যৌবনের গান' প্রবন্ধে সূর্যকে আলোর দেবতা বলা হয়েছে।
তরুণের সাধনা হলো জড়বুদ্ধি ও ভীরুতার মূলে কুঠারাঘাত' করে জীবনকে সমৃদ্ধি ও আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
পশ্চাৎগামী চিন্তা, কুসংস্কার, সন্দেহপ্রবণতা ও সংশয়- এসবই হলো বার্ধক্যের বৈশিষ্ট্য। তরুণেরা এর বিপরীত পথে যেতে বদ্ধপরিকর, কারণ তারা পুরাতন পৃথিবীকে ভেঙে নতুন করে সাজাতে চায়। নতুন জীবনের সাধনাই তরুণের সাধনা।
তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য না থাকায় উদ্দীপকের জামান সাহেবের সাথে আলোচ্য প্রবন্ধের বার্ধক্য চেতনার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে বলতে পারি, আমরা সাধারণত বয়সের মাপকাঠিতে তারুণ্য ও বাধাকে নিরূপণ করে থাকি। যার দেহের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে, চক্ষুদ্বয় কোটরাগত, দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য কমে এসেছে, তাকেই আমরা বৃদ্ধ বলে থাকি। কিন্তু সত্যিকার যৌবন ও 1 যথার্থ বার্ধক্য বয়সের উপর নির্ভর করে না। বয়সে নবীন অথচ রুচি ও মানসিকতায় যারা বার্ধক্যের গণ্ডিতে আবদ্ধ, তারাই বৃদ্ধ বলে চিহ্নিত। যা মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকে, যা পুরাতনকে ত্যাগ করতে চায় না, যা কুসংস্কার-অন্যায়-অশিক্ষার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে না- তাই বার্ধক্য। অশীতিপর বৃদ্ধও যদি অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, লেখক তাকে নবীনের দলে স্থান দিতে চান। কারণ বার্ধক্যের মানদণ্ড হলো মন ও কর্ম; বয়স নয়।
উদ্দীপকের জামান সাহেব যুবক হওয়া সত্ত্বেও তার আচরণে বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে। কারণ তার রুচি-মন-মানসিকতায় যৌবনের ছাপ পড়েনি। তিনি ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে সবসময় অর্থের পিছনে ছোটে। জগতের কল্যাণমুখী কাজ থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখেন। তাই তাকে আলোচ্য প্রবন্ধ অনুসারে বার্ধক্যের প্রতীক বলা হয়েছে।
যৌবনের গান' প্রবন্ধে ও উদ্দীপকে তারুণ্য ও বার্ধক্যের দ্বন্দ্বময় স্বরূপ বিশ্লেষিত হয়েছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক যৌবনকে বলেছেন তিমিরবিদারী। যে সমাজ অন্ধ, আদর্শ ও সংস্কারে আবদ্ধ, সে সমাজকে যৌবনের শক্তি দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব। যৌবন হলো বহমান স্রোতের মতো। তাকে বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। যৌবনের শক্তি ও বার্ধক্যের জড়তা থাকে মানুষের মনে।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। কিন্তু তিনি যৌবনের প্রাণশক্তিতে ভরপুর। অসহায়ের পক্ষে তিনি কথা বলেন। নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে তিনি এগিয়ে যান সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে। তাঁর এ কাজের জন্য তিনি সমাজের সব মানুষের কাছে অনুকরণীয় আদর্শ। অপরদিকে, জামান সাহেব ত্রিশ বছর বয়সি হলেও নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। তাই সমাজের কোনো মানুষের কাজেই তিনি আসেন না। তার ভিতরে আমরা বার্ধক্যের জড়তা লক্ষ করি।
আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপক অনুসারে একজন বৃদ্ধ মানুষ যদি যৌবনের শক্তিতে ভরপুর হয়ে তরুণের দলে মিশে যান তাহলে তিনিই হয়ে ওঠেন তারুণ্যের প্রতীক। অন্যদিকে বৃদ্ধ সেই, যার হৃদয়ে প্রাণশক্তির অভাব রয়েছে। যার ভিতরে কোনো কর্মস্পৃহা নেই, যার প্রাণে অসহায়ের জন্য কোনো আকুতি নেই, সমাজের উন্নয়নমূলক কোনো চিন্তা নেই, সে-ই বৃদ্ধ। বয়স যত কমই হোক না কেন, এ রকম মানুষকে সমাজ কখনো তরুণের দলে ফেলবে না। উদ্দীপকের জামাল সাহেবের মতো সেও বৃদ্ধ বলে পরিগণিত হবে।
Related Question
View Allগানের পাখিকে তাড়া করে বায়স-ফিঙে।
উদ্ধৃতাংশে ধ্যানী বলতে মূলত যাঁরা অন্তরালে থেকে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন তাঁদের বোঝানো হয়েছে।
তরুণদের এক সভায় আমন্ত্রিত হয়ে প্রাবন্ধিক তারুণ্যের জয়গান করে ভাষণ প্রদান করেন। সে সভায় তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেন, যৌবনশক্তি সংকীর্ণ জাতিগত ধর্মের মধ্যে সীমিত নয়; তা বিশ্বজনীন উদার মানবধর্মের ব্রতে আত্মনিষ্ঠ। মানবকল্যাণে নিবেদিত এ তরুণেরা বড়ো বড়ো কথা বলে আস্ফালন করে বেড়ায় না, বরং নীরব সাধনায় ফুল ফোটানোর মতো সুকঠোর ব্রত পালন করে। তরুণদের এ সাধনাকে ধ্যানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রাবন্ধিক তাই বলেছেন, তিনি আজ তাঁদেরই দলে, যাঁরা কর্মী নন, ধ্যানী।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপের প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণদের সমাজসেবামূলক কাজকে প্রাবন্ধিক যৌবনের মাতৃরূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মা যেমন সন্তানকে সমস্ত অকল্যাণ থেকে আগলে রাখে তেমনই যৌবন মাতৃরূপে মানবসমাজকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে। মায়ের মতো স্নেহ ও মমতা নিয়ে যৌবনধর্ম দুর্বল ও দুর্দশাগ্রস্তের পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের কর্মকাণ্ডে যৌবনের এ কল্যাণকামী বৈশিষ্ট্যই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব যৌবনধর্মে উদ্দীপ্ত হয়ে সমাজের কল্যাণে আত্মনিবেদন করেছেন। মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখেন এবং মেয়েদের স্কুলে পাঠান। এভাবেই তিনি দুর্বলের ও অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের কর্তব্য সাধন করেন। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মাতৃরূপটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত ফারুক সাহেব বয়সের জালে বন্দি হলেও মনকে অবমুক্ত করে রেখেছেন। তিনি রাস্তার দুধারে গাছ লাগান, রাস্তার গর্ত ভরাট করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। মানবকল্যাণে কাজ করতে তার কোনো ক্লান্তি নেই। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও এসব কর্মকাণ্ডের মানসিকতাকে তারুণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যৌবনের গান' প্রবন্ধের চেতনানুযায়ী অফুরন্ত প্রাণশক্তি উদ্দীপকের বয়স্ক ফারুক সাহেবের মাঝে লক্ষ করা যায়।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি কাজী নজরুল ইসলাম দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের জয়গান গেয়েছেন। যৌবন মানুষের জীবনকে গতিশীল, সেবাব্রতী ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। কাজী নজরুল ইসলামের মতে, যৌবনকে বয়স দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিও প্রাণশক্তির দিক থেকে যৌবনপ্রাপ্ত হতে পারে। আবার বয়সে তরুণ একজন ব্যক্তি যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তিকে ধারণ করতে পারে। মূলত মানুষের প্রাণশক্তি ও কর্মোদ্যম দ্বারাই যৌবন বা বার্ধক্য নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের ফারুক সাহেব বয়সে বৃদ্ধ হলেও চিন্তা-চেতনা ও কর্মের দিক থেকে যুবক। কর্ম থেকে অবসর নিলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের যৌবনের গান' প্রবন্ধে যৌবনের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকের ফারুক সাহেবের মধ্যে তার সবই বিদ্যমান। আলোচ্য প্রবন্ধানুসারে বয়স দ্বারা নয়; বার্ধক্যকে সংজ্ঞায়িত করা হয় রক্ষণশীলতা, জড়তা, সংস্কারাচ্ছরাতা ও পশ্চাৎপদতা দ্বারা। আর যার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাকে বয়স বেশি হওয়া সত্ত্বেও 'বার্ধক্য আক্রান্ত' বলে অভিহিত করা যায় না। তাই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ অনুসারে, ফারুক সাহেবের বার্ষকাকেও বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়নি।
বনের পাখির মতো গান করা কবির স্বভাব
কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন কারণ তারা সকল ধর্মের, সকল দেশের, সকল জাতির ও সর্বকালের হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করে থাকে।
ঘুণেধরা সমাজকে বসবাসের উপযোগী করে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণেরা কুসংস্কার, অনাচার ও বার্ধক্যের মূলোৎপাটন করে। জাতিকে স্বপ্নময় নতুন সমাজ উপহার দিতে তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। এভাবে অন্ধকারকে দূর করে জগৎকে আলোকিত করে বলেই তাদের আদশ হিসেবে গ্রহণ করে কবি তরুণদের দলভুক্ত হতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!