উদ্দীপকের রহমত আলীর গরু কেনার কাজটি ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কোনো কাজ শুধু অর্থ সংশ্লিষ্ট হলেই তাকে ব্যবসায় বলা যায় না। ঐ কাজটি অবশ্যই বৈধ এবং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে হয়। উদ্দীপকের রহমত আলী একজন কৃষক। তিনি তার জমি চাষ করার জন্য এক জোড়া গরু কিনলেন। এখানে গরু কেনার কাজটি অর্থ সংশ্লিষ্ট। তবে এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের কোনো প্রত্যাশা নেই। কারণ, রহমত আলী শুধু তার পারিবারিক প্রয়োজনেই গরু কিনেছেন। এই গরু দিয়ে জমি চাষ করেন ও ফসল ফলান। এ ফসল দিয়ে তিনি পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটান।
তাই কাজটি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে না হওয়ায় একে ব্যবসায় বলা যাবে না।
Related Question
View Allমসলিন বস্ত্রের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ব্যবসায়ের গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এমন সব পারিপার্শ্বিক উপাদানের সমষ্টি হলো ব্যবসায় পরিবেশ।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায় গড়ে ওঠে। এসব পারিপার্শ্বিক অবস্থা (আবহাওয়া ওজলবায়ু, অর্থ ব্যবস্থা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সরকারি আইন প্রভৃতি) ব্যবসায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। এগুলো ব্যবসায়ের ওপর কখনো অনুকূল, আবার কখনো প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। এসব প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান মিলে ব্যবসায় পরিবেশ গড়ে ওঠে।
সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
কোনো দেশের জনসংখ্যা, তাদের ধর্ম, বিশ্বাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি, রীতি- নীতি ও দেশীয় ঐতিহ্য প্রভৃতির সমন্বয়ে সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এসব উপাদান মূলত মানুষের সৃষ্টি ও তাদের কাজের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। এটি ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে মসলিন বস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে এ বস্ত্র উৎপাদনে দক্ষ ছিল। বর্তমানে এ বস্ত্র উৎপাদনের জন্য দক্ষ শ্রমিক ও কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সহজ হবে। এতে শ্রমিক ও কারিগররা পুরনো ঐতিহ্য মসলিন কাপড় সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবসম্পদ সামাজিক পরিবেশের উপাদান। সুতরাং, সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি বলে আমি মনে করি।
আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। উন্নত যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে প্রযুক্তিগত পরিবেশ। দেশের সার্বভৌমত্ব, সরকারি নীতিমালা, আইনশৃঙ্খলা প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। আর অদক্ষ কর্মী ও অস্থিতিশীল রাজনীতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে আমাদের দেশে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায় প্রসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ আছে। কিন্তু মূলধনের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, ধর্মঘট ও দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। এসব কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না। ফলে প্রচুর বৈদেশিক চাহিদা থাকার পরও মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার হচ্ছে না। শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতির জন্য সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিবেশ আবশ্যক। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহী হবেন। ফলে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ হবে। সরকার অনুকূল শিল্পনীতি প্রণয়ন করলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এভাবে পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার করা যাবে।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের কাছে পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর সব কাজ (ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিজ্ঞাপন) হলো বাণিজ্য।
উৎপাদনের বাহন হলো শিল্প।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য উৎপাদন করা হয়। আর এ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তাই শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বলা হয়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
