মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী মুজাহিদদেরকে মদিনার যেসব মুসলিম সাহায্য করেছিল তাদেরকে আনসার বলা হয়।
মজলিস-উস-শুরা ইসলামি রাষ্ট্রের একটি মন্ত্রণাপরিষদ।
প্রাক-ইসলামি যুগের দারুল নাদওয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদ এর অনুকরণে রাসূল (স) একটি পরামর্শব্যবস্থা চালু রাখেন, যা পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা)ও অনুসরণ করেন। হযরত ওমর (রা) এ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সব সময় বলতেন, পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণাপরিষদ গঠন করেন, যা মজলিস-উস-শুরা নামে পরিচিত। এটি মজলিস-উস-আম ও মজলিস-উস-খাস-এ দু ভাগে বিভক্ত ছিল।
সমঝোতা বৈঠকের ফলে সৃষ্ট তৃতীয় শক্তির সাথে ইসলামের ইতিহাসে খারেজি দল আবির্ভূত হওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
খারেজি অর্থ দলত্যাগী। হযরত আলী (রা)-এর দল ত্যাগ করে এরা অন্য একটি দলের উদ্ভব ঘটায়। পরবর্তীতে এরাই উমাইয়া খিলাফতে গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। উদ্দীপকের সমঝোতা বৈঠকের ফলে সৃষ্ট তৃতীয় পক্ষটির ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে সমঝোতা বৈঠকে দেখা যায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের প্রতি আগ্রহী মনির সাহেব বর্তমান সভাপতিকে প্রতারণার মাধ্যমে অপসারণ করে নিজেই সভাপতির পদ দখল করে। এতে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে কয়েকজন এর বিরোধিতা করে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। ইসলামের ইতিহাসেও এমন একটি ঘটনা দেখা যায়, যা হযরত আলী (রা) এর খিলাফতে ঘটেছিল। খলিফা পদের প্রতি আগ্রহী মুয়াবিয়া প্রতারণামূলক দুমাতুল জন্ন্দলের মীমাংসার বৈঠকে হযরত আলী (রা) কে পদচ্যুত করে নিজেকে খলিফা পদে প্রতিষ্ঠিত করে। এতে হযরত আলী (রা)-এর পক্ষের কিছু সমর্থক এই রায় মেনে নিতে না পেরে দলত্যাগ করে। পরবর্তীতে এরা তৃতীয় দল হিসেবে আবির্ভূত হয় যারা খারেজি নামে পরিচিত ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দল সৃষ্টির সাথে খারেজি দলের আবির্ভাবের সামঞ্জস্য রয়েছে।
উচ্চারণ করে যাতে করে অর্থের বিকৃতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ওসমান (রা) এ সকল মতভেদ দূর করে কুরআনের বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য হাফসার নিকট থেকে মূল পাণ্ডুলিপির সঙ্গে মিলিয়ে কুরআন তৈরি করেন। এছাড়া অসামঞ্জস্য সকল পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। এটি প্রশংসিত উদ্যোগ হলেও বিরুদ্ধমহল এটিকে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে। সুতরাং উদ্দীপকের সাইফুলের কথাটি ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
উদ্দীপকের দ্বন্দ্বটিকে আমি হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা) এর দ্বন্দ্বের পূর্ণাঙ্গ রূপ বলে মনে করি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মনির সাহেব ও রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের মীমাংসার জন্য বৈঠক বসলে * প্রতারণার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতিকে অপসারণ করে মনিরকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একইভাবে দেখা যায়- হযরত আলী (রা)-এর খিলাফতে মুয়াবিয়ার খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘটনাটি ছিল প্রতারণামূলক দুমাতুল জন্ন্দলের সালিশের মাধ্যম।
সিফফিনের যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে মুয়াবিয়া রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেয়। মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে ধূর্ত আমর ইবনে আস এবং হযরত আলী (রা)-এর পক্ষ থেকে সরল মনের মুসা-আল আশারি উভয়েই দুমাতুল জন্দল নামক স্থানে উভয় পক্ষের সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক ডাকে। ধূর্ত আমর মুসাকে বললেন প্রথমে মুসা হযরত আলী (রা)-এর পদচ্যুতির ঘোষণা করবেন এবং পরে আমর মুয়াবিয়াকে পদচ্যুতির ঘোষণা দিবেন। দেখা গেল সরলমনা মুসা আল আশারি আলী (রা) কে পদচ্যুতির ঘোষণা দিলেন, কিন্তু আমর আলী (রা) কে পদচ্যুতির অনুমোদন করে তার স্থলে মুয়াবিয়াকে নিযুক্তির ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণায় হযরত আলী (রা)-এর কিছু সমর্থক রায় অমান্য করে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। পরে তারা দলত্যাগী হয় এবং পরবর্তীতে উমাইয়া খিলাফতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রমাণ হয় যে, উদ্দীপকের দ্বন্দ্বটিতে হযরত আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা)-এর দ্বন্দ্বের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে।
Related Question
View Allহযরত ওমর (রা) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।
দক্ষ ও সুকৌশলী বীর সেনাপতি হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
প্রাথমিক জীবনে কুরাইশদের সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করলেও হুদায়বিয়ার সন্ধির পর (৬২৮ খ্রি.) খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল (স)-এর সময়ে হুনায়ুনের যুদ্ধ, তায়েফ বিজয়, তাবুক অভিযানে দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত করেন। তাছাড়া রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামার যুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনি ভণ্ডনবিদের শায়েস্তা করেন। এরপর জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ইসলামের খেদমতে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম দিক মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠনের মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন। আর এ আদর্শ দ্বারাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইসলামি গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন করেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রেখে তিনি পরামর্শভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জনাব 'ক' সকল বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা)ও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠন করেছিলেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মজলিস-উশ-শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।' তার গঠিত পরামর্শসভা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন-ক. মজলিস-উল-আম এবং খ. মজলিস-উল-খাস। মহানবি (স)-এর ঘনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মজলিস-উল-আম গঠিত ছিল। এরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য অল্প সংখ্যক মুহাজিরিন নিয়ে মজলিস-উল-খাস গঠিত ছিল। হযরত ওমর (রা) মজলিস-উশ-শুরা ছাড়াও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতেন। হযরত ওমর (রা)-এর উল্লিখিত আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত কর্মকাণ্ডে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়ের উজ্জ্বল আদর্শ। খলিফা হিসেবে তিনি ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে সর্বদা জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। তাই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সরকারি কোষাগার হিসেবে বায়তুল মালকে পুনর্গঠন করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় খরচ বাদে উদ্বৃত্ত অর্থ বায়তুল মাল বা কেন্দ্রীয় অর্থ তহবিলে জমা করা হতো। এ অর্থই বিভিন্ন খাতে সরকারিভাবে বণ্টন করা হতো। উল্লিখিত নীতিরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্বৃত্ত অর্থ বিষয়ে অধ্যক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ কলেজের ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি আর্থিক ফান্ড গড়ে তোলেন। এ ফান্ডে তিনি কলেজের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখেন এবং এ অর্থ কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করেন। একইভাবে হযরত ওমর (রা) বায়তুল মাল সংস্কার ও পুনর্গঠন করে সকল প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মাল প্রধানত তিন প্রকারের ছিল। ক. বায়তুল মাল আল খাস-এটি ছিল শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। খ. বায়তুল মাল আল আম-এটি খিলাফতের রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। গ. বায়তুল মাল আল মুসলেমিন- এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজকোষাগার। বায়তুল মালের এ শাখা সমাজকল্যাণমূলক কাজ, যেমন-রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণকামী চিন্তা-চেতনা ও কর্মকান্ডের দিক দিয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ক পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল নীতির আংশিক প্রতিফলন।
যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নুরের অধিকারী।
সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।
খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!