কিয়াসের রুকন চারটি।
ফিকহচর্চা মানুষের জ্ঞানকে পরিপূর্ণ করে বলে এটি ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের প্রতীক। ফিকহচর্চা, সাধনা, গবেষণা ও জ্ঞানার্জন ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত করে। কেননা এর ফলে সে শরিয়তের সব বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। সে জেনে যায় এসব বিধান প্রবর্তনের নেপথ্যে উদ্দেশ্য ও কারণ থাকে। ফলে তাকে সহজে বিপথগামী করা যায় না এবং সে শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব অর্জন করে।
রবার্ট ব্রাউনিং ইসলামি শরিয়তের চতুর্থ উৎস কিয়াসটি লক্ষ করেছেন। কুরআন ও হাদিস হলো ইসলামি শরিয়তের প্রধান দুটি উৎস। এই দুটি উৎস হলো মূলনীতি বা ভিত্তিস্বরূপ। যখন কোনো সমস্যার সরাসরি সমাধান কুরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না তখন কিয়াসের আশ্রয় নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কুরআন-হাদিসই মূল ভিত্তি। উদ্দীপকে এ দিকটিরই ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকের বিধর্মী গবেষক রবার্ট ব্রাউনিং ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি তার গবেষণায় দেখেছেন যে, মুসলমানরা কুরআন-হাদিসে যখন সরাসরি কোনো সমস্যার সমাধান পায় না তখন কুরআন-হাদিসের ভিত্তিতে গবেষণার মাধ্যমে উক্ত সমস্যার - সমাধান করে। এর মধ্য দিয়ে কিয়াসেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। - কারণ গবেষণার বিষয়টি কিয়াসের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইয়েমেন প্রেরণের পূর্বে রাসুল (স) মুয়ায (রা)-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে লোকদের মধ্যে ফয়সালা করবেন? মুয়াজ (রা) বলেন, 'প্রথমে আল্লাহর কিতাব দ্বারা। সেখানে না পেলে রাসুলুল্লাহ (স) এর সুন্নাহ দ্বারা ফয়সালা করব। সেখানেও 'না পেলে আমি কুরআন-হাদিসের আলোকে আমার নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে ফয়সালা করব।' এ ঘটনার মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে কিয়াসের ইঙ্গিতই প্রদান করা হয়েছে।
উদ্দীপকে ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভবের কারণ হিসেবে ইসলামের প্রসারের অনুষঙ্গটি উল্লিখিত হয়েছে, যা ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভবের কারণের আংশিক উপস্থাপনা।
ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভব বলতে স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে এর উদ্ভবের বিষয়টিই বোঝানো হয়। যুগের প্রয়োজনেই এই শাস্ত্রটির উদ্ভব ঘটেছে। মহানবি (স)-এর জীবদ্দশায় এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, যা উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে ইসলামের প্রসার ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। বরং মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর সাহাবিগণের যুগে এসে প্রথম ফিকহশাস্ত্রের মতো একটি বিন্যস্ত আইনি সংকলনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। সে সময় ইসলামের প্রসারের সাথে সাথে নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হতে থাকে। এই সমস্যাগুলোর ওপর তখন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গবেষণা হতে থাকে। পরবর্তীতে সাহাবি (রা)-গণের যুগের শেষেও মুসলিম উম্মাহগণ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। তাদের ভেতর নানা বিষয়ে অসংখ্য মতবিরোধ চলতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকে ইমাম আবু হানিফার হাত ধরে ফিকহশাস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ উদ্ভব ঘটে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামের প্রসারের বিষয়টি ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভবের আংশিক সূচনার ইঙ্গিত দেই ।
Related Question
View Allসিহাহ সিত্তাহ বলতে বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে বোঝায়। হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগে হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে ছয়জন মুহাদ্দিস এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থ বিশেষ প্রাধান্য পায়। এগুলো সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভ করে। ইলমে হাদিসের পরিভাষায় তাদের সংকলিত বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। এগুলো হলো- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবন মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ। হাদিস সংকলকদের নাম অনুযায়ী উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।
জনাব ময়নুল দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হাদিস অধ্যয়ন করেন- যার গুরুত্ব অপরিসীম।
হাদিস অর্থ- কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। উদ্দীপকে এ উৎসের আলোকপাত হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব ময়নুল কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য হাদিস অধ্যয়ন করেন। মূলত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবন চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার- আচরনের বাস্তব প্রতিকৃতি। সুতরাং ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে।
উদ্দীপকে মাওলানা ফখরুলের কর্মটি ফিকহশাস্ত্র নিয়ে। ইসলামি শিক্ষা প্রসারে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহ শব্দের অর্থ- অনুধাবন করা, বুঝতে পারা ইত্যাদি। পরিভাষায় যে শাস্ত্রে কর্মসংক্রান্ত তথা ব্যাবহারিক জীবনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত শরিয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান আলোচিত হয়, সে শাস্ত্রকে বলা হয় ফিকহশাস্ত্র বা ইলমুল ফিকহ। উদ্দীপকে এ শাস্ত্রেরই ইঙ্গিত এসেছে।
উদ্দীপকের মাওলানা কুরআন হাদিস গবেষণা করে এর বিধি-বিধান একটি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। তার কাজটি ইসলামি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রসারে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। কেননা কুরআন নাজিল সমাপ্তি ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বসাধারণের উপযোগী করে শরয়ি বিধান পরিবেশনের জন্য মূলনীতি ও বিধানাবলির চুলচেরা বিশ্লেষণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া কুরআন-হাদিসের অবিন্যস্ত ও বিক্ষিপ্ত বর্ণনা ইসলামি আইনের বিন্যাস ও সহজ উপস্থাপনার উপযোগিতা সৃষ্টি করে। ফিকহশাস্ত্র শরয়ি বিধানের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়। বিধান গুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে এগুলোকে বিন্যস্ত করে সব দেশের সাধারণ মানুষের উপযোগী করে। সর্বোপরি এ শাস্ত্রবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহজ উপস্থাপনার রীতি গ্রহণ করে আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মানুশীলনকে সহজসাধ্য করেছে।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর সংযোগকারী বিষয় হলো- ইবাদত।
ইসলামের প্রসারের ফলে সাহাবিদের যুগে ফিকহশাস্ত্র বিকশিত হয়। সাহাবিদের যুগে ইসলাম দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। সাহাবিগণ সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিসের মূলনীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় তারা ইজতিহাদের সূচনা করেন। এরপর ইজতিহাদি বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত করে সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রয়াস পান। ফলে এ যুগে স্বতন্ত্র ফিকহশাস্ত্র সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!