রত্নার প্রতি তার মায়ের আচরণ যৌক্তিক নয়। বয়ঃসন্ধিকালের মেয়ের প্রতি মায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। তার প্রতিটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। এ সময়ে মেয়েদের শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যার প্রভাব পড়ে তাদের মনের ওপর। তাই তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হয়।
উদ্দীপকে রত্না ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অর্থাৎ সে বয়ঃসন্ধিকালে অবস্থান করছে। এ সময় তার শরীরের পাশাপাশি মনেরও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। যার কারণে সে খুব চুপচাপ থাকে। মা জিজ্ঞেস করলে কিছু বলে না। নিজ ঘরেই সারাদিন কাটায়। মা রাগ করলে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে। তার মা মনে করেন সে এখন বড় হয়েছে। তাই তার উচিত নিজেই সব কাজ করা। কিন্তু তার এ আচরণটি যৌক্তিক নয়। কারণ রত্নার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে সে নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনে করে। কিন্তু তাকে বোঝাতে হবে তার এ পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক। এর জন্য তার মন খারাপ করা উচিত নয়। রত্নার মায়ের উচিত হবে তার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করা। তার সাথে সময় কাটানো। বাইরে চলাফেরায় তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তা জানতে হবে। তার সাথে সব বিষয় খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। তাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যেতে হবে। কিন্তু তা না করে রত্নার মা তাকে শাসন করেছেন। তার ওপর নিজের সকল কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে রত্না সবসময় মন খারাপ করে থাকে, সে ভাবে তার মা তাকে বোঝে না।
অর্থাৎ রত্নার মার আচরণ যথার্থ নয়। মায়ের সাথে যদি রত্নার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে না ওঠে তাহলে সে হতাশ হয়ে পড়বে। পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি বাবা-মার উচিত তাদের সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর ফলে সন্তানদের অনেক সমস্যাই তারা সহজে সমাধান করতে পারবেন।
Related Question
View Allবয়োবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিপক্বতা অর্জন হচ্ছে তারুণ্য।
সামাজিক অভিযোজন বলতে বোঝায় সামাজিক আচরণ করার জন্য নতুন ধরনের সংগতিবিধান।
সামাজিক অভিযোজন একটি বিকাশমূলক কাজ। সামাজিক অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- সমবয়সী দলের প্রভাব, সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, বন্ধু নির্বাচনের জন্য নতুন মূল্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।
তিতলী যে সময়টি পার করছে সেটি হলো তারুণ্য।
তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি স্তর। এই স্তরের বয়সসীমা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর। তিতলী ১৮ বছরের তরুণী। ইদানিং তার মাঝে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটে নতুন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো হলো-
তিতলী দৈহিক পরিবর্তন ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করেছে। এই পরিপক্বতা অর্জনের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ তার ডিম্বকোষ, জরায়ু, স্তন এবং উচ্চতা ও ওজনের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করে। অত্যধিক আবেগ প্রবণতা তরুণদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদের সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে থাকে। দেহের পরিবর্তন, মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে তারা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকে। তরুণরা 'স্বাধীনভাবে চলতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিলে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তরুণরা বাবা-মার কাছ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান নিতে চায় না। এরা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করার জন্য পূর্ণবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তিতলীর মাঝে নতুন আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব লক্ষ করা যায়। তরুণ বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের বীজ রোপিত হয়। এসময় শিশু কালীন মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় এবং ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটে।
তিতলীর আবেগীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এ বয়সে সে নিজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে, আত্মপরিচিতি অর্জন করে। তার মূল্যবোধেও পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তার এ বয়সে অনেক সময়ই বড়দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তিতলী নিজ লিঙ্গভুক্ত অথবা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদের কাছে কোন কোন গুণ প্রশংসিত হবে তা বুঝতে পেরে নিজেকে সংস্কার করার চেষ্টা করে। আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিতলী দলীয় আচরণের মানকে গ্রহণ করবে এবং সে মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করবে। দলের স্বীকৃতি অর্জণ ব্যর্থ হলে সে হীনম্নন্যতায় ভুগবে। ফলে ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটবে না। আদর্শ হিসেবে পরিবারের বা পরিবারের বাইরে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে এবং তার মতো হতে চাইবে। সৃজনশীলতার প্রকাশ তাকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে। তার আত্মধারণার ওপর অনুকূল প্রভাব ফেলবে। নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারলে তিতলীর আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, তিতলীর উল্লিখিত পরিবর্তন বয়সের কারণেই ঘটেছে।
যেসব দ্রব্য সেবনে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং দৈহিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘস্থায়ী, প্রকট' ও বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই দ্রব্যগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়।
অর্থনৈতিক কারণে তারুণ্যের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দারিদ্রকে তরুণদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। অসচ্ছলতার দরুন বাবা-মা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা সমবয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সমতা রক্ষা করতে পারে না। তাদের মধ্যে নৈরাজ্যের সঞ্চার হয়, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!