রগতিশীল ভাষা পরিকল্পনা নিশ্চিত হবে।

উপসংহার

একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো তার ভাষা পরিকল্পনা। বাংলাদেশকে যদি ২১ শতকের জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হয়, তবে ভাষা নিয়ে দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে-মাতৃভাষা বাংলার ভিত্তি মজবুত না করে যেমন মেধার বিকাশ সম্ভব নয়, তেমনি আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির যথাযথ দখল ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জেতা অসম্ভব। তাই আবেগের বশবর্তী হয়ে ইংরেজিকে বর্জন করা যেমন আত্মঘাতী, তেমনি আভিজাত্যের মোহে বাংলাকে অবহেলা করা চরম লজ্জাজনক। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং বৈষম্যহীন জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা, যা আমাদের আত্মপরিচয় ধরে রেখে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।

2

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.8k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.2k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.8k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.5k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
1 year ago
2.3k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
3 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews