রতন তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলে 'বিডি ফার্নিচার' নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাদের প্রাথমিক মূলধন ১০ কোটি টাকা। সকলের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সফলতার মুখ দেখে। পরবর্তীতে তারা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীদের নিকট প্রেরণের ক্ষেত্রে সম্পাদিত কার্য সমষ্টিকেই বাণিজ্য বলে।

উত্তরঃ

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তার শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের নিমিত্তে জনগণ বরাবর আহ্বান জানিয়ে যে প্রচার বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাকে বিবরণপত্র বলে।

প্রচলিত কোম্পানির ভূবিষ্যৎ সাফল্য জনগণকে উৎসাহিত করার এবং সেই সাথে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই মূলত বিবরণপত্র তৈরি করা হয়। এ পত্রের মধ্যে কোম্পানির প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে। যাতে শেয়ার ক্রয়ে ইচ্ছুক ব্যক্তিবর্গ এ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ধরন হলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

ন্যূনতম ২ জন ও সর্বাধিক ৫০ জন সদস্যের সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ দায়ের ভিত্তিতে যে কোম্পানি গঠিত হয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।

উদ্দীপকের রতন তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলে 'বিডি ফার্নিচার' নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাদের প্রাথমিক মূলধন ১০ কোটি টাকা। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কেননা এর উদ্যোক্তা তথা সদস্যসংখ্যা ৭ জনের চেয়েও কম। তাছাড়া প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারে না এবং শেয়ারগুলো অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়। তারা জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রি করতে পারে না। শুধু সদস্যদের মাঝে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। সুতরাং, রতন ও তার বন্ধুরা যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তা একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

উত্তরঃ

আমার মতে, প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা না গেলে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।

যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ এবং সর্বোচ্চ স্মারকলিপিতে উল্লেখ শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ, শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে বিক্রয়ের জন্য আহ্বান জানানো যায় তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।

উদ্দীপকের রতন ও তার বন্ধুরা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করায় তাদের সদস্যসংখ্যা কম ছিল। এজন্য তাদের মূলধনের পরিমাণও কম ছিল। দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের লাভ বাড়তে থাকায় তারা প্রতিষ্ঠানটির আয়তন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির গঠনগত সীমাবদ্ধতা অর্থাৎ জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করতে না পারায় অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় তারা যদি প্রতিষ্ঠানটির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করে তাহলে তারা জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারবে। তবে যেহেতু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গড়তে কমপক্ষে সাতজন সদস্য ও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র লাগবে। সেহেতু রতন ও তার বন্ধুদের পক্ষে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিলির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।

সুতরাং বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বিধায় শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না। তবে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহপূর্বক উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা যাবে।

174

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারায় সূচনা লগ্নে ব্যবসায়ের পরিসর ছিল অল্প ও সংকীর্ণ, তাই এর সাংগঠনিক রূপ ছিল সহজ, ছোট। যেমন—একমালিকানা, অংশীদারি। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি হতে শুরু হয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হলে শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। পূর্বেকার কায়িকশ্রমের স্থান দখল করে নেয় যন্ত্রপাতি এবং শুরু হয় বৃহদায়তন উৎপাদনের পালা । এমতাবস্থায় ব্যবসায় সংগঠনের প্রাথমিক রূপ তথা একমালিকানা ব্যবসায় এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের পক্ষে এদের কতিপয় সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহদায়তন পণ্যদ্রব্যাদির উৎপাদন ও বণ্টন কার্য পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলাতে যেয়ে অধিক মূলধন, সীমাবদ্ধ দায়, দক্ষ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং চিরন্তন অস্তিত্বের সুবিধা নিয়ে যুগোপযোগী ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের উদ্ভব ঘটে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা জানতে পারব—

  • কোম্পানী সংগঠনের ধারণা।
  • কোম্পানী সংগঠনের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
  • কোম্পানী সংগঠনের প্রকারভেদ ।
  • পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর মধ্যে পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের গুরুত্ব।
  • কোম্পানী সংগঠনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা।
  • কোম্পানী সংগঠনের গঠন প্রক্রিয়া ।
  1. পরিমেলবন্ধের ধারণা, বিষয়বস্তু ও নমুনা
  2. পরিমেলবন্ধের গুরুত্ব
  3. পরিমেল নিয়মাবলির ধারণা ও বিষয়বস্তু 
  4. পরিমেলবন্ধ ও পরিমেল নিয়মাবলির পার্থক্য
  5. বিবরণপত্রের বিষয়বস্তুসমূহ
  • কোম্পানী নিবন্ধনপত্রের ধারণা ও নমুনা ।
  • কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র ।
  • কোম্পানীর মূলধন সংগ্রহের উৎসসমূহ।
  • শেয়ার এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • ঋণপত্র এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • শেয়ার ও ঋণপত্রের পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের বিলোপ সাধন পদ্ধতি ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের ভবিষ্যত সম্ভাবনার দিকগুলো ।
  • সাম্প্রতিককালের বিকাশমান ব্যবসায়গুলোর ধারণা।

সূত্র: ক্যামব্রিয়ান পাবলিকেশন্স

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews