একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূলধনী দ্রব্য এর অর্থসংস্থানের জন্য কিংবা মূলধনী দ্রব্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে। এসব দেশে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণ সামান্য হওয়ায় দেশগুলো বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের উপর নির্ভর করে। বৈদেশিক সাহায্য দেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলে এবং এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশ কোনো উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য নিজস্ব সম্পদ আহরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে পারে না। আজ পর্যন্ত বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল কোনো দেশ নিজেদের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়নি।
আর এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ, যে দেশকে বৈদেশিক সাহায্য পরনির্ভরশীল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির উপর উদ্দীপকের আলোকে নিচে মন্তব্য করা হলো-
বাংলাদেশ যেসব পণ্য দীর্ঘকাল ধরে বিদেশে রপ্তানি করে থাকে সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়। এ পণ্যের মধ্যে কয়েকটি কৃষিপণ্য এবং বেশির ভাগই কৃষিনির্ভর শিল্পদ্রব্য। কাঁচাপাট, পাটজাত দ্রব্য, চা, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, কাগজ ও নিউজপ্রিন্ট, নেপথা, ফার্নেস তেল ও বিটুমিন প্রভৃতি বাংলাদেশের প্রধান প্রচলিত রপ্তানি পণ্য। উদ্দীপকের সারণি লক্ষ করলে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রচলিত পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ১৯৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে এ পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ১৮৮৪ মিলিয়ন ডলার, যা ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় কম হয়েছে। আবার ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রচলিত পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ২১০২ মিলিয়ন ডলার, যা পূর্বের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, যেসব পণ্য পূর্বে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো না, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের সিংহভাগকে প্রতিনিধিত্ব করছে, সেসব পণ্যই হচ্ছে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য। এর মধ্যে তৈরি পোশাক (ওভেন, নিটওয়্যার, হোসিয়ারি পণ্য), হিমায়িত খাদ্য, হস্ত ও কুটির শিল্প, শাকসবজি, ফলমূল, ফুল, রাসায়নিক দ্রব্য উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত পণ্যের অবদান প্রায় ৮০ ভাগেরও বেশি। বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরাজমান মন্দার প্রেক্ষাপটেও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকের সারণি লক্ষ করলে দেখা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ২০৬৬০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে এ পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ২২,০২৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ২০১১-১২ অর্থবছরে অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির আয় পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার, ২০১২-১৩ অর্থবছরে অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির আয় ছিল ২৪,৩৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা পূর্বের তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষ ভূমিকা রাখছে। নাজিম স্যারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি তথা রপ্তানি করতে পারে বলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। কোনো দেশই সকল ভোগ্যপণ্য উৎপাদন করতে পারে না আবার অনেক পণ্য প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন করে।
এ অবস্থায় বৈদেশিক বাণিজ্য এসব পণ্যের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে মানুষের ভোগ ও অর্থনৈতিক কল্যাণ বৃদ্ধি করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কারণে প্রতিটি দেশেই বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন দুই-ই বাড়ে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে একেক দেশ এক-একটি পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়ণ করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং উৎপাদন বাড়ে। বাণিজ্যের ফলে যেহেতু বিনিয়োগ বাড়ে, সেহেতু প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হয়। প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন ও মাথাপিছু আয় বাড়ে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ফলে দেশে দেশে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির সূত্রপাত হয়। ফলে দেশে - দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ কমে যায় এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবাদে পারস্পরিক স্থায়ী বন্ধুত্ব সৃষ্টি হলে বড় রকমের প্রাকৃতিক ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হয়। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি সংকটের সময় এক দেশ অপর দেশকে সাহায্য করে। এছাড়াও বাজার সম্প্রসারণ, উপকরণের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, প্রযুক্তি আমদানি, কৃষি ও শিল্পোন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষ ভূমিকা রাখছে। আর এটি সম্ভ
হয়েছে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!