দুই বা ততোধিক পদার্থকে এক সাথে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলে।
সার্বজনীন দ্রাবক বলতে সেই সমস্ত দ্রাবককে বুঝায় যারা সব রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করে। তবে বাস্তবে সকল পদার্থকে দ্রবীভূত করার মতো কোনো দ্রাবক নেই। তবে পানি এমন একটি দ্রাবক যা অনেক পদার্থকে সহজেই দ্রবীভূত করতে পারে। অন্যকোনো দ্রাবকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি জৈব যৌগ, স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ সবগুলোকেই পানি দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ পানিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক।
ইফতারির শরবতটি একটি দ্রবণ তথা সমসত্ত্ব মিশ্রণ। শরবতটিতে চিনি, পানি, ট্যাং/লেবুর রসের সংমিশ্রণ রয়েছে। এ পানীয়টি লক্ষ করলে দেখা যাবে এতে চিনি, ট্যাং/লেবুর রস দ্রবীভূত হয়ে যায়। কারণ শরবতে এদের আলাদা অস্তিত্ব দেখা যাবে না। এক্ষেত্রে চিনি, ট্যাং লেবুর রস পানির সবখানে সুষমভাবে বা সমানভাবে বিন্যস্ত থাকবে। জানা আছে, যে সমস্ত মিশ্রণে উপাদানসমূহ সুষমভাবে বষ্টিত থাকে এবং একটি উপাদান থেকে অন্যটিকে সহজে আলাদা করা যায় না তাদেরকেই দ্রবণ বা সমসত্ত্ব মিশ্রণ বলা হয়। সুতরাং বলা যায়, ইফতারির শরবতটি একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ।
এ শরবতটির তথা দ্রবণটির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. দ্রবণটিতে উপাদানগুলো সুষমভাবে বণ্টিত থাকে।
২. দ্রবণটির একটি উপাদান থেকে অন্য উপাদান সহজে আলাদা করা যাবে না।
৩. দ্রবণটির প্রতি অংশের স্বাদ একই রকম।
জানা আছে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবক সর্বোচ্চ যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত করতে পারে সেই পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে প্রাপ্ত দ্রবণকে সম্পৃক্ত দ্রবণ বলে। আবার কোনো দ্রবণে যদি ঐ সর্বোচ্চ পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণের দ্রব দ্রবীভূত থাকে, তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে। উদ্দীপকের রহমতের মায়ের তৈরি শরবতটি যদি অসম্পৃক্ত দ্রবণ হয় তবে তা থেকে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে হলে প্রথমত তাকে একটি বিকার, মাপচোঙ ও নাড়ানি নিতে হবে। এরপর পরিষ্কার বিকারে মাপচোঙ দিয়ে মেপে পরিমাণমতো পানি নিতে হবে। এরপর পানিতে অল্প অল্প করে চিনি, ট্যাং ও লেবুর রস মিশাতে হবে। এভাবে যতক্ষণ পর্যন্ত চিনি, ট্যাং ও লেবুর রস পানিতে দ্রবীভূত হতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত দ্রবণটি হবে অসম্পৃক্ত দ্রবণ। একপর্যায়ে দেখা যাবে দ্রবগুলো অর্থাৎ চিনি, ট্যাং ও লেবুর রস আর পানিতে দ্রবীভূত হবে। না। তখনই দ্রবণটি হবে সম্পৃক্ত দ্রবণ।
Related Question
View Allদুই বা ততোধিক পদার্থকে এক সাথে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলে।
সার্বজনীন দ্রাবক বলতে সেই সমস্ত দ্রাবককে বুঝায় যারা সব রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করে। তবে বাস্তবে সকল পদার্থকে দ্রবীভূত করার মতো কোনো দ্রাবক নেই। তবে পানি এমন একটি দ্রাবক যা অনেক পদার্থকে সহজেই দ্রবীভূত করতে পারে। অন্যকোনো দ্রাবকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি জৈব যৌগ, স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ সবগুলোকেই পানি দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ পানিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক।
রূপত্তিকে দেখানো প্রিয়ন্তির উপাদানটি হলো লবণ, 'যা সমুদ্রের পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়। নিচে রেখা চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ প্রস্তুত প্রণালি দেখানো হলো-

উদ্দীপকের দ্রবণটি হলো লবণ ও পানির দ্রবণ। এ দ্রবণ হতে লবণ ও পানি দুটো উপাদানই আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। লবণকে সহজেই পরিস্রাবণ পদ্ধতির সাহায্যে আলাদা করা যায়। পানি পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। প্রথমে দ্রবণকে ছাঁকন কাগজের সাহায্যে ছেঁকে পানিতে থাকা বালি ময়লা এবং লবণাক্ত পানি আলাদা করা হয় যা ক চিত্রে দেখানো হয়েছে।

এরপর পানিকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে আলাদা করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১টি ১টি পাতন যন্ত্র, ৫০০ মি. লি. লবণাক্ত পানি।
পদ্ধতি: খ চিত্রের মতো পাতন যন্ত্রটিকে সাজিয়ে 'গোলতলী ফ্লাক্সে লবণাক্ত পানি নিই। পাতন যন্ত্রটির পানি প্রবেশের নলটি একটি পানির ট্যাপের সাথে যুক্ত করে পানি প্রবাহ চালু করি। পানি নির্গমন নলের সাথে একটি প্লাস্টিকের পাইপ যুক্ত করে বেসিনে রাখি এবং বৈদ্যুতিক হিটারে তাপ দিই। বাষ্পীভূত পানি শীতকের সরু নলের মধ্য দিয়ে গোলতলী ফ্লাক্সে জমা হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পর্যবেক্ষণ করি, দেখতে পাই যে, বিশুদ্ধ পানি জমা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দ্রবণের লবণ পাত্রের তলায় জমা হয়।
যে মিশ্রণের বিভিন্ন অংশে তার উপাদানসমূহ বিভিন্ন অনুপাতে থাকে এবং একাধিক বস্তুর অস্তিত্ব সহজে বুঝা যায় তাকে অসমসত্ত্ব মিশ্রণ বলে।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবক নিয়ে কোনো দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে যতটুকু দ্রবের প্রয়োজন হয় তাকেই ঐ দ্রাবকে ঐ দ্রবের দ্রবণীয়তা বলে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ৩৬ গ্রাম লবণকে দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় পানিতে লবণের দ্রবণীয়তা হলো ৩৬। আবার ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানিতে চিনির দ্রবণীয়তা হলো ২১১.৪। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ২১১.৪ গ্রাম চিনি দ্রবীভূত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
