জ্ঞাতি সদস্যদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার পদ্ধতিকেই বর্ণনামূলক জ্ঞাতিসম্পর্ক বলে।
লেভিরেট ও সরোরেট হচ্ছে পাত্র-পাত্রীর পরিচিতির ভিত্তিতে বিবাহের দুটি প্রকারভেদ।
লেভিরেট বিবাহ রীতিতে কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর যেকোনো ভাইকে বিবাহ করে। সাধারণত ওই বিধবার কোনো সন্তান থাকলে অথবা পরিবারের মধ্যে সম্পত্তির রেখে দেওয়ার জন্য এ ধরনের বিবাহ সংঘটিত হয়। আর সরোরেট বিবাহ প্রথায় কোনো ব্যক্তি তার মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করে। আমাদের সমাজে এর উদাহরণ পাওয়া যায়। সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ককে স্থায়ী করতে অথবা অল্প বয়সী শিশু সন্তানের লালন-পালনের সুবিধার্থে অনেকে এই পথ বেছে নেন।
বিবাহোত্তর বসবাসের ভিত্তিতে শফিক মাতৃবাস পরিবার গঠন করেছে।
মাতৃবাস পরিবারে বিবাহিত নবদম্পতি স্ত্রীর পিতৃগৃহে বসবাস করে। বাংলাদেশের গারো উপজাতি সমাজে মাতৃবাস রীতি প্রচলিত। বাংলাদেশের সমাজে যদিও পিতৃবাস রীতিই প্রধানত অনুসৃত হয় তথাপি কখনোবা বিশেষ বিশেষ অবস্থায় মাতৃবাস রীতিও পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত কোনো কৃষি পরিবারের একজন ব্যক্তির যদি পুরুষ সন্তান না থাকে তখন তিনি কখনোবা তার কোনো এক মেয়ের জন্য এমন পাত্র নির্বাচন করেন যে তার বাড়িতে বসবাস করবে বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, শফিক গ্রামে থাকেন। বিয়ের পর তিনি তার নিজের বাবার বাড়িতে বসবাস না করে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করেন। অর্থাৎ তিনি মাতৃবাস পরিবার গঠন করেছেন। কারণ পাঠ্যবইয়ে আমরা জেনেছি বিয়ের পর নবদম্পতি স্ত্রীর পিতৃগৃহে বাস করলে তাকে মাতৃবাস পরিবার বলে।
উদ্দীপকে রফিক অণুপরিবার গঠন করেছে। বর্তমানে নানা কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বামী-স্ত্রী দুইজন মিলে গঠিত পরিবার অথবা তাদের সঙ্গে তাদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত পরিবারকে অণুপরিবার বলা হয়। উদ্দীপকে রফিক বিয়ে করে তার নববিবাহিত স্ত্রী নিয়ে শহরে বসবাস করে। অর্থাৎ সে তার স্ত্রী নিয়ে অণুপরিবার গঠন করেছে। বর্তমানে অণুপরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো কর্মস্থলের সুবিধা। কাজের সুবিধার জন্য মানুষ কর্মস্থলের কাছে অণুপরিবার গঠন করছে। এছাড়া আধুনিক জীবনের প্রত্যাশায় মানুষ যৌথ পরিবার ভেঙে শহরে এসে অণুপরিবার গঠন করছে। অনেক সময় সন্তানদের পড়ালেখার সুবিধার জন্য মানুষ যৌথ পরিবার ভেঙে অণুপরিবার গড়ে তুলছে। বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অধিক খরচ কমাতে মানুষ অণুপরিবার গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমাদের সমাজে - বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়ই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাগ্রহণ শেষে নারীরা বিভিন্ন কর্মের সাথে নিজেদের যুক্ত করছে। কর্মজীবী নারীরা ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার জন্য তারা অণুপরিবার গঠনে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মস্থলের সুবিধা, উচ্চশিক্ষা লাভ, আধুনিক জীবনযাত্রা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রভৃতি কারণে মানুষ বর্তমানে অণুপরিবার গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!