হিটাইটকে লৌহ সংস্কৃতির আদি উৎপত্তিস্থল বলা হয়।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধের কারণে শহুরে পরিবারের বন্ধন গ্রামের মতো দৃঢ় নয়।
বর্তমান যুগ হলো- গতিময়তার যুগ। শিল্পায়ন, নগরায়ণ যেমন সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন করেছে, উন্নত জীবনের হাতছানি দিয়ে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের জন্ম দিয়েছে; তেমনি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন শহরের মানুষের জীবনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এর মাধ্যমে শহরের মানুষ মুহূর্তের মধ্যে তার জীবনকে পরিবর্তন করে নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে শহরের পরিবারগুলোতে। উন্নত জীবনের আশায় যৌথ পরিবার কাঠামো ভেঙে পড়ছে। শিথিল হতে শুরু করেছে পারিবারিক বন্ধন। আর এ কারণে শহুরে পরিবারের বন্ধন গ্রামের মতো দৃঢ় নয়।
উদ্দীপকের কানু সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
বিশশতকের প্রথম ভাগে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে সাঁওতালরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার রাজ্য ও অন্যান্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে। বর্তমানে সাঁওতালরা রাজশাহী, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও দিনাজপুর জেলায় বাস করে। সাঁওতাল পরিবারব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। সম্পত্তিতে পুত্রদের সমান অধিকার থাকলেও কন্যাদের কোনো অধিকার নেই। তবে সম্পত্তি বণ্টনের সময় পিতা প্রত্যেক কন্যাকে একটি করে গাভী প্রদান করে থাকেন। সাঁওতাল সমাজব্যবস্থা গোত্রভিত্তিক। তারা ১২টি গোত্র বা টোটেমে বিভক্ত। এ গোত্রগুলোকে 'পারিস' বলা হয়। সাঁওতালরা মূলত দুটি ধর্মের অনুসারী। তাদের এক অংশ সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করে এবং অপর অংশ খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছে। সাঁওতালদের প্রধান দেবতা সূর্য এবং তাদের গ্রাম দেবতার নাম মারাংবুরো।
উদ্দীপকের রবিন তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে জানতে পারে তারা ১২টি গোত্রে বিভক্ত এবং মারাংবুরো নামক দেবতার পূজা করে। শুধু তাই নয় তাদের সমাজে সম্পত্তিতে মেয়েদের কোনো অধিকার নেই। রবিনের জানা বিষয়টি এবং উপরের সাঁওতাল সমাজের আলোচনার মধ্যে তুলনা করলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের কানু সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান তথা পাহাড়পুরের গুরুত্ব বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসে অপরিসীম।
পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস রচনায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। পাহাড়পুর বিহারের নির্মাণশৈলী, বৌদ্ধ মূর্তি, হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি এবং পোড়ামাটির ফলক দেখে অনুমান করা হয় যে, এ অঞ্চলে বৌদ্ধ এবং হিন্দু সমাজের প্রভাব ছিল। রাজা বা সম্রাট ধর্মীয় কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পাহাড়পুরে প্রাচীন ও মধ্য যুগের মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়। ধারণা করা হয় যে, সে সময়ের সমাজে মুদ্রা, অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছিল। পাহাড়পুরে যে তাম্রলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে কোনো এক ব্রাহ্মণ দম্পতি পূজা ও বিশ্রামাগারের জন্য কিছু ভূমি ক্রয় ও দান করেছেন বলে লিপিবদ্ধ আছে। ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং দান- সংক্রান্ত তথ্য একথা প্রমাণ করে যে, ভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছিল। এছাড়া আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের সময়ের প্রাপ্ত মুদ্রা থেকে বহির্বিশ্বের সাথে অর্থাৎ আরব দেশগুলোর সাথে ব্যবসা- বাণিজ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভূমিতে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং মুদ্রা অর্থনীতির ফলে সামাজিক অসমতা এবং সামাজিক স্তরবিন্যাস সৃষ্টি হয়েছিল বলে ধারণা করা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের অবদান অনস্বীকার্য।
Related Question
View All১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়।
চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীর লেখা পাওয়া যায়। এসব সমাজচিন্তাবিদগণ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন। যার ফলে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করা হচ্ছে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডিএন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্ক্সবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীদের লেখা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এসব সমাজচিন্তাবিদদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করে। এ বর্ণনার আলোকে বলা যায়, এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীকেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জেরি ও জেরির ভাষায়, 'ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হলো মানুষের এমন এক গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উৎসারিত একটি পরিচয় বহন করে'। প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থাকে। নৃবিজ্ঞানী ন্যারোল-এর মতে, অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন সম্পর্কে দলীয় সচেতনতা হলো ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর সদস্যদের মূল উপাদান। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানী কোহেন ও ইয়ামস ক্ষুদ্র সম্প্রদায় তথা উপজাতি বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন, যারা তাদের জীবিকার জন্য খাদ্যসংগ্রহ, উদ্যান, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। আবার উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, যে গোষ্ঠীর সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে তারাই হলো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এসব সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার-আচরণ, প্রথা, বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা, অনুসরণীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামে ক্ষমতার বিকাশ ও প্রয়োগ ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, “শ্রেণিসমূহের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ সমাজে সামাজিক শক্তিসমূহ যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, তাকে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলা যেতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমি মালিক ও বর্গা চাষিদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অংশ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!