রচনা লিখুন: 'বাংলা সাহিত্যে দেশপ্রেম'

Updated: 3 days ago
উত্তরঃ

'বাংলা সাহিত্যে দেশপ্রেম'

ভূমিকা:

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো স্বদেশপ্রীতি ও স্বাজাত্যবোধ। স্বদেশপ্রেম সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট উপাদান। সাহিত্য হচ্ছে একটি সমাজের দর্পণস্বরূপ। পৃথিবীর সব ভাষার সব সাহিত্যেই স্বদেশপ্রীতি বিশাল অংশ দখল করে আছে। একটি দেশ কতট উন্নত, তা বুঝা যায় সে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি থেকে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম বোধকে জাগ্রত করে। যুগে যুগে বাংলা সাহিত্য আমাদেরকে বিভিন্ন আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সাহিত্য মানুষের মধ্যে দেশের প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। তাছাড়া সাহিত্য দেশ ও জাতির সংকটের সময় তাদেরকে সঠিক ও সত্য পথে পরিচালিত করে থাকে। সাহিত্য মানুষের মনে শক্তি ও সাহস যোগায়। আমাদের বাংলা সাহিত্যেও দেশপ্রেমের অনেক নিদর্শন আছে। তাই সাহিত্যে স্বদেশপ্রীতি বা দেশপ্রেমের প্রকাশ অনেকটা নতুন বা আধুনিক ধারণা।

উনিশ শতকের দেশপ্রেম:

উনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজি শিক্ষা ও সভ্যতার সংস্পর্শে এসে বাংলাদেশে স্বদেশপ্রেমের ধ্যান-ধারণা বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। তবে এর নেপথ্যে প্রেরণা জোগায় ইংরেজদের দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণ এবং এ দেশবাসীর সচেতনতা ও স্বজাত্যবোধ। কিন্তু সেকালের দেশপ্রেম চিন্তায় হিন্দুদের ধর্মবোধ ও সাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে নানা রাজনৈতিক কারণে হিন্দুরাই ইউরোপীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির দিকে প্রথম আকৃষ্ট হয়েছিল এবং তখন একটি শিক্ষিত হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অভ্যুদয় ঘটেছিল। দীর্ঘকাল মুসলমান শাসনে বাস করার ফলে একটা রাজনৈতিক বিরুদ্ধবাদিতও তাদের মনে দানা বেঁধেছিল। তাই সেকালের দেশপ্রেমমূলক কবিতায় এসবের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

বাংলা সাহিত্যে দেশপ্রেমের প্রকাশ:

বাংলা সাহিত্যে দেশপ্রেমের প্রকাশ বিচিত্রমুখী। কারো দেশপ্রেম সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় অনুভূতিসম্পন্ন, কারো দেশপ্রেম অসাম্প্রদায়িক ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কল্যাণকামী। আবার কেউ কেউ দেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ, কেউ কেউ দেশের পরাধীনতা ও দুর্দশায় ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলা কবিতা, গান, নাটক, উপন্যাস, গল্প, লোকসাহিত্য সব শাখায় দেশপ্রেমের বহুমুখী প্রকাশ রয়েছে। তবে বাংলা কাব্যে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে সর্বাধিক। বিভিন্ন কবি বিভিন্নভাবে তাদের দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

  • ঈশ্বর গুপ্ত: ঈশ্বর গুপ্তের কবিতার ভঙ্গি ব্যঙ্গাশত্মক, রাজনৈতিক চেতনার বড় পরিচয় নেই। ফলে ইউরোপীয় শিক্ষাসংস্কৃতি ও আচার-আচরণের গড্ডলিকা প্রবাহের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে তিনি তার স্বদেশপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন:

'কতরূপ স্নেহ করি

দেশের কুকুর ধরি

বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।'

কিন্তু তার এ উগ্র স্বজাত্যবোধ সমসাময়িক ইংরেজি ভাবতরঙ্গে আত্মবিসর্জনকারী যুবশ্রেণীর কাছে কিছু উপদেশের বাণী বহন করলেও এগুলোর সাহিত্য মূল্য খুব কম।

  • রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের কবি বলে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের খ্যাতি ছিল। তার স্বাধীনতা হীনতায় কে বাচিতে চায় হে কবিতাটি স্বাধীনতাপ্রিয় অনেকের চেতনাকেই আলোড়িত করলেও সিপাহী বিদ্রোহকে লক্ষ্য করে তার কটুক্তি এবং ইংরেজ অধিকারের প্রতি সমর্থন প্রমাণ করে, তার রাজনৈতিক চিন্তাধারা অত্যন্ত অস্পষ্ট ছিল।
  • মধুসূদন: মধুসূদনের কবিচিত্ত রাজনৈতিক চিন্তা দ্বারা আচ্ছন্ন হয়নি কিন্তু তার অন্তরের গভীরে স্বাধীনতার বোধ ছিল। দলত্যাগী বিভীষণের প্রতি মেঘনাদের দীপ্ত বচন তার প্রমাণ। তাছাড়া দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বন্দনায় তিনি শান্ত, কোমল, অরাজনৈতিক এবং অসাম্প্রদায়িক এক দেশপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন। যেমন, চতুর্দশপদীর অন্তর্গত 'পরিচয়' কবিতায় তিনি লিখেছেন:

'যে দেশে কুহরে পিক বসন্ত কাননে;

দিনেশে যে দেশে সেবে নলিনী যুবতী;

চাঁদের আমোদ যথা কুমুদ-সদনে,

সে দেশে জনম মম।

শান্ত-কোমল দেশপ্রেমের কল্পনা মধুকবির কাব্যে চমৎকারভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

  • হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র: হেমচন্দ্র বা নবীনচন্দ্রের স্বাধীনতা কল্পনা ভাবের দিক থেকে সাম্প্রদায়িক, রচনাভঙ্গির দিক থেকেও সাহিত্যিক গুণবর্জিত। তবে হেমচন্দ্রের ব্যঙ্গ কবিতাগুলোয় ইংরেজদের সাম্রাজ্যবাদী লুঠতরাজের প্রতি আক্রমণ আছে। নবীন সেনের দেশপ্রেমও হেমচন্দ্রের সমজাতীয়। রৈবতক-কুরুক্ষেত্র, প্রভাস কাব্যে তিনি প্রাচীনকালে ভারতে এক ঐক্যবদ্ধ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে কল্পনা করেছেন।
  • বঙ্কিমচন্দ্র: বঙ্কিমচন্দ্র উচুদরের শিল্পী হলেও দেশপ্রেমমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি সাম্প্রদায়িকতা দোষে দুষ্ট। তিনি তার বিভিন্ন উপন্যাসে হিন্দু-ভারতের কল্পনা করেছেন, মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ দেখিয়েছেন এবং ইংরেজদের অধিকারকে মেনে নিয়েছেন। বঙ্কিমের মুসলিম-বিদ্বেষের তীব্রতা উনিশ শতকের বাঙালির স্বদেশ-চেতনার সবচাইতে দুর্বলতম স্থান। তবে কমলাকান্তের দপ্তরে মাঝে মাঝে তার স্বদেশপ্রেম উদার মূর্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
  • দীনবন্ধু: দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকে দেশপ্রেমের এক অভিনব মূর্তি প্রকাশিত হয়েছে। দীনবন্ধু গ্রামের কৃষক শ্রেণীর নির্যাতনের এক জীবন্ত চিত্র এঁকেছেন এবং এঁকেছেন ইংরেজ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে মুসলমান তোরাপ আর হিন্দু নবীনমাধবের যুক্ত প্রতিরোধের চিত্র।
  • রবীন্দ্রনাথ: বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন ও উদারচিত্ত রবীন্দ্রনাথ দেশকে জননীরূপে কল্পনা করেছেন, আকুণ্ঠ ভালোবাসায় বাংলাদেশের প্রকৃতির গান গেয়েছেন। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা তার রচনায় স্থান পায়নি। তিনি বিশ্বমানবের মিলনের বাণী প্রচার করেছেন। রবীন্দ্রনাথের দেশপ্রেম সম্পর্কে সৈয়দ আলী আহসান বলেন, রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তার মধ্যে উচ্চ আদর্শবাদ নিহিত আছে। এ জাতীয়তা রঙ্গলাল-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্রের নিছক গোত্রীতি নয়, কিংবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের সুস্নিগ্ধ মাতৃভূমিপ্রতি নয়। এর মধ্যে তিনি একটি সুমহান সত্য এবং পরম ঐক্যের পরিচয় দিতে চেয়েছেন। ভারততীর্থ কবিতায় এ ইঙ্গিত আছে। রবীন্দ্রনাথের কল্পনায় ভারতবর্ষের একই পরম সত্যে মিলিত হয়েছে বিভিন্ন জাতি এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি।
  • দ্বিজেন্দ্রলাল: উনিশ শতকের শেষে ও বিশ শতকের প্রথম দিকে দ্বিজেন্দ্রলালের নাটকে সাম্প্রদায়িক দেশপ্রেম থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা চোখে পড়ে। 'রাণপ্রতাপ' নাটকে হিন্দু-মুসলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দেশপ্রেম প্রচারের চেষ্টা হলেও "মেবারপতন এবং তার অনেক কবিতায় মানব মৈত্রীর বাণীও প্রচার করতে চেয়েছেন দ্বিজেন্দ্রলাল।
  • সত্যেন্দ্রনাথ: সত্যেন্দ্রনাথও অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমমূলক অনেক কবিতা লিখেছেন। প্রকৃতি বন্দনার পাশাপাশি তার কবিতায় জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে উদার দেশপ্রেমের সুর বিদ্যমান।
  • নজরুল: বিশ শতকে দেশপ্রেমমূলক কবিতায় নতুন বাণী ও ভঙ্গি নিয়ে আবির্ভূত হন কাজী নজরুল ইসলাম। তার দেশপ্রেম সাম্প্রদায়িকতামুক্ত এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ সকল মানুষের কল্যাণকামী। শোষকদের বিরুদ্ধেও সুতীব্র ধিক্কার বর্ষিত হয়েছে। তিনি সাধারণ দরিদ্র মানুষের প্রতি তার স্নেহ কবিতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন, দেশের জল-মাটি হাওয়ার প্রতি ব্যক্ত করেছেন ভালোবাসা, আর ঘৃণা জানিয়েছেন দেশী-বিদেশী অত্যাচারীদের প্রতি। তার দেশপ্রেম আসলে সর্বহারা, বঞ্চিত মানুষের প্রতি প্রেম।

বাংলা নাটকে দেশপ্রেম:

বাংলা নাটকের মধ্যে স্বদেশপ্রীতির পরিচয় গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকে নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের এক অভিনব মূর্তি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে পরাধীনতার গ্লানি ও জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগাতে গিরিশচন্দ্র ঘোষের সিরাজ-উদ-দ্দৌলা ও মীরকাশিম এবং ডি. এল. রায়ের শাহজাহান-এর মতো ঐতিহাসিক নাটকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতোত্তর বাংলা নাটকে দেশপ্রেম আরো বেশি মূর্ত হয়ে আমাদের সামনে ধরা দিয়েছে; যেখানে মুনীর চৌধুরী তাঁর 'কবর' নাটকে ভাষা আন্দোলন ও সংগ্রামের চেতনা তুলে ধরেন, সৈয়দ শামসুল হক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 'নুরলদীনের' সারাজীবন নাটকে মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরোধের ডাক দেন, মামুনুর রশীদ 'ওরা কদম আলী নাটকে সাধারণ মানুষের মুক্তির কথা বলেন, আবদুল্লাহ আল মামুন 'শপথ' নাটকে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সামাজিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলেন এবং মমতাজউদদীন আহমদ 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রূপায়ণ করে নাটকে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

কবিতায় দেশপ্রেমঃ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতায়ই প্রথম স্বদেশপ্রেমের চিত্র ফুটে উঠে। তার 'পৌষ-পার্বণ', 'বাঙালির মেয়ে', 'আনারস' প্রভৃতি কবিতায় স্বদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তার কবিতায়ই প্রথম দেখি-

"কতরূপ স্নেহে করি

দেশের কুকুর ধরি

বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।"

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তার দেশপ্রেম কবিতায় লিখেছেন-

"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাচিতে চায় হে

কে বাচিতে চায়?

দাসত্ব শৃঙ্খল বল, কে পরিবে পায় হে

কে পরিবে পায়?"

রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতায় ও প্রবন্ধে অসংখ্যবার দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে-

“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।”

নজরুলের কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে বন্দি ও নিপীড়িত মানবাত্মার মুক্তি। তার কণ্ঠে শুনি-

"জয় নিপীড়িত প্রাণ

জয় নব অভিযান

জয় নব উত্থান।"

ছান্দসিক কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন

"মধুর চেয়েও আছে মধুর সে আমার দেশের মাটি।"

কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছেন-

"বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।"

মহাকাব্য ও গীতি-কবিতায় দেশপ্রেমঃ বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য ও গীতি-কবিতাগুলোতে দেশপ্রেম মূর্ত হয়ে উঠেছে। বাংলা মহাকাব্যের ধারার কবি মাইকেল মধুসূদনের কাব্যে স্বদেশ-চিন্তা কবির নিজস্ব ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে। কবির 'মেঘনাদবধ' কাব্যের রাবণ বলে-

"জন্মভূমি রক্ষা হেতু কে ডওে মরিতে

যে ডরে ভীরু সে মূঢ়, শত ধিক তারে।"

কবির চিন্তা-ভাবনায় স্বাদেশিকতার ভাব কবির ভাবনার সাথে একান্ত। হে বঙ্গ, ভান্ডারের তব বিবিধ রতন বলে কবি বাংলা ভাষার যে প্রশস্তি রচনা করেছিলেন, তার মধ্যেও কবির দেশপ্রীতি ধরা পড়ে। কায়কোবাদের মহাশ্মশান কাব্যেও দেশপ্রেম মূর্ত হয়ে উঠেছে। বাংলা গীতি-কবিতাগুলোতেও দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। বিহারীলাল, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ কবির গীতি-কবিতায় দেশপ্রেম লক্ষ্য করা যায়।

বাংলা কথাসাহিত্যে স্বদেশপ্রেম: বাংলা কথাসাহিত্যে স্বদেশপ্রেমের প্রভূত নিদর্শন রয়েছে। শরৎচন্দ্র তার সাহিত্যে দেশপ্রেমের অপরূপ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার পথের দাবী, শ্রীকান্ত প্রভৃতি উপন্যাসে স্বদেশ এবং স্বজাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, ফজল, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখ কথাশিল্পীর গল্প-উপন্যাসে স্বদেশপ্রেম মূর্তমান হয়ে উঠেছে। এছাড়া আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে আমাদের কবি ও সাহিত্যিকরা তাদের রচনায় স্বদেশপ্রেমকে উচ্চকিত করে তুলেছেন।

উপন্যাস ও সঙ্গীতে দেশপ্রেমঃ

বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রত্যক্ষ স্বদেশপ্রেম প্রকাশিত হয় সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' ও 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে গভীর ও অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমের ছাপ ফুটে ওঠে। শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী' উপন্যাসটিতে সশস্ত্র বিপ্লববাদ ও স্বদেশপ্রেমের এমন তীব্র রূপ চিত্রিত হয়েছিল যে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে; এছাড়া তাঁর 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসেও স্বদেশ ও স্বদেশবাসীর প্রতি গভীর দরদ ও সহানুভূতি দেখা যায়। সঙ্গীতেও স্বদেশপ্রেমের অনন্য ছবি এঁকেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যাঁর "আমার সোনার বাংলা" বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং "জনগণমন" ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত; পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিঝরা দেশাত্মক গান ("কারার ঐ লৌহকপাট"), অতুলপ্রসাদ সেন ("মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা"), রজনীকান্ত সেন, চারণকবি মুকুন্দ দাস এবং পরবর্তীতে গোবিন্দ হালদার ("এক সাগর রক্তের বিনিময়ে") তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে দেশপ্রেমের চেতনাকে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরঞ্জীব করে রেখেছেন।

উপসংহার:

স্বদেশপ্রেম একটি অনন্য অনুভূতি। সাহিত্য মানুষের অনুভূতি প্রকাশের সর্বোকৃষ্ট মাধ্যম। এর চেয়ে পবিত্র ও মধুর অনুভূতি আর নেই। এ সত্যটি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারেন সাহিত্যিকগণ। সাহিত্যে মানুষ তার দেশ-মাটি-মানুষের কথা হৃদয় দিয়ে ব্যক্ত করতে চায় এবং সাহিত্য হয়ে ওঠে জাতির পরিচিতির বাহন। তাই তারা তাদের নাটক, কবিতা, উপন্যাস ও গানে স্বদেশপ্রীতি নানাভাবে, নানাভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন। সর্বকালের সর্বযুগের সাহিত্যিকদের রচনায়ই স্বদেশপ্রেম গভীরভাবে স্থান পেয়েছে। ভবিষ্যতেও উত্তরোত্তর এ বিষয়ে নতুন নতুন সাহিত্য রচিত হবে-এটাই সকলের প্রত্যাশা। ইংরেজ সাহিত্যিক ওয়ান্টার স্কট বলেছেন, "স্বদেশপ্রীতি স্বদেশবাসী হওয়ার প্রবণতা ছাড়া আর কিছু নয়, যার লক্ষ্য হচ্ছে সামগ্রিক ব্যবস্থার একটা উন্নয়ন।"

8

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.8k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.2k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.8k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.5k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
1 year ago
2.3k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
3 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews