বেনে-বৌ পাখি ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত।
বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি- একথার মধ্য দিয়ে লেখক দেওঘর থেকে ফিরে আসার সময় সবাইকে বকশিশ দিলেও অতিথি কুকুরটিকে যে কিছুই দিতে পারেননি, সেই বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে রাস্তার একটি কুকুরের প্রতি লেখকের সহানুভূতিশীল হৃদয়ের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তিনি অভুক্ত কুকুরটিকে সাথে নিয়ে আসেন এবং খাওয়ান। পরবর্তীতে কুকুরটির সাথে তার সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি বাড়ির চাকরদেরকে বলে দেন ওই কুকুরটিকে খেতে দিতে। দেওঘর থেকে ফিরে আসার সময় কুকুরটি প্রতি মায়ায় তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। কুকুরটি আগে থেকেই স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। বাড়ির চাকরদের এবং তার সাথে স্টেশন পর্যন্ত আসা লোকদের তিনি বকশিশ দিয়ে বিদায় দেন। গাড়িতে চড়ে দেখেন যে, তার অতিথি কুকুরটি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তখন লেখক নিজের মনে উপলব্ধি করেন যে, সবাইকে বকশিশ দিলেও তার অতিথিকে কিছুই দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
রনির মধ্যে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের পশুপ্রীতির দিকটি ফুটে উঠেছে।
মানুষ স্নেহপ্রবণ বলে চারপাশের বিভিন্ন জীব-জন্তু, পশু-পাখির প্রতি তার স্নেহ-মমতা জন্মে। এ অনুভূতি থেকে অনেকেই বাড়িতে নানা রকম জীব-জন্তু, পাখি পোষে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপনে এসব পোষা প্রাণীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে একটি পোষা বিড়ালের সঙ্গে রনির সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। রনি স্কুল থেকে ফিরেই তার পোষা বিড়াল মিনির খোঁজ নেয়, তাকে খাবার খাওয়ায়, তাকে নিয়ে বাগানে খেলা করে। মিনিও রনির পড়ার সময় তার পায়ের কাছে বসে থাকে। উদ্দীপকের রনির এই পশুপ্রীতি এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের পশুপ্রীতি সাদৃশ্যপূর্ণ। লেখকও তার অতিথি কুকুরটির খোঁজখবর নেন, তাকে খাবার দিতে বলেন। বাইরে হাঁটার সময় তাকে সঙ্গে নিয়ে যান। কুকুরটি তার পোষা নয়, কিন্তু অল্প দিনের পরিচয় হলেও তিনি প্রাণীটির প্রতি গভীর অনুরাগী। কুকুরটিও শেষ পর্যন্ত স্টেশনে লেখককে পৌঁছে দিয়ে তাঁর স্নেহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
"উদ্দীপকে বর্ণিত রনির অনুভূতি 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের সমধর্মী হলেও পুরোপুরি এক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পশু-পাখি, জীব-জন্তু মানব পরিবেশের অংশ। এরা মানুষের মতো কথা বলতে পারে না সত্য, কিন্তু একেবারে অনুভূতিশূন্য নয়। মানুষের স্নেহ-মমতা এরা প্রাণী হয়েও বুঝতে পারে এবং মানুষের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশও মানুষকে বোঝাতে পারে।
উদ্দীপকের রনির পোষা বিড়াল মিনি। সে মিনিকে খাওয়ায় এবং তাকে নিয়ে সে বাগানে বেড়াতে যায়। বিড়ালটিও রনির স্নেহ-মমতা, আদর-যত্ন বুঝতে পেরে বাধ্য হয়ে তার পায়ের কাছে বসে থাকে। এক্ষেত্রে রনির অনুভূতি 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতির সমধর্মী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের দু'জনের অনুভূতি পুরোপুরি এক নয়। কারণ লেখকের অতিথি কুকুরটি রনির বিড়ালের মতো পোষা নয়। পথে হাঁটতে গিয়ে তার সঙ্গে লেখকের পরিচয়। সেখান থেকে তাকে ঘরে নিয়ে আসেন। লেখক বাড়ির কাজের লোকদেরকে ওই কুকুরটির প্রতি যত্ন নিতে বলেছেন, খাবার দিতে বলেছেন। তারা কুকুরটিকে যত্ন করেনি, খাবারও দেয়নি, তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। শেষে পর্যন্ত লেখক কুকুরটিকে ছেড়ে দেওঘর থেকে বাড়ি ফিরে যান।
কিন্তু এ ধরনের ঘটনা উদ্দীপকের রনির বিড়ালের সঙ্গে ঘটেনি। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক ঘরে ফেরার সময় কুকুরটির সন্ধান করেছেন। কুকুরটিও লেখক অসুস্থ হলে লেখকের সন্ধান করেছে, তাকে শেষ বিদায় জানাতে স্টেশন পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছে। এখানে লেখক এবং ওই প্রাণীটির মধ্যে যে গভীর বন্ধনের অনুভূতি কাজ করেছে তা উদ্দীপকের রনির অনুভূতির চেয়ে বহুগুণ বেশি। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন।
চাকরদের ভয়ে লেখকের অতিথি কুকুরটি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।
লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।
উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।
উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!