যে মূলধন কাঠামোতে মূলধন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়, তাকে কাম্য মূলধন কাঠামো বলে।
সংরক্ষিত আয়ের ব্যয়, নতুন সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয়ের চাইতে কম হওয়ার কারণ হচ্ছে উত্তরণ ব্যয়।
উত্তরণ ব্যয় হচ্ছে সিকিউরিটিজ ইস্যু ও বিক্রয় সংক্রান্ত খরচ। সংরক্ষিত মুনাফা হতে তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন শেয়ার ইস্যু করতে হয় না। ফলে সংরক্ষিত মুনাফার ব্যয় নির্ণয়ে উত্তরন ব্যয় জড়িত নয়। কিন্তু নতুন শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে উত্তরণ ব্যয় জড়িত। এজন্য সংরক্ষিত আয়ের ব্যয়, নতুন সাধারণ শেয়ারের মূলধন ব্যয়ের চাইতে কম হয়।
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয়মূল্য ( P০ )= ৫০ টাকা
শেয়ারপ্রতি প্রত্যাশিত লভ্যাংশ = ৫ টাকা
লভ্যাংশ প্রবৃদ্ধির হার (g) = ৫ % বা, ০.০৫
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয়,
= ১৫%
সুতরাং রবি কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ১৫%।
রবি কোম্পানি কোন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে তা জানার জন্য মূলধনের প্রত্যেক উৎসের ব্যয় নির্ণয় করতে হবে।
এখানে
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ১০%
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (Ke) = ১৫% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
ঋণপত্রের ব্যয় নির্ণয় :
দেওয়া আছে,
করপূর্ববর্তী ঋণপত্রের ব্যয় (Ki) = ১৩ %
করের হার (T) = ৩০ % বা, ০.৩০
আমরা জানি,
করপরবর্তী ঋণপত্রের ব্যয় ,
= ১৩ % ( ১ - ০.০৩ )
= ৯.১০%
সুতরাং রবি কোম্পানি ঋণপত্র ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে বলে আমি মনে করি। কারণ ঋণপত্রের ব্যয় ৯.১০% যা সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ১৫% ও অগ্রধিকার শেয়ারের ব্যয় ১০% অপেক্ষা কম।
Related Question
View Allইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে।
যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় বলতে সাধারণত লভ্যাংশ ও শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। অন্যভাবে, সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বলতে বিনিয়োগকারীদের সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের সাথে শেয়ার ইস্যু ও বিক্রয়জনিত খরচ জড়িত। তাই বলা যায়, 'সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় আছে'।
নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
সাধারণ শেয়ারের বাজারমূল্য ( P০ )= ২০০ টাকা
প্রত্যাশিত লভ্যাংশ (D1) = ১৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৪ % বা, ০.০৪
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়,
=
= ১১.৫০%
সুতরাং নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় ১১.৫০%।
নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (K) = ১১.৫০% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ৮%
করপূর্ববর্তী ঋণের ব্যয় (K) = ১০%
কর হার (T) = ৪০% বা, ০.৪০
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = = ৬%
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
ঋণ মূলধন (বন্ড) এর ভার
আমরা জানি,
ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয়,
WACC = WeKe + WpKp + WdKd
= ৯.১৫ %
সুতরাং নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় ৯.১৫%।
নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত আয় বলে।
ইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে। কারবারে সঠিক মূলধন কাঠামো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইক্যুইটি ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণের অনুপাতের ওপর মূলধন কাঠামোর খরচ নির্ভর করে। বিকল্প অনুপাতে মূলধন ব্যয় কম হলে সে মূলধন কাঠামো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!