কোনো সাধারণ অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করলে তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
নাবালক অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদার হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নাবালক (যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি) অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সকল অংশীদার সম্মত হলে কিছু সময়ের জন্য নাবালককে অংশীদারি ব্যবসায়ে সুবিধা প্রদানের জন্য গ্রহণ করা যায়। গ্রহণ করা হলেও নাবালক সীমাবদ্ধ অংশীদাররূপে গণ্য হয়। অর্থাৎ তার দায় মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে।
উদ্দীপকের সুমী কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন হিসেবে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করে না। তবে চুক্তি অনুযায়ী অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ- ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে।
উদ্দীপকে রনি, জনি ও তাদের আরও ৫ বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কম্পিউটার ব্যবসায় শুরু করলেন। সুমি কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞানে পারদর্শী। সে কারণে এ ব্যবসায়ে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সুমি কোনো মূলধন সরবরাহ করেনি। যেহেতু সুমি মূলধন সরবরাহ না করে শুধু নিজের শ্রম, মেধা ও দক্ষতাকেই পুঁজি হিসেবে নিয়োগ করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সুমী কর্মী অংশীদার।
রনির পাগল হওয়ায় ব্যবসায়টির আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন ঘটবে।
আবেদনের প্রেক্ষিতে যদি আদালত কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপের নির্দেশ প্রদান করে তবে তাকে আদালতের নির্দেশে বিলোপ সাধন বলে। ৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে আদালত এরূপ ব্যবসায় বিলোপের নির্দেশ দিতে পারে।
উদ্দীপকে রনি, জনি ও তাদের আরও ৫ বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি কম্পিউটার ব্যবসায় শুরু করলেন। হঠাৎ রনি পাগল হয়ে গেলে তাদের ব্যবসায়টি জটিলতার সম্মুখীন হয়। আর যেহেতু রনি পাগল হয়েছে। তাই আদালত ৪৪ ধারা অনুযায়ী কোনো অংশীদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ব্যবসায়টি বিলোপসাধনের নির্দেশ দিতে পারে।
সুতরাং, রনির পাগল হওয়ায় ব্যবসায়টির আদালতের নির্দেশে বিলোপ সাধন ঘটবে।
Related Question
View Allসাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।
অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!