যখন স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ, খাদ্যের শোষণ ব্যাহত হয় ও খাদ্য উপাদানের অপচয় দেহে বৃদ্ধি পায় তখন পথ্যের প্রয়োজন হয়।
পথ্য পরিকল্পনায় সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়, রোগটির কারণ ও রোগটি সম্পর্কে ধারণা থাকা আবশ্যক।
এসকল বিষয়ে ধারণা থাকলে কোন রোগে কী জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণ হবে তা নির্ধারণ করা সহজ হয়। যেমন- জ্বর হলে ক্যালরিবহুল পথ্য, কিডনির সমস্যায় প্রোটিন নিয়ন্ত্রিত খাদ্য সরবরাহ করা উচিত। তাই পথ্য পরিকল্পনায় অবশ্যই রোগের বৈশিষ্ট্য জানা দরকার।
রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব অপরিসীম। কিছু কিছু রোগে বিশেষ বিশেষ খাদ্য বর্জন করা প্রয়োজন হয়। যেমন- শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে মিষ্টি জাতীয় তথা শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দেওয়া জরুরি।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তার জন্য নিষিদ্ধ কিছু খাবার রয়েছে। সেগুলো হলো চিনি, গুড়, মধু, শরবত, যেকোন মিষ্টি জাতীয় খাদ্য, জ্যাম, জেলী, মিষ্টি, কেক ইত্যাদি। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে ব্যক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এ কারণেই রফিক সাহেবের জন্য এসকল খাবার নিষিদ্ধ।
ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি ও ইনসুলিনের মাত্রা কমে গেলে এ সমস্যাটি দেখা দেয়। এতে শরীর দুর্বল লাগে, সহজেই ক্লান্তি আসে।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবের বেশি খাওয়ার দরুন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় ডাক্তার তাকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধির পরামর্শ দিলেন।
কারণ ডায়াবেটিসে শর্করা বিপাকে বিঘ্ন ঘটে এবং শর্করার পরিমাণ রক্তে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শরীর যদি স্থূলাকার হয়ে যায় তবেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পরিশ্রমের সুযোগ যাদের কম তাদের শরীর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এদেরও গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের ওজন ঠিক রেখে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা সম্ভব। তাছাড়া যেহেতু এ রোগে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায় সেহেতু ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ডাক্তারের পরামর্শটি আমি যৌক্তিক বলে মনে করি।
Related Question
View Allরক্ত প্রবাহের সময় রক্তবাহী নালির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।
শাকসবজি ও তরল খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। কারণ এগুলোর আঁশ কোষ্ঠ পরিষ্কারে সহায়তা করে। সুষম খাদ্যে যতটা শাকসবজি থাকা দরকার কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তার দ্বিগুণ পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে। এ সময় চা-কফি বর্জন করা ভালো।
জামান সাহেবের শারীরিক লক্ষণসমূহ হৃদরোগকে নির্দেশ করছে। হৃদরোগে হৃৎপিণ্ডের ধমনীর গায়ে চর্বি ও অন্যান্য স্নেহপদার্থ জমে ধমনীর ভিতরের গাত্র সরু হয়ে হয়ে যায় এবং অবরোধের সৃষ্টি করে।
ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল, অক্সিজেন সরবরাহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ বাধা প্রাপ্ত হয়, হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদপেশি নষ্ট হয় এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
জামান সাহেবের শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়ই তার বুক ধড়ফড় এবং বুকে ব্যথা করে। এ লক্ষণগুলো হৃদরোগকেই নির্দেশ করে। হৃদরোগ নানা কারণে হয়ে থাকে। মধ্যবয়সী অথবা তার বেশি বয়সে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। শরীরের ওজন বেশি হলে তাদের মধ্যে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যারা শারীরিক পরিশ্রম করে না তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বর্তমান যুগের মানসিক চাপ হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। বংশগত হৃদরোগ থাকলে এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যারা অধিক ধূমপান করেন তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় উপাদান থাকলে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে।
'সচেতনতাই পারে জামান সাহেবকে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে' উক্তিটির সাথে আমি একমত।. সঠিকভাবে নিয়মকানুন মেনে জীবনযাপন করলে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হৃদরোগের অন্যতম কারণ হলো দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া। শারীরিক পরিশ্রম না করলেও হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া খাবারে চর্বি জাতীয় উপাদান হৃদরোগে আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
জামান সাহেব হাঁটাচলা কম করেন। শারীরিক পরিশ্রমও তেমন একটা করেন না। কিন্তু তিনি খেতে খুব ভালোবাসেন। এর ফলে তার শরীরের ওজনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি সচেতনভাবে জীবন যাপন করেন তাহলে তিনি সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন। তাই তাকে কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে।
জামান সাহেবকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজন কমানোর জন্য তাকে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমাতে হবে। চিনি, মধু, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বর্জন অথবা পরিমিত পরিমাণ গ্রহণ করতে হবে। শাকসবজি, লেবু জাতীয় ফল, চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, গোটা ডিম সপ্তাহে ১-২ বার গ্রহণ করতে হবে। চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, মগজ, চিংড়ি মাছ, দুধের সর, আইসক্রীম, দুধের ঘন পায়ে, লবণ, ভাজা খাদ্য, পনির ইত্যাদি বর্জন করতে হবে। উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তাকে খাদ্যে সোডিয়ামের পমিাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজনে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জামান সাহেবকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতে হবে। কোনো রকম মানসিক চাপ নেয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে জীবন-যাপন করলে জামান সাহেব হৃদরোগ-নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি নিয়ম মেনে না চলেন তাহলে তার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য জামান সাহেবের উচিত হবে উপরিউক্ত নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা।
আঁশ জাতীয় খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
খাবার গ্রহণের কতক্ষণ পর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ মলরূপে দেহ থেকে নিষ্কাশন হবে তা নির্ভর করে খাদ্যের প্রকৃতির ওপর। শাকসবজি ও আঁশ জাতীয় খাদ্য মল দ্রুত নিষ্কাশনে সাহায্য করে। এছাড়া এ ধরনের খাদ্য মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই আঁশ জাতীয় খাদ্য ও শাকসবজি বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!