যে নার্সারিতে বছরের পর বছর চারা উত্তোলনের সুযোগ থাকে তাকে স্থায়ী নার্সারি বলে।
উপকূলীয় বনায়নের বিভিন্ন রকম উপযোগিতা রয়েছে। যেমন: পরিবেশগত, নান্দনিক ও অর্থনৈতিক উপযোগিতা।
উপকূলীয় বনায়নের ফলে যে নির্মল সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয় তার নান্দনিক সৌন্দর্য অভূতপূর্ব। উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনের কবল থেকে মানুষ ও জীবজন্তুকে রক্ষা করে এবং ভূমির লবণাক্ততা হ্রাস করে। এ অঞ্চলের বৃক্ষরাজি উপকূল অঞ্চলের ভূমিক্ষয় রোধ করে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। বনাঞ্চলে উৎপাদিত মধু ও মোম থেকে অর্থ উপার্জিত হয়। তাছাড়া জ্বালানি কাঠ, আসবাবপত্র, খুঁটি, ঘরবাড়ি, যানবাহন, কৃষি উপকরণ প্রভৃতি তৈরিতে, খাদ্যের চাহিদা পূরণে ও অর্থ উপার্জনে উপকূলীয় বনায়নের ভূমিকা অপরিসীম।
গোলকাঠ চেরাইকালে কিছুটা অপচয় হয়। ফলে সবটুকু কাঠ ব্যবহার উপযোগী হয় না। গোলকাঠ থেকে কী পরিমাণ ব্যবহার উপযোগী কাঠ পাওয়া যায় তা হপ্পাসের সূত্র অনুযায়ী বের করা যায়।
সূত্রানুযায়ী, ভলিউম = {লগের মাঝের বেড়/৪}২ × দৈর্ঘ্য
উদ্দীপক অনুযায়ী, লগের মাঝের বেড় ২ মিটার এবং ১ম গাছের দৈর্ঘ্য = ৮ মিটার; ২য় গাছের দৈর্ঘ্য = ১০ মিটার ও ৩য় গাছের দৈর্ঘ্য = ১২ মিটার।
১ম গাছের ক্ষেত্রে ভলিউম = ঘনমিটার।
২য় গাছের ক্ষেত্রে ভলিউম = ঘনমিটার।
৩য় গাছের ক্ষেত্রে ভলিউম = ঘনমিটার।
সুতরাং, ৩টি গাছের মোট ভলিউম = (২ + ২.৫ + ৩) ঘনমিটার = ৭.৫ ঘনমিটার।
অতএব, রতন মণ্ডলের ব্যবহার উপযোগী কাঠের পরিমাণ ৭.৫ ঘনমিটার।
রতন মন্ডল করাত ও কুড়াল দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে গাছ কাটেন। করাত দিয়ে গাছ কাটলে কাঠের অপচয় পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব। করাত দ্বারা কাটার পর লগকে অর্থাৎ খণ্ডিত গোল অংশকে করাত কলে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার উপযোগী চেরাই কাঠে পরিণত করা যায়। করাত ও কুড়াল ব্যবহার করে গাছ কাটলে গাছকে সুনির্দিষ্ট দিকে ফেলা সম্ভব হয়। এতে পার্শ্ববর্তী গাছের ক্ষতি কম হয়। তাই করাত/কুড়াল উভয় ব্যবহার করে গাছ কাটা বেশ সুবিধাজনক।
পরিশেষে বলা যায়, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে রতন মন্ডলের গাছ কাটা যথার্থ।
Related Question
View Allযে স্থানে গাছের চারা উৎপন্ন করে রোপণের পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে নার্সারি বলে।
সুস্থসবল ও সুন্দর চারা পাওয়ার আদর্শ স্থান হলো নার্সারি।
বিরল প্রজাতির চারা উৎপাদনে ও বিলুপ্তি রোধে নার্সারি একান্ত অপরিহার্য। এমন অনেক বীজ রয়েছে যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোপণ করতে হয়। তা না হলে অঙ্কুরোদগমের হার কমতে থাকে। যেমন-গর্জন, শাল, রাবার, তেলসুর প্রভৃতি। এসকল গাছের সুস্থ-সবল চারা নার্সারি থেকে আমরা সহজে পেতে পারি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান সাহেবের চারা উৎপাদনের জায়গার পরিমাণ ৪ শতক এবং ব্যবহৃত পলিব্যাগের আকার ১৫ সেমি × ১০ সেমি।
আমরা জানি,
১ একর = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
আবার, ১০০ শতক = ১ একর
সুতরাং, ১০০ শতক = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
∴ ১ "
∴ ১ "
= ১৬১.৮৫ বর্গমিটার
= ১৬২ বর্গমিটার (প্রায়)
১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগের জন্য-
১ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = ৬৫টি
∴ ১৬২ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = (৬৫×১৬২) টি
= ১০,৫৩০টি
অতএব, জামান সাহেবের নার্সারির চারার সংখ্যা ১০,৫৩০টি।
জামান সাহেব তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শমতো তিনি নার্সারি তৈরির সকল কৌশল অবলম্বন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।
নার্সারি সাধারণত আলো-বাতাসযুক্ত উঁচু স্থানে করতে হয়। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ের উঁচু জমি নির্বাচন করেছিলেন যাতে বর্ষার পানি না উঠে বা জলাবদ্ধতা না হয়। চারা উৎপাদনের জন্য পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন সহজ, ব্যয় কম, রোগবালাই কম হয়, স্থানান্তর ও পরিবহন সহজ হয়। এছাড়াও তিনি সঠিকভাবে বেড তৈরি, মাটি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, আগাছা পরিষ্কার, পোকামাকড় ও রোগ দমন করেন।
অর্থাৎ, যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন জামান সাহেবের সফলতার কারণ।
কাঠের স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে কাঠ সিজনিং।
বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বৃক্ষের সর্বাধিক বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
গামার ও শিশু মাঝারি আবর্তনকালের উদ্ভিদ। কারণ, এদের কাঠ আংশিক শক্ত। খুঁটি ও কাঠ উৎপাদনের জন্য এদের ২০-৩০ বছর আবর্তনকালে কাটা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!