GDP এর পূর্ণরূপ হলো Gross Domestic Product.
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী, (সাধারণত এক আর্থিক বছরে) দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয়ের যোগফলই হলো মোট জাতীয় আয়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন এবং তাদের আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম মোট দেশজ উৎপাদনের জিডিপি গণনার সময় যেসব নির্ধারকসমূহ হিসাব করেন তা হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন, প্রযুক্তি ও সচলতা। নিচে এদের ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো-
মোট দেশজ উৎপাদন ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে। প্রাকৃতিক সম্পদের পর্যাপ্ততা ও সহজে ব্যবহার করা সম্ভব হলে এবং
কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উর্বর ভূমি থাকলে দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আবার যেকোনো দেশের শ্রম মোট দেশজ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। দক্ষ ও কর্মক্ষম শ্রম মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক। শ্রমিক যদি প্রযুক্তির ব্যবহার জানে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তবে মোট দেশজ উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয় থাকে।
মূলধন মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। উন্নত দেশসমূহে মোট দেশজ উৎপাদন মূলধনের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। প্রযুক্তির উন্নয়ন নানাভাবে হতে পারে। যেমন- নতুন আবিষ্কার, যন্ত্রপাতির ডিজাইন ও দক্ষতার উন্নতি, নতুন মালামালের আবিষ্কার ইত্যাদি। একটি অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়া অর্থনৈতিক কার্যকলাপ থেকে সম্পদ সরিয়ে নতুন প্রসারমান অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সম্পদ ব্যবহার করার ক্ষমতাকে সচলতা বলে, যার ওপর মোট দেশজ উৎপাদন নির্ভর করে।
বাংলাদেশের জিডিপি নির্ধারণে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় না সেগুলো হলো-
মূলধনী লাভ-ক্ষতি, মাধ্যমিক দ্রব্য ও সেবা, মূল্যহীন দ্রব্য ও সেবা, সরকারি ঋণের সুদ, বেআইনি কাজ ইত্যাদি।
মূলধনী লাভ বা ক্ষতি জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না। কারণ সময় ব্যবধানে সম্পদের মূল্য পরিবর্তন হলে লাভ বা ক্ষতি জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে না। ফলে জাতীয় আয় গণনায় লাভ- ক্ষতির প্রভাব শূন্য। জাতীয় আয় গণনার সময় শুধু চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা বিবেচিত হয়। কারণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যের ভেতরেই মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত হয়। এজন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবাকে জাতীয় আয় গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না।
অর্থনীতিতে এমন কিছু দ্রব্য ও সেবা রয়েছে যেগুলো বাজারের মাধ্যমে বেচা-কেনা হয় না। যেমন- মা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন, মহিলাদের সাংসারিক কাজকর্ম ইত্যাদি। এজন্য জাতীয় আয় গণনায় এসব পণ্য ও সেবার মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। আবার, বেআইনি কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় জাতীয় আয় গণনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না। যেমন- মাদকদ্রব্য, জুয়াখেলা, কালোবাজারে দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি কাজের ফলে সৃষ্ট মূল্য জাতীয় উৎপাদন গণনার সময় বিবেচনা করা হয় না। সুতরাং বলা যায়, GDP হিসাবের সময় বাংলাদেশে উপরের উপাদানগুলো বিবেচনা করা হয় না। অর্থাৎ, জিডিপি (GDP) গণনার ক্ষেত্রে এগুলোকে হিসাব বহির্ভূত বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!