নতুন নিশান উড়িয়ে স্বাধীনতা আসবে।
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো নিরীহ মানুষকে কামানের গোলায় নিশ্চিহ্ন করে দিতে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি যুদ্ধবাজদের নির্মম অত্যাচারের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তারা নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। রূপকথার গল্পের দানবের মতো চিৎকার করতে করতে কামানের গোলার তীব্র শব্দ নিয়ে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক প্রথম ঢাকা শহরে প্রবেশ করেছিল। সেই ট্যাঙ্কের গোলায় প্রাণ যায় অগণিত নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালির এবং উজাড় হয় বাসস্থান, বস্তি।
উদ্দীপকটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর অত্যাচারের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালিরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশের নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। রাজাকারদের সহায়তায় মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। নারী-শিশু-বৃদ্ধ কেউ তাদের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্বর হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার এক নারীর কথা বলা হয়েছে। তিনি নিজের বাড়িতেই পাকিস্তানি হানাদারদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। হানাদাররা তাঁর ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র সব পুড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, হত্যা ও নারী নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি সাকিনা বিবির কপাল ভাঙার এবং হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়ার যে কথা বলেছেন, তাতে এ দিকটিই নির্দেশিত হয়েছে। উদ্দীপকের রমা চৌধুরীর ঘরবাড়ির মতো কবিতায়ও ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় এবং গ্রামের পর গ্রাম ছাই হওয়ার কথা বলা হয়েছে। র
উদ্দীপকের মূলভাব এবং 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।- মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগ যুগ ধরে বিদেশি শাসকেরা এদেশ শাসন ও শোষণ করেছে। বাঙালিরা তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে জীবন উৎসর্গ করেছে। সর্বশেষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১১৯৭১ সালে এদেশের মানুষের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা ২৫শে মার্চ গভীর রাতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 'বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুদের পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার শিকার এক নারীর কথা বলা হয়েছে। এই নারী 'একাত্তরের জননী' খ্যাত বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি নিজ বাড়িতে হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সম্ভ্রম হারান। উদ্দীপকের নারী নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের এ ঘটনাটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও সাকিনা বিবি ও হরিদাসীদের করুণ পরিণতির মধ্যে প্রতিফলিত। সেখানেও গ্রামের পর গ্রাম ছাই হওয়ার কথা রয়েছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের ভয়াবহতা, পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসলীলা, নারী নির্যাতন, অন্যায়-অত্যাচার 'ইত্যাদির প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকেও পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচার, নারী নির্যাতন, নির্মমতা ইত্যাদি দিক প্রতিফলিত। এভাবে উদ্দীপকের মূলভাব কবিতার মূলভাবের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা পড়েছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!