রমিজ উদ্দিনের 'কান্নায়' ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ফুটে উঠেছে। আর মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলতে মুসলমানদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসাকে বোঝায়। ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পর ভাই-ভাই। তারা যে বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলেরই হোক না কেন একই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। মুসলমানদের এ পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব। আল্লাহ ও রাসুল (স.)-এর ওপর 'রিশ্বাস স্থাপনকারী বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। সবাই এক আদর্শ, এক বিশ্বাস, এক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত। তাই একজন মুসলিম অপর মুসলিমকে ভাই বলে গণ্য করবে। আর পরস্পরের প্রতি এ অনুভূতি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও সম্ভাব প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের কোনো প্রান্তে কোনো মুসলিম বিপদে পড়লে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করবে, তার কল্যাণ কামনা করবে। মহানবি (স.) বলেছেন, "মুমিনগণ পরস্পর মিলে একটি ইমারতস্বরূপ। এর এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে।" (বুখারি ও মুসলিম)
উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনের সাথে একত্রে হজ পালনকারী মালয়েশিয়ার এক হাজির মৃত্যুর খবর শুনে, রমিজ উদ্দিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন; যার মধ্যে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব স্পষ্ট পরিলক্ষিত।
পরিশেষে বলা যায়, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইসলামি ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম, যা প্রদত্ত উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনের কান্নায় প্রকাশ পেয়েছে।
Related Question
View Allনমরুদের মূর্তিপূজার বিরোধিতা করায় হযরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।
উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য মহানবি (স.) বলেন, "উত্তম চরিত্রের পূর্ণতাদানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।" সকল নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতাদানের জন্য শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়েছেন।
পরমতসহিষ্ণুতা গুণের অভাবে লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়া হয়।
পরমত বলতে বোঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ, সেটা ধর্মীয় হতে পারে, আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে। উদ্দীপকের লিপি ও হ্যাপির মধ্যে ঝগড়ার মূল কারণ একজনের পছন্দকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যা পরমতসহিষ্ণুতার পরিপন্থি। আর একটি সুস্থ ও সুন্দর সামাজিক জীবনের জন্য পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। পারিবারিক জীবনের সুখ-শান্তি এর ওপর নির্ভরশীল। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন বা সহানুভূতির মনোভাব পোষণ করার মাধ্যমে পারিবারিক শান্তি লাভ করা যায়।
সাব্বির ও মনিরের ভূমিকায় সমাজসেবার গুণটি ফুটে উঠেছে।
সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত কাজই সমাজসেবা। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা নামে পরিচিত। সমাজসেবা একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের সম্পদশালী মানুষ পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের উন্নয়ন ঘটানো সামাজিক দায়বদ্ধতা। শিক্ষা-চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের প্রিয়ভাজন হওয়া সম্ভব। উদ্দীপকের সাব্বির ও মনির আহত পথচারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জনসেবার অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসুল (স.) বলেন, আল্লাহ বান্দাদেরকে ততক্ষণ সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাব্বির ও মনিরের কাজটিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আমাদের সকলেরই মানুষের কল্যাণে সমাজের সেবায় এগিয়ে আসা উচিত।
নারীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী হলেন হযরত আয়েশা (রা.)।
পৃথিবীর সকল মানুষের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)-এর সন্তান বিশ্বে সকল মানুষ ভ্রাতৃসম।
আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। যার ফলে মানুষ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের সব মানুষ এক পিতামাতার সন্তান হওয়ায় বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়েছে। মহানবি (স.) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই আদম (আ.) হতে এবং আদম মাটি হতে সৃষ্টি। (বুখারি)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!