বস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত কাঁচামালই বয়ন তত্ত্ব।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের পরই বস্ত্রের স্থান।
সৃষ্টির আদিতে মানুষের লজ্জা নিবারণের জন্য কোনো বস্ত্রের প্রয়োজন ছিলনা। কিন্তু সভ্যতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ লজ্জা ও শীত- তাপ থেকে আত্মরক্ষা ছাড়াও নানাবিধ প্রয়োজনে বস্তু পরিচ্ছদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। অর্থাৎ সভ্যতার অগ্রগতির সাথে রুচির পরিবর্তন হওয়ায় বস্ত্র পরিচ্ছদেও নানা বৈচিত্র্যতা দেখা দিয়েছে।
রনির পোশাকটি রেশম তত্ত্বর অন্তর্গত।
রেশমকে তত্ত্বর রানি বলা হয়। এই তত্ত্ব নরম, মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বিলাসবহুল ও ফ্যাশন বহুল বস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। রেশমি বস্তু সুতি ও লিনেনের চেয়ে ওজনে হালকা। এর বহুমুখী ব্যবহার উপযোগিতার কারণে শার্ট, ব্লাউজ অর্থাৎ ছেলে ও মেয়েদের পোশাক, সজ্জামূলক উপকরণের উপযোগী বস্ত্র ইত্যাদি এ তন্তু থেকে তৈরি করা হয়। স্থিতিস্থাপকতার জন্য এরূপ বস্ত্র দিয়ে নানা ধরনের কুঁচি, প্লিট, ঝালর প্রভৃতি ডিজাইনযুক্ত পোশাক সহজেই তৈরি করা যায়। রেশমি বস্ত্র দামি ও যত্নসহকারে ব্যবহার করলে অনেক দিন স্থায়ী হয়।
রনি গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে তার এক বড়বোন রনির জমকালো পোশাকটি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। সে জানতে চায় পোশাকটি কোন সুতা দিয়ে তৈরি। তখন রনি জানায় তার পোশাকটি অত্যন্ত দামি এক ধরনের সিল্ক তত্ত্ব দিয়ে তৈরি। এ থেকে বোঝা যায়, রনির পোশাকটি রেশম তন্তুর তৈরি। কারণ রেশম তন্তু থেকেই সিল্ক কাপড় তৈরি করা হয়।
রনির পোশাকটি রেশম তন্তুর তৈরি। রেশম তন্তুর কতগুলো মুখ্য গুণাবলি রয়েছে।
সাধারণত যেসব গুণ থাকলে কোনো আঁশ বা তন্তুকে বয়ন তন্তু হিসেবে গণ্য করা যায় সেসব বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কিছু আছে মুখ্য এবং কিছু রয়েছে গৌণ গুণাবলি। তন্তুর মুখ্য গুণাবলিগুলো হলো দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাত, তন্তুর অন্তর্নিহিত শক্তি, নমনীয়তা, সমরূপতা, আসঞ্জনপ্রবণ ইত্যাদি।
রেশম তন্তুর ব্যাসের চেয়ে দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে বড় হয়। সাধারণত তত্ত্বর ব্যাস যত সূক্ষ্ম হবে, তন্তু তত নমনীয় ও মসৃণ হবে। রেশম তন্তুর পর্যাপ্ত শক্তি আছে। ন্যূনতম শক্তি না থাকলে তন্তুকে সুতা বা বস্ত্রে পরিণত করা সম্ভব হবে না। প্রকৃতপক্ষে তন্তু কতটুকু টান সহ্য করতে পারে তা দিয়েই তন্তুর শক্তি প্রকাশ করা হয়। রেশম তন্তুর তৃতীয় মুখ্য গুণাবলি হচ্ছে এটি নমনীয়। যেহেতু সুতা ও বস্ত্র ভাঁজ করতে হয়, তাই বস্ত্রে ব্যবহৃত তত্ত্বকে অবশ্যই নমনীয় হতে হবে। নমনীয়তার জন্যই রেশম তন্তু দিয়ে সুতা পাকানো যায়। আসঞ্জনপ্রবণতা রেশম তন্তুর আরেকটি মুখ্য গুণাবলি এ বৈশিষ্ট্যের কারণে ছোট ছোট আঁশগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকে। যার ফলে তন্তু থেকে উৎপাদিত সুতা বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
Related Question
View Allবীজের চারপাশে যে আঁশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু। যেমন: তুলা, ক্যাপক।
বীজের চারপাশে যে আশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু।
সাংশ্লেষিক তন্তু এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।
প্রাকৃতিকভাবে সেলুলোজ ভিত্তিক নয় এমন পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া ঘটিয়ে যে পদার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং যার মধ্যে তন্তুর গুণাবলি বিদ্যমান থাকে তাকে সাংশ্লেষিক তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার, ভিনিয়ন, সরন ইত্যাদি তন্তু।
নাজমা বেগম রেয়ন তন্তুর কাপড় ব্যবহার করছেন।
রেয়ন তন্তুর অন্যতম গুণ হলো এর উজ্জ্বলতা। বিভিন্ন মাত্রায় এরূপ উজ্জ্বল তন্তু বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়া বহুমুখী ব্যবহারের জন্য এই তন্তু বেশ জনপ্রিয়।
রেয়ন তত্ত্বর রং ধারণ ক্ষমতা ভালো এবং এটি বাজারে সস্তা বস্ত্রের মধ্যে অন্যতম। এ তত্ত্বর বস্ত্র মজবুত, উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এগুলো সহজে ধোয়া ও যত্ন নেওয়া যায় বলে নাজমা বেগম এ তত্ত্বর কাপড় ব্যবহার করছেন। তবে এটি পরতে সুতি তত্ত্বর মতো আরামদায়ক নয়। গরমে এ কাপড় পরলে বেশ গরম অনুভূত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের নাজমা বেগম রেয়ন তন্তুর কাপড় ব্যবহার করছেন।
নাজমা বেগমের সহকর্মীরা তাঁকে আরামদায়ক কাপড় পরার পরামর্শ দিলেন। তাঁদের পরামর্শটি সঠিক।
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার জন্য আরামদায়ক পোশাক প্রয়োজন। রেয়ন তন্তুর পোশাক উজ্জ্বল, দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত হলেও এটির ব্যবহার আরামদায়ক নয়।
নাজমা বেগম ইদানিং গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন এবং তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় তাঁর সহকর্মীরা তাকে আরামদায়ক কাপড় পরার পরামর্শ দিলেন। এই পরামর্শটি যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি। নাজমা বেগম পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন বলে কৃত্রিম তন্তু হতে তৈরি রেয়নের কাপড় ব্যবহার করেন। এটি প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি কাপড়ের মতো আরামদায়ক নয়। এর ঘাম শোষণ করার ক্ষমতাও কম। ফলে এ কাপড় শরীরে তাপ পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এ কাপড় ব্যবহারের ফলে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। যদি নাজমা বেগম আরামদায়ক ও তাপ সুপরিবাহী কাপড় ব্যবহার করতেন তবে তিনি অসুস্থ হতেন না।
তাই আমি মনে করি, তাঁর সহকর্মীদের দেওয়া পরামর্শটি যুক্তিযুক্ত।
বীজের চারপাশে যে আঁশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু। যেমন: তুলা, ক্যাপক।
সাংশ্লেষিক তন্তু এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।
প্রাকৃতিকভাবে সেলুলোজ ভিত্তিক নয় এমন পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া ঘটিয়ে যে পদার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং যার মধ্যে তন্তুর গুণাবলি বিদ্যমান থাকে তাকে সাংশ্লেষিক তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার, ভিনিয়ন, সরন ইত্যাদি তন্তু।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!