১৯৫৪ সালের নির্বাচন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও তার দোসরদের শোষণের বিরুদ্ধে এক 'ব্যালট বিপ্লব'।
আওয়ামী মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দলটিকে অসাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার জন্য মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত করা হয়।
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামক রাজনৈতিক সংগঠনটির সাথে মুসলিম শব্দটি যুক্ত হওয়ার কারণে এটি শুধু মুসলমানদের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। কিন্তু জন্ম থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিল অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী। এ কারণে ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য এর দ্বার খুলে দেওয়া হয়। মূলত অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠনের চিন্তা থেকেই আওয়ামী লীগের নাম পরিবর্তন করা হয়।
উদ্দীপকে রিপার মনে ভাষা আন্দোলনের চেতনাবোধ কাজ করেছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে এ আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে শহিদ হন। অবশেষে ১৯৫৬ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। এভাবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে। এর মাধ্যমে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের মমত্ববোধ প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকের রহমত আলী তার ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলেও তার স্ত্রী রিপা আগ্রহী বাংলা মাধ্যমে পড়াতে। তিনি মনে করেন মাতৃভাষাতেই লেখাপড়া করা উচিত। তিনি বাংলা ভাষাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। রিপার মনে মাতৃভাষার প্রতি এই মমত্ববোধ পূর্বে আলোচিত ভাষা আন্দোলনেরই ফল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রিপার মনে ভাষা আন্দোলনের চেতনাবোধ কাজ করেছিল।
উদ্দীপকের রিপার পরিবারের মতোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করলে বাঙালিরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। যুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সংস্কৃতিকর্মীর অবদান ছিল প্রশংসনীয়। এমনকি অনেকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পত্র-পত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা, এম আর আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল যুগিয়েছে। যুদ্ধে অগণিত বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। ছাত্র-ছাত্রী, কৃষক, প্রবাসী বাঙালি, নারীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অবদান রেখেছেন। সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার, সেবা ও নানা তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, রিপার পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার ন্যায় বাংলার সর্বস্তরের স্বাধীনতাকামী মানুষের ভূমিকার ফল আমাদের স্বাধীনতা।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!