একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মজুরিতে উৎপাদনকারী বা নিয়োগকর্তা যে পরিমাণ শ্রম নিয়োগ দিতে চায়, তাকে শ্রমের চাহিদা বলে।
দামস্তর স্থির থেকে আর্থিক মজুরি বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বারা জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় বলে প্রকৃত মজুরিও বৃদ্ধি পায়।
সাধারণত প্রকৃত মজুরি হলো আর্থিক মজুরির ক্রয়ক্ষমতা ও কর্মস্থল হতে প্রাপ্ত অন্যান্য সুবিধার সমষ্টি। এখন, দামস্তর স্থির থেকে আর্থিক মজুরি বাড়লে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পূর্বের চেয়ে সে বেশি পরিমাণে ভোগ করতে পারে। তথা জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। কাজেই বলা যায়, দাম স্থির থেকে আর্থিক মজুরি বাড়লে প্রকৃত মজুরিও বৃদ্ধি পায়।
নিচে উদ্দীপকে উল্লিখিত রমিজের প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হলো।
শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দিয়ে যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং চাকরিস্থল হতে প্রাপ্ত যেসব আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে- এ দুয়ের সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রমিজ একটি বৃহৎ নৌযানের শ্রমিক। তার মাসিক মজুরি ২০,০০০ টাকা এবং খাবার, পোশাক ও তার পরিবারের বাসস্থান নৌযান কর্তৃপক্ষ থেকে পেয়ে থাকে। তাই, রমিজের আর্থিক মজুরি ২০,০০০ টাকার ক্রয়ক্ষমতা ও নৌযান কর্তৃপক্ষ হতে প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তথা খাবার, পোশাক ও তার পরিবারের জন্য বাসস্থান সুবিধার সমষ্টি হলো রমিজের প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ দামস্তর P এবং প্রকৃত মজুরি Wr হলে,
এখানে, C = খাবার, পোশাক ও পরিবারের বাসস্থান।
রমিজ স্থায়ী ও দক্ষ শ্রমিক হওয়ায় সে বশির অপেক্ষা আর্থিক ও প্রকৃত মজুরি বেশি পায়।
সাধারণত, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন শ্রমিক তার শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে যে অর্থ পেয়ে থাকে, তাকে আর্থিক মজুরি বলে। আর এই আর্থিক মজুরিকে দাম (P) দ্বারা ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফল এবং কর্মস্থল হতে প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় রমিজের আর্থিক মজুরি ২০,০০০ টাকা এবং প্রকৃত মজুরি হলো ২০,০০০ টাকায় ক্রয়ক্ষমতা এবং খাবার, পোশাক ও পরিবারের বাসস্থানের সুযোগের সমষ্টি। অন্যদিকে, বশির দৈনিক ২০০ টাকা করে প্রতি মাসে (২০০ × ৩০) বা ৬,০০০ টাকা আর্থিক মজুরি পায়। আর, তার প্রকৃত মজুরি হলো ৬,০০০ টাকার ক্রয়ক্ষমতা এবং খাবারের সুযোগের সমষ্টি। অর্থাৎ, রমিজের আর্থিক মজুরি ২০,০০০ টাকা, যেখানে বশিরের আর্থিক মজুরি ৬,০০০ টাকা। আবার বশির অপেক্ষা রমিজ নৌযান কর্তৃপক্ষ থেকে বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে।
তাছাড়া যে সকল কাজে অধিক দক্ষতার প্রয়োজন ও ঝুঁকি বেশি থাকে, সে সকল কাজে আর্থিক ও প্রকৃত মজুরি বেশি হয়।
তাই উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, বশির অপেক্ষা রমিজ বেশি দক্ষ হওয়ায় এবং কর্মক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকি থাকায় রমিজের আর্থিক ও প্রকৃত মজুরি বেশি।
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
শ্রমের গতিশীলতা বলতে শ্রমিকের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে, এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, কিংবা একই পেশায় এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হওয়াকে বোঝায়।
একজন শ্রমিক তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং স্বার্থে এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন, একই কাজে এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে গমন করতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তনই হলো শ্রমের গতিশীলতা। যেমন- একজন শ্রমিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে ঔষধের ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে পারে, আবার চট্টগ্রামের শ্রমিক ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে পারে।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে আফসার দম্পত্তির শ্রমের যোগান রেখা নিচে অঙ্কন করা হলো-

প্রদত্ত সূচিতে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী প্রতি ঘণ্টায় ২৫ টাকা মজুরিতে ১৬ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রের ও বিন্দু দ্বারা দেখানো
হয়েছে। একইভাবে মজুরি ৪০ টাকা, ৬০ টাকা, ৭৫ টাকা এবং ১০০ টাকা হলে তারা যথাক্রমে ২০ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা, ২০ ঘণ্টা এবং ১৮ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d এবং বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। এখন প্রাপ্ত a. b, c, d ও বিন্দুগুলো যোগ করে SLSL শ্রমের যোগান রেখা পাওয়া যায় যা সাধারণ যোগান রেখার মতো না হয়ে পশ্চাৎমুখী হয়েছে।
মজুরি বেড়ে যাওয়ায় যদি শ্রমিক মনে করে তার জীবনে পূর্বের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বেড়েছে, তবে সে অধিক বিশ্রামের প্রতি মনোযোগী হয়। এ
কারণেই শ্রমের যোগান রেখার সাথে অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
সাধারণত, মজুরির সাথে শ্রমের যোগানের সম্পর্ক সমমুখী। তাই শ্রমের যোগান রেখা অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার মতো ঊর্ধ্বগামী। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মজুরিতে যদি শ্রমিকরা সন্তুষ্ট থাকে কিংবা মনে করে পূর্বের চেয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, তাহলে ঐ নির্দিষ্ট মজুরির পর আরও মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি না পেয়ে বরং হ্রাস পায়। যার ফলশ্রুতিতে পশ্চাৎগামী যোগান রেখার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী 'আজাদ ফেব্রিক্স' নামক একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। কাজের প্রথম দিকে মজুরি বাড়ানো। হলে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যেমন- মজুরি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হলে শ্রমঘণ্টা ১৬ থেকে বেড়ে ২০ হয়। আর ৬০ টাকা মজুরিতে শ্রমের যোগান ২৪ ঘণ্টা হয়। এরপর মজুরি আরও বাড়লে শ্রমের যোগান হ্রাস পেতে থাকে। ফলে শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎদিকে বেঁকে যায়।
শ্রম হলো একটি জীবন্ত উপাদান। অর্থাৎ শ্রম ও শ্রমিক একই সূত্রে গাঁথা। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আয় বাড়লে সে বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রতি মনোযোগী হয়। এর ফলে মজুরি বাড়ানো হলেই অন্যান্য পণ্যের মতো যোগান বাড়তে থাকে না। বরং তা একটি নির্দিষ্ট মজুরির পর কমতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, মজুরির হার বাড়ানোর পর শ্রমিকরা অধিক মজুরিতে সন্তুষ্ট থাকায় শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎগামী হয়।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয় কারণ মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে।
শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির সাথে শ্রমের যোগান বাড়বে। একপর্যায়ে মজুরি যখন অধিক হবে তখন শ্রমিক আরাম-আয়েশে মনোনিবেশ করবে। তখন শ্রমিক শ্রমঘণ্টা কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়ালে শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। তাই দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় শ্রমের মজুরি ও যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বৃদ্ধির পর, মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ কারণে শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!