কবিতা লিখতে হলে জানতে হবে নানা রকমের শব্দ।
কবিতা লিখতে হলে শব্দের রং চিনতে হবে।
কবিতা মূলত শব্দের খেলা। বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলোর গায়ে হলুদ-সবুজ-লাল-নীল-বাদামি-খয়েরি রং রয়েছে। অনেক শব্দ আছে যেগুলোর শরীর থেকে সুর বেরোয়। সে সুর বাঁশির সুর, আবার কোনো কোনো শব্দে শোনা যায় হাসির সুর। কবিতা লিখতে হলে এসব শব্দের সাথে পরিচিত হতে হবে।
উদ্দীপকে 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের কবিতা লেখার প্রধান উপাদান শব্দ ব্যবহারের দিকটি ফুটে উঠেছে।
কবিতা লেখার প্রধান উপকরণ শব্দ। 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন, 'কবিতা লিখতে হলে প্রথমে জানতে হবে নানা রকমের শব্দ।' কবিতা একধরনের শব্দ নিয়ে খেলা। স্বপ্নের মাধ্যমে মনের ভিতরে যে সুন্দর সুন্দর ভাবের উদয় হয়, তা-ই কবিতায় বাণীরূপ লাভ করে। এই ভাবকে শব্দ ও ছন্দের রঙিন সাজপোশাক পরিয়ে দিলেই কবিতা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে কবিতা রচনার প্রসঙ্গটি এসেছে, এসেছে শব্দ ব্যবহারের মতো বিষয়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি কবিতার শব্দ নবগোপালবাবুর কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়। এ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দূবৃহ শব্দ প্রয়োগ করেছিলেন। তাই কবি পরবর্তী সময়ে লেখাটিকে সরল ও সুখপাঠ্য করার জন্য সহজসরল শব্দ ব্যবহার করেননি বলে আফসোস করেছেন। একইভাবে, আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও শব্দকে কবিতার মূল উপকরণ গণ্য করে শব্দ চয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকে প্রবন্ধের কবিতা লেখার প্রধান উপাদান শব্দ ব্যবহারের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের শুধু শব্দ ব্যবহারের দিকটির উল্লেখ থাকায় এটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্রতাকে ধারণ করে না।
'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কবিতার রচনা-কৌশল সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সংজ্ঞাসহ কবিতা লেখার ধাপসমূহ নিয়ে সুচিন্তিত মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যা পড়লে মনের ভিতরে স্বপ্ন জেগে ওঠে, ছবি ভেসে ওঠে এবং আমরা আন্দোলিত হই, তাই কবিতা।
উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশবকালীন কাব্যচর্চা ও তা নবগোপালবাবুকে শোনানোর প্রসঙ্গটি এসেছে। নবগোপালবাবু তাঁর কবিতার একটি দুরূহ শব্দ বুঝতে অসমর্থ হন। পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি'তে ঘটনাটির উল্লেখ করে এ বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, সহজসরল শব্দ প্রয়োগ করলে কবিতার ছন্দহানি হয় না। তাঁর এই মন্তব্যে কবিতা লেখার প্রধান অনুষজ্ঞঙ্গ শব্দ ব্যবহার রীতির একটি দিক উন্মোচিত হয়েছে।
'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিক সাহিত্যের অন্যতম শাখা কবিতার শিল্পরূপ ও বৈশিষ্ট্যের উপর আলোকপাত করেছেন। সেখানে কবিতা লেখার প্রধান উপাদান ভাব, শব্দ ও ছন্দ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রবন্ধটিতে কবিতা রচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে বুকে স্বপ্ন জমানোর কথা বলা হয়েছে। কেননা প্রাবন্ধিক মনে করেন, বুকে স্বপ্ন থাকলে অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়েও কবিতা লেখা যায়। উদ্দীপকে এসব বিষয় উপস্থাপিত হয়নি। সেখানে কেবল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশবকালীন কাব্যচর্চার প্রসঙ্গ বর্ণনার সূত্রে পরোক্ষভাবে শব্দের ব্যবহাররীতি নিয়ে মন্তব্য পাওয়া যায়। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allকবিতা লেখার জন্য প্রথমেই স্বপ্নের প্রয়োজন।
যেকোনো কিছু বানাতে হলে যেমন উপকরণ বা জিনিসের দরকার হয়, তেমনই কবিতা লেখার জন্যও দরকার হয় রংবেরঙের শব্দের।
শব্দের পর শব্দ সাজিয়েই কবি প্রকাশ করেন- রূপ-রস-গন্ধ-সুর-ছবি। কবির মনোভাব ব্যক্ত করতে প্রয়োজন পড়ে রংবেরঙের হাজারো শব্দের। কবির কবিতায় এসব শব্দ ছন্দের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তি দ্বারা একথাই বোঝানো হয়েছে।
'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে কবি প্রকৃতিকে দেখার কথা বলেছেন; বুকের মধ্যে ছবি, রং, সুর জমাতে বলেছেন। যা উদ্দীপকের নির্ঝরের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিফলিত হয়েছে।
'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে ছোটোদের চারপাশের প্রকৃতিকে দেখতে বলা হয়েছে। ছোটো বয়সে দেখা এসব কিছু বুকে জমাতে বলা হয়েছে। প্রাবন্ধিক মনে করেন, গভীরভাবে দেখা, কবিতার বই পড়া এবং মায়াবী শব্দ ও ছন্দ অনুধাবনে একদিন সেসব বিষয় কবিতা হয়ে ধরা দেবে।
উদ্দীপকের নির্ঝরকে তার ফুফু মাহফুজা প্রায়ই নানা রকম কবিতা শোনান। এজন্য সে তার ফুফুকে খুব পছন্দ করে। নির্ঝর একদিন ফুফুর কাছে ভালো কবিতা লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে ফুফু তাকে চারপাশের সুন্দর স্বপ্নময় শব্দ বুকে ধারণ করতে বলেন। কেননা, ভবিষ্যতে এসব সুন্দর স্বপ্নময় শব্দ নিবিড়ভাবে কবিতা লেখার প্রেরণা জোগাবে। উদ্দীপক ও 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে কবিতা লেখার উপকরণ প্রকৃতির রূপ -গন্ধ-সৌন্দর্য অবলোকন ও আত্মস্থ করার কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে উদ্দীপকের নির্ঝরের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
মাহফুজার উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূলভাবকে ধারণ করে।
শব্দের সঙ্গে শব্দ মিলিয়ে কবিতা লেখা হয়। তাই কবিতা লিখতে গেলে শব্দকে চেনা জরুরি। ছেলেবেলা থেকেই চারপাশের শব্দগুলোকে চিনতে হবে। তাদেরকে মনে গেঁথে নিতে হবে। তবেই কবি হওয়া সম্ভব, ভালো কবিতা রচনা করা সম্ভব।
উদ্দীপকের মাহফুজার উক্তিটি কবিতা লেখার মূল প্রেরণাকে ধারণ করেছে। একইভাবে পঠিত প্রবন্ধেও কবিতা লেখার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। আমাদের চারপাশে সুন্দর সুন্দর স্বপ্নময় শব্দ রয়েছে। উদ্দীপকে এ শব্দকে চেনার ও বুকে লালন করার কথা বলা হয়েছে।
সাহিত্যের এক অনন্য শাখা কবিতা। কবিতা লিখতে হলে শব্দের কথা ভাবতে হবে। শব্দ নিয়ে খেলতে হবে। 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে তেমন বক্তব্যই ফুটে উঠেছে। একথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে উদ্দীপকের মাহফুজার বক্তব্যেও। কবিতা লিখতে হলে নানা রকম শব্দের রূপ-রস-গন্ধ-বর্ণ চিনতে হবে। তবেই সার্থক কবিতা লেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। কবিতা লেখার জন্য শব্দের সৌন্দর্যই মূলকথা। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের মাহফুজার উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূলভাবকে ধারণ করেছে।
'চমকপ্রদ' শব্দের অর্থ যা অবাক করে দেয়।
কবিদের ভাষার সৌন্দর্যকে প্রকাশ করতে প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
কবিরা কবিতা লিখেন আর কবিতা লেখার জন্য প্রয়োজন হয় নানা রকম শব্দ, শব্দের প্রতি ভালোবাসা। কবিদের শব্দের প্রতি ভালোবাসা আছে তাই তারা শব্দকে আদর করে সুখ অনুভব করেন। গোলাপের মতো সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, চাঁদের মতো স্বপ্ন দেখেন। শব্দের জন্য আদর-ভালোবাসা না থাকলে গোলাপের মতো সুন্দর করে কথা বলা যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
