মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করে আমাদের চলার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর প্রিয় রসুল মুহাম্মদ (স)-এর মাধ্যমে। মুহাম্মদ (স) সমগ্র পৃথিবীর সব মানুষের জন্য রাসুল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে যে ঐশী গ্রন্থের আলোকে জীবন চলার পথ দেখিয়েছেন তাই হলো আল কোরআন। মানুষের জীবনের সব সমস্যার সঠিক দিক নির্দেশনা রয়েছে এ মহাগ্রন্থের মধ্যে। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো তাকওয়া। আর এ তাকওয়া অর্জনের অন্যতম উপায় হলো সাওম বা রোযা। রোযা মুসলমানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে একটি শারীরিক ফরজ ইবাদত। পবিত্র রমজান মাসে এই রোযা রাখা ফরজ। রমজান এমন একটি সম্মানিত মাস যে মাসে সকল ইবাদতের জন্য অতিরিক্ত সাওয়াবের ঘোষণা রয়েছে। এই মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কুরআন। যেখানে বলা হয়েছে ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ রোযার প্রকৃত হাকীকত হলো তাকওয়া- হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাকওয়া হলো মানুষের হৃদয়ের এমন একটি অবস্থার নাম যার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পাপাচারের প্রতি আকর্ষণ দিনে দিনে কমতে থাকে।
Related Question
View All"الم" (আলিফ-লাম-মীম) কুরআনের শুরুতে আসা এক ধরনের বিশেষ বর্ণমালা, যাকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তা‘আত (বিচ্ছিন্ন বর্ণ)
মর্মার্থ ও তাৎপর্য
- অর্থ রহস্যময়
- এর সঠিক অর্থ কেবল আল্লাহ তায়ালাই জানেন।
- ইসলামের প্রাচীন যুগ থেকেই আলেমরা এর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু চূড়ান্ত অর্থ গোপনই রাখা হয়েছে।
- কুরআনের অলৌকিকতার অংশ
- এই বর্ণগুলো কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এসেছে।
- অনেক আলেমের মতে, এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ এর মধ্যে এক বিশেষ সংকেত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, এটি কুরআনের ভাষাগত ও সাহিত্যিক অলৌকিকতার প্রমাণ।
- মানুষের জন্য শিক্ষা
- আল্লাহর জ্ঞানের সামনে মানুষের জ্ঞান সীমিত—এটি বিনম্রভাবে স্বীকার করার শিক্ষা দেয়।
- আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কুরআনের প্রতিটি হরফেই গভীর জ্ঞান ও রহস্য লুকিয়ে আছে।
- যেসব সূরায় এসেছে
- সূরা আল-বাকারাহ (২:১)
- সূরা আলে ইমরান (৩:১)
- সূরা আল-আনকাবুত (২৯:১) — ইত্যাদি
মুত্তাকী (المتقين) শব্দটি এসেছে তাকওয়া (تقوى) থেকে, যার অর্থ আল্লাহভীতি, সতর্কতা, ও গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা। কুরআন ও হাদিসে মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য:
- গায়েবের প্রতি ঈমান রাখা (আল্লাহ, ফেরেশতা, আখেরাত ইত্যাদি)
- সালাত কায়েম করা
- আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করা
- কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বিশ্বাস রাখা
- আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা
গুনাহ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকা, এমনকি সন্দেহজনক বিষয় থেকেও বিরত থাকা
هدى للمتقين — “মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের প্রভাব ও ফল লাভ করেন কেবল আল্লাহভীরু ও সত্যগ্রহণে প্রস্তুত মানুষ।
এখানে "হিদায়াত" বলতে কার্যকর দিকনির্দেশনা বোঝানো হয়েছে—যা শুধু সেই ব্যক্তির জীবনে প্রভাব ফেলে, যে তা গ্রহণ করতে চায়।
هدى للناس — “মানবজাতির জন্য হিদায়াত”
- কুরআনের বার্তা সবার জন্য উন্মুক্ত।
এখানে কুরআনের সর্বজনীন বার্তা বোঝানো হয়েছে—এটি জাতি, ধর্ম, ভাষা নির্বিশেষে সবার জন্য পথপ্রদর্শক।
মূল শিক্ষা
- কুরআন সবার জন্য নাজিল হয়েছে (هدى للناس), কিন্তু প্রকৃত উপকার পান তারা, যাদের অন্তরে তাকওয়া আছে (هدى للمتقين)।
- যেমন বৃষ্টি সবার জমিতে পড়ে, কিন্তু ফসল জন্মায় শুধু সেই জমিতে, যা প্রস্তুত ও উর্বর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!