শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীদের নিকট প্রেরণের ক্ষেত্রে সম্পাদিত কার্য সমষ্টিকেই বাণিজ্য বলে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তার শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের নিমিত্তে জনগণ বরাবর আহ্বান জানিয়ে যে প্রচার বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাকে বিবরণপত্র বলে।
প্রচলিত কোম্পানির ভূবিষ্যৎ সাফল্য জনগণকে উৎসাহিত করার এবং সেই সাথে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই মূলত বিবরণপত্র তৈরি করা হয়। এ পত্রের মধ্যে কোম্পানির প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে। যাতে শেয়ার ক্রয়ে ইচ্ছুক ব্যক্তিবর্গ এ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ধরন হলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
ন্যূনতম ২ জন ও সর্বাধিক ৫০ জন সদস্যের সমন্বয়ে সীমাবদ্ধ দায়ের ভিত্তিতে যে কোম্পানি গঠিত হয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে।
উদ্দীপকের রতন তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলে 'বিডি ফার্নিচার' নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাদের প্রাথমিক মূলধন ১০ কোটি টাকা। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কেননা এর উদ্যোক্তা তথা সদস্যসংখ্যা ৭ জনের চেয়েও কম। তাছাড়া প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারে না এবং শেয়ারগুলো অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়। তারা জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রি করতে পারে না। শুধু সদস্যদের মাঝে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। সুতরাং, রতন ও তার বন্ধুরা যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তা একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
আমার মতে, প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা না গেলে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ এবং সর্বোচ্চ স্মারকলিপিতে উল্লেখ শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ, শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে বিক্রয়ের জন্য আহ্বান জানানো যায় তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।
উদ্দীপকের রতন ও তার বন্ধুরা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করায় তাদের সদস্যসংখ্যা কম ছিল। এজন্য তাদের মূলধনের পরিমাণও কম ছিল। দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের লাভ বাড়তে থাকায় তারা প্রতিষ্ঠানটির আয়তন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির গঠনগত সীমাবদ্ধতা অর্থাৎ জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করতে না পারায় অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় তারা যদি প্রতিষ্ঠানটির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করে তাহলে তারা জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারবে। তবে যেহেতু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গড়তে কমপক্ষে সাতজন সদস্য ও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র লাগবে। সেহেতু রতন ও তার বন্ধুদের পক্ষে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিলির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।
সুতরাং বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বিধায় শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না। তবে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহপূর্বক উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা যাবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!