শেয়ার হলো যৌথ উদ্যোগে ব্যবসায় চালানোর জন্য জনগণের অর্থ বিনিয়োগের একটি প্রক্রিয়া।
মানুষের জীবনে নানা সংকট মোকাবেলায় সঞ্চিত অর্থ সাহায্য করে।
পরিবারে কোনো সদস্যের মৃত্যু, অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতা এবং আকস্মিক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সহায় সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রভৃতি সংকট দেখা দিতে পারে। এ সকল পরিস্থিতিতে সঞ্চিত অর্থ সংকট মোকাবেলায় সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তহবিলগুলো হলো বাধ্যতামূলক সঞ্চয়।
বাধ্যতামূলক সঞ্চয় সরকারি নিয়মের আওতাধীন বা নিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানে আজকাল এ বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের প্রচলন রয়েছে। বাধ্যতামূলক সঞ্চয়কে কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে উদ্দীপকে উল্লিখিত ভবিষ্যৎ তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও যৌথ বিমা তহবিল উল্লেখযোগ্য। নিয়োগকর্তার কাছে কোনো চাকরিজীবী বা প্রতিষ্ঠানের কর্মী তার মূল বেতনের একটি নির্ধারিত অংশ ভবিষ্যত তহবিলে শতকরা হার হিসেবে জমা রাখে। এ অর্থ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদসহ ক্রমশ বাড়তে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে এ তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণ করা যায়। এ ঋণ কয়েকটি কিস্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বেতনের ১% এবং সর্বোচ্চ ৫০ টাকা প্রতি মাসে কল্যাণ তহবিলে চাঁদা দিতে হয়। যদি কোনো কর্মচারী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন, চাকরিরত অবস্থায় বা অবসর গ্রহণের ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন বা আর্থিক দুরবস্থায় পড়েন তখন কল্যাণ তহবিলের সাহায্য পাওয়া যায়।
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বেতনের ০.৭০% হারে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা যৌথ বিমা তহবিল চাঁদা প্রদান করতে হয়। কোনো কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার যৌথ বিমা তহবিল থেকে এককালীন সাহায্য পেয়ে থাকে।
আমাদের দেশে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের পাশাপাশি আরও সঞ্চয়ী ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আমি এ কথাটির সাথে একমত।
বাংলাদেশে ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছামূলক সঞ্চয়ের অনেক মাধ্যম রয়েছে। পরিবার এ উপায় বা মাধ্যম নিজেদের পছন্দমতো নির্বাচন করে। এ ধরনের সঞ্চয়ের মাধ্যমগুলো নিম্নরূপ- ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়: ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখলে অর্থ নিরাপদে থাকে, আবার মুনাফাও লাভ করা যায়। ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।
১. চলতি হিসাব (Current Account): এ হিসাব থেকে যেকোনো সময় টাকা তোলা যায় এবং এতে সুদের হার খুব কম।
২. সঞ্চয়ী হিসাব (Savings Account): চলতি হিসাবের তুলনায় মুনাফার হার বেশি। তবে বিশেষ অনুমতি ছাড়া সপ্তাহে দুবারের বেশি টাকা তোলা যায় না।
৩. স্থির জমার হিসাব (Fixed Deposit Account): এ হিসাবে নির্দিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকে আমানত রাখা হয় এবং এর জন্য নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
ডাকঘর: ডাকঘর জনসাধারণের টাকা গচ্ছিত রাখে। ডাকঘরে টাকা জমা রাখার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা:
১. সাধারণ হিসাব: মাত্র দুই টাকা দিয়ে এ হিসাব খোলা যায় এবং পরবর্তীকালে যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা দেয়া যায়।
২. মেয়াদি হিসাব: এ হিসাবে ১ বছর, ২ বছর ও ৩ বছর মেয়াদে টাকা খাটানো যায় এবং ছয় মাস অন্তর অন্তর নির্ধারিত হারে লাভতোলা যায়।
৩. বোনাস হিসাব: এ হিসাব ৬ বছর মেয়াদি এবং মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি।
বিমা: অর্থ সঞ্চয় করার অন্যতম উপায় হলো বিমা। বিমার পলিসি গ্রহণ করার কয়েকটি উপায় রয়েছে। যথা:
১. আজীবন বিমা: সাধারণ পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য এ বিমা করা
হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অল্প অঙ্কের প্রিমিয়াম আজীবন বহন করতে হয় এবং বিমাকারীর মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি এ অর্থ লাভ করে।
২. সাধারণ মেয়াদি বিমা: এ পলিসির আওতায় বিমাকারী নিদিষ্ট সময়ের জন্য বিমা করে। যেমন: ১০, ১৫, ৩০ বছর ইত্যাদি। সাধারণ মেয়াদি বিমা নানা রকমের হয়। যেমন: বিবাহ বিমা, শিক্ষা বিমা, বৃত্তি বিমা, দুর্ঘটনা বিমা, ক্ষতিপূরণ বিমা ইত্যাদি।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র: বিভিন্ন মেয়াদি জাতীয় সঞ্চয়পত্র অর্থ সঞ্চয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সরকারি আদেশক্রমে এ মুনাফার হারের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
Related Question
View Allকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে পরিশোধ করার আগ্রহ, সততা ও ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস করাকে ঋণ বলে।
অর্থ সঞ্চয় করার অন্যতম উপায় হলো বিমা পলিসি। সাধারণত আজীবন এবং সাধারণ মেয়াদি বিমা এই দুই ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করা যায়। আজীবন বীমা পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য করা হয়। বিমাকারীর মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি এ অর্থ পায়। সাধারণ মেয়াদি বিমা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করা হয়। এই বিমা ১০, ১৫ ও ৩০ বছর মেয়াদি হয়। এভাবেই বীমা পলিসি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়।
হাবিবের বিনিয়োগটি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিনিয়োগ বলতে বোঝায় মুনাফার উদ্দেশ্যে সঞ্চিত অর্থ বা মূলধন উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা। অর্থ বিনিয়োগকারীর মূল উদ্দেশ্যই থাকে মুনাফা অর্জন। তাই বিনিয়োগের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ এতে ঝুঁকি থাকে।হাবিব আকিজ কোম্পানির কিছু শেয়ার কিনে অর্থ বিনিয়োগ করে। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক সঞ্চয়ের মাধ্যম। বড় ব্যবসা পরিচালনা করতে অনেক মূলধনের দরকার হয়। তখন যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা চালানোর জন্য জনগণের মধ্যে অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন মূল্যের শেয়ার বাজারে ছাড়ে। এই শেয়ার কিনে অর্থ বিনিয়োগ করা যায়। এতে বিনিয়োগকারী কোম্পানির অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হয়। অধিকাংশ কোম্পানির মূলধনের পরিমাণ স্থির করা থাকে। এই মূলধনকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এককে ভাগ করে দেওয়া হয়। মূলধনের এই এককের নাম শেয়ার। শেয়ার কিনে অর্থ বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি থাকে। যদি শেয়ারের দাম বাড়ে তাহলে বিনিয়োগকারী লাভবান হয়; আর যদি দাম কমে যায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বলা যায়, হাবিবের বিনিয়োগটি ঝুঁকিপূর্ণ।
মজনন ও আফতাব গ্রুপের সকল কর্মচারীদের সঞ্চয়ের ধরন এক নয়।
মরণের সঞ্চয় সেচ্ছামুলক আর আফতাব গ্রুপের কর্মচারীদের সঞ্চয় বাধ্যতামুলক। স্বেচ্ছামূলক সঞ্চয়ের মাধ্যম হলো- ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়, ডাকঘরে সম্বর, বিমা ও সঞ্চয়পত্র ক্রয়। বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের মধ্যে রয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, কল্যাগ ও যৌথ বিমা তহবিল, গ্র্যাচুইটি। সজল প্রতিমাসে ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। যথা- চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থির জমার হিসাব। চলতি হিসাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এই হিসাব থেকে যে কোনো সময় টাকা তোলা যায়। এই হিসাবে সুদের হার কম। চলতি হিসাবের তুলনায় সঞ্চয়ী হিসাবে মুনাফার যার বেশি। তবে বিশেষ অনুমতি ছাড়া সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সন্তাষে দুই বারের বেশি টাকা তোলা যায় না। স্থির জমার হিসাবে নির্দিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়ের জন্য জমা রাখা হয়। এ হিসাবে কম সময়ের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করলে কম মুনাফা এবং বেশি সময়ের জন্য বিনিয়োগ করলে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। পাঁচ, দশ, বিশ কিংবা পঁচিশ বছর মেয়াদে এই হিসাবে অর্থ জমা রাখা যায়। আফতাব গ্রুপের কর্মচারীরা ভবিষ্যত তহবিলের মাধ্যমে সঞ্চয় করে। এটি বাধ্যতামূলক সঞ্চয়। তাদের মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখা হয়। ক্রমশ এই টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদযোগে বাড়তে থাকে। এই টাকা চাকরির মেয়াদ শেষে কর্মচারীগণ এককালীন পেয়ে থাকেন।
সুতরাং, সজল ও আফতাব গ্রুপের কর্মচারীদের সঞ্চয়ের ধরন আলাদা।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে পরিশোধ করার আগ্রহ, সততা ও ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস করাকে ঋণ বলে।
অর্থ সঞ্চয় করার অন্যতম উপায় হলো বিমা পলিসি। সাধারণত আজীবন এবং সাধারণ মেয়াদি বিমা এই দুই ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করা যায়। আজীবন বীমা পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য করা হয়। বিমাকারীর মৃত্যুর পর তার মনোনীত ব্যক্তি এ অর্থ পায়। সাধারণ মেয়াদি বিমা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করা হয়। এই বিমা ১০, ১৫ ও ৩০ বছর মেয়াদি হয়। এভাবেই বীমা পলিসি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!