কস্তুরী' অর্থ মৃগনাভি।
ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ'- বলতে কবি বর্ষাকালে প্রকৃতির আপন মনে গান গেয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বর্ষার বৃষ্টিতে থই থই করে চারদিক। রাতে বৃষ্টির শব্দ যেন আরও বেড়ে যায়। চারদিকে সুনসান নীরবতার কারণে বৃষ্টির প্রচণ্ড শব্দকে মনে হয় যেন হিমালয় পর্বতে গাওয়া মালহার। মূলত চারদিকে নীরবতার কারণে বৃষ্টির যে নিজস্ব ছন্দ রয়েছে তা কবির কাছে গান হয়ে ধরা দেয়। আর এ বিষয় বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে
উদ্দীপকের সাথে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সামঞ্জস্যপূর্ণ দিকটি হলো প্রকৃতির রূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসা।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় সময়ভেদে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন এবং মানবমনে- এর প্রভাবের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বসন্তে নতুন পাতার সমাহার, কোকিলের কুহুতান, দখিনা বাতাস, গ্রীষ্মে প্রচন্ড রৌদ্রতাপ, শরতের নীল আকাশে সাদা মেয়ের ভেলা, শীতে কুয়াশার আড়ালে সূর্যের লুকিয়ে থাকা ইত্যাদি নানা বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে কবিতায়। এছাড়া এর প্রভাবে মানুষের জীবনেও আসে পরিবর্তন। মানুষ একেক ঋতুতে একেকভাবে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের মানুষজন খুবই সক্রিয়। তারা প্রতিটি ঋতুকে উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে। বসন্তে ফুলের ব্যাবসা, মৌমাছি প্রতিপালন, গ্রীষ্মে আম-লিচুর ব্যাবসা, বর্ষায় মাছ চাষ, শীতে তাজা সবজির ফলন ঘটানো প্রভৃতির মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। নিজেদের আপন গতিতে প্রকৃতির সাথে তালে তাল মিলিয়ে তারা দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও প্রকৃতি আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের রূপের পরিবর্তন ঘটায়, যার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনেও। এক্ষেত্রে তাই উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঋতুর পরিবর্তন এবং মানবজীবনে এর প্রভাবের দিকটি উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতার মূল কথা হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতি ঋতু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নিজের রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ করে। কখনো সে তীব্র ও উত্তপ্ত আকার ধারণ করে আবার কখনো মলিন হয়ে শান্তির ধারা বজায় রাখে। কখনো আকাশ সেজে ওঠে সাদা মেঘের ভেলায় আবার কখনো প্রকৃতি ফুলে ফুলে শোভিত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন মানবমনেও ফেলে প্রভাব। বসন্তে ভ্রমর-কোকিলের রব শুনে মানুষ পুলকিত হয়। বিচিত্র পোশাকে, ফুলের সাজে নিজেকে সজ্জিত করে, গ্রীষ্মে ছায়া খুঁজে। বর্ষায় ব্যাঙ্গের, ময়ূরীর ডাক-মানুষকে আনন্দিত করে। হেমন্তে পান খেয়ে সুখ পায়, শীতেও মানবমন প্রভাবিত হয়।
উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের মানুষজন আবহাওয়া ও প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পথ পরিবর্তন করে। অলস সময় পার করে না তারা। কখনো তারা ফুলের ব্যাবসা করে কখনো তারা মাছ চাষ করে। আবার কখনো সবজি চাষ করে। তাদের এই পরিবর্তনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ঋতুর পরিবর্তন। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও ঋতুগুলোর এহেন পালাবদল লক্ষ করা যায়।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় প্রকৃতি তার আপন তাল, ছন্দে ধেয়ে চলে। নিজেকে সে সময়ের সাথে সাথে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলে। আর এর প্রভাব পড়ে জনজীবনে। উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে প্রকৃতি। তারা প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে জীবিকা নিবাহ করে। তারাও প্রকৃতির মতো নিজেদেরকে গতিময় রাখে। তাই প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতার মূলসুর এক
Related Question
View Allমল্লার হলো সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণে' বলতে গ্রীষ্মে সূর্যের প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচণ্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্যের কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বসন্তের সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে চারিদিক ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। দখিনা বাতাস প্রেমের দেবতার বার্তাবাহক হয়ে হাজির হয়। চারপাশের গাছপালায় নতুন পাতা এবং ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগের সাড়া পড়ে যায়।
উদ্দীপকে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই সময় জোছনা রাতে সবাই বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। বসন্তের মাতাল সমীরণ সবাইকে সৌন্দর্য উপভোগের বার্তা দিয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গো 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর কথা বর্ণিত হয়েছে বিধায় উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে মানবমন্ত্রে সম্পর্কের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তে নবীন পত্র-পুষ্প, 'গ্রীষ্মের সূর্যতাপ, বর্ষার অবিরল জলধারা, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুল, শীতের দীঘল রজনি যে পরিবর্তন সাধন করে তা কবি তাঁর কবিতায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির এই রূপমাধুরী মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মতোই মানুষের মনও একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে।
উদ্দীপকে বসন্তের মাতাল সমীরণের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে জোছনা রাতে সবাই বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। কেননা বসন্তের বন ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। এই শোভা উপভোগ করার আনন্দ সবাই পেতে চায়। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্যই উদ্দীপকটির অবতারণা করা হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বসন্ত ঋতুর প্রায় একইরকম বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বসন্তের রূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের রূপ ছাড়াও বাংলার সব ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবিতায় গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর রূপমাধুরী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ঝতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'কিংশুক' শব্দের অর্থ পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
'নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত'- বলতে বসন্ত ঋতুতে নিজেকে সাজিয়ে আনন্দিত হওয়ার দিককে বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির নতুন সাজে সেজে ওঠার কথা বলা হয়েছে। বসন্তে নানা রকম ফুল ফোটে। প্রকৃতি তখন রঙিন রূপ ধারণ করে। বসন্তকে বরণ করতে এবং প্রকৃতির সাথে নিজেদের সংযুক্ত করতে সবাই নানা রকম সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। ফুলের মালা গলায় পরে তারা আনন্দ, উল্লাস করে। এ দিক বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!