স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত প্রথম শিক্ষা কমিশনের প্রধান ছিলেন ড. কুদরত-ই-খুদা।
চূড়ান্ত পরাজয়ের পূর্বে পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাংকসমূহে রক্ষিত কাগজের নোটগুলো জ্বালিয়ে দেয় ফলে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো তহবিলশূন্য হয়ে পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরে পাকিস্তানি বাহিনী উৎপাদনমুখী সকল যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। তারা ব্যাংকসমূহে রক্ষিত কাগজের নোটগুলো জ্বালিয়ে দেয় এবং গচ্ছিত স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। ফলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো অর্থশূন্য হয়ে পড়ে।
জাউদ্দীপকের হত্যাকান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মিল আছে।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। সেদিন ভোরের আলো তখনো ভালোভাবে ফুটে ওঠেনি, আড়মোড়া ভেঙে ওঠেছে ঢাকা। জাতির পিতা সপরিবারে ঘুমিয়ে আছেন ধানমন্ডির ৩২নং সড়কের ৬৭৭নং বাড়িতে। ঘাতকের দল ট্যাংক, কামান, মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। টার্গেট বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার এবং আত্মীয়-পরিজনকে হত্যা করা। আনুমানিক ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আক্রমণ শুরু হয়। মেজর মহিউদ্দিন, মেজর হুদা, মেজর পাশা, মেজর নূরের নেতৃত্বে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘেরাও করে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে প্রবেশ করলো। গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত ধানমন্ডির অধিবাসীরা। নীল নকশা অনুযায়ী ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। একে একে বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে হত্যা করা হলো। ঘাতকেরা এমনকি ১০ বছরের শিশু রাসেলকেও হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
১০ বছরের শিশু রাসেলকেও হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
উদ্দীপকে রসুলপুর অঞ্চলের নেতা রাফি বহিরাগত শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে রসুলপুরকে মুক্ত করেন। তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেন। কিন্তু রসুলপুরের কিছু দুষ্কৃতিকারী রাফিকে সপরিবারে হত্যা করে। যা উপরে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করেছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। ১৯৭২ সালের শুরুতে পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য সরকারি হিসেবে মাসিকভিত্তিক এক চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়। কৃষি, শিক্ষার উন্নয়নে তিনি জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনঃর্নিমাণ করেন। এছাড়া ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, দারিদ্র্য হ্রাস, প্রবৃদ্ধির হার ৩% থাকে ৫.৫% এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত সকল ব্রিজ, সেতু ও রেলপথ ১৯৭৪ সালের মধ্যে সন্তোষজনক অবস্থায় উন্নীত করা হয়। এছাড়াও দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সংবিধান প্রণয়ন করেন। ফলে খুব দ্রুত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধি লাভ করতে থাকে।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সারাজীবন লড়াই করেছেন। সদ্য - স্বাধীন দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে তিনি সব ক্ষেত্রে * দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নীতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে তারই দেশের কিছু দুষ্কৃতিকারী সেনা • অফিসার সপরিবারে হত্যা করে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বিক - উন্নয়নকে ব্যাহত করেছিল।
Related Question
View Allবঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই অর্থাৎ ১৯৭২, সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারির মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
রবার্ট এর দেশে '৭২ সালের সংবিধানের 'সমাজতন্ত্র' বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ করা যায়।
১৯৭২ সালের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমাজতন্ত্র। কারণ বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের সব সময় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সংগ্রাম করেছেন। আর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ ছিল নিম্ন পরিবারের সন্তান। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক চাহিদা পূরণে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাই সংবিধানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে রবার্ট-এর দেশেও শোষণহীন সমাজ গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। এই ব্যবস্থা সমাজতন্ত্রের প্রতীক। রবার্টের দেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সরকার এবং তার দেশে শোষণহীন সমাজ গঠন করা হয়। ঠিক একইভাবে '৭২-এর বাংলাদেশের সংবিধানেও রবার্টের দেশের সমাজতন্ত্রের রূপ আংশিক পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, রবার্টের দেশে ৭২-এর সংবিধানের সমাজতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয়।
রাসেলের কথায় '৭২-এর সংবিধানের আংশিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কেননা মানবাধিকার, স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে আরও অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে
গণপ্রজাতন্ত্রী 'বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো বাংলাদেশের সংবিধান। '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করা হয় এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়। '৭২-এর সংবিধানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি হবে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। আর রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে না এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও আচার অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে। এই সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই সংবিধানে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও '৭২-এর সংবিধানে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে।
উদ্দীপকে শুধু মানবাধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। যেখানে '৭২-এর সংবিধানের আংশিক প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে '৭২-এর সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যথার্থ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন। অবিসংবাদিত নেতার প্রতি জনগণের আবেগময় অভিনন্দন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পুরাতন বিমানবন্দর হতে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ জনতা উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভিনন্দন জানায়। এদিন জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!