সৃজনশীন রচনামুলক ৭ নম্বর প্রশ্নের 'গ'-এর উভয় দেখো। উদ্দীপকে রধমান সাহেবের আচরণে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধ, ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে এসব মূল্যবোধের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-
অর্থনৈতিক মূল্যবোধের ব্যক্তি অর্থনৈতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এরূপ ব্যক্তিরা সব সময়ই বিতব্যয়ী হয়। উদ্দীপকে রহমান সাদের এ -ব্যবসায়ী। তিনি বিশ্বাস করেন জীবনে অর্থের প্রয়োজন আছে। এদিক থেকে বলা যায়, রখমান সাহেবের আচরণে অর্থনৈতিক মূল্যবোধের প্রতাব পরিলক্ষিত হয়ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত ধার্মিক হয়। এ ধরনের মূল্যবোধে বারি তার ধর্মীয় রীতি-নীতির একটি বিশেষ প্রতিফলন ঘটায় এবং তার সাথে স্বীয় সুসংগতিকে বিশেষভাবে প্রকাশ করে। উদ্দীপকে কর্ণনায় দেখা যায়, রহমান সাহেব ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলেন। সুতরাং এ বিবেচনায় তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যারি কথা যার।
সৌন্দর্যবোধ মূল্যবোধের যারির জীবনে সৌন্দর্যপিপাসু হয়ে থাকে এবং প্রভৃতির মধ্যে সর্বদা সৌন্দর্য খুঁজে পেতে চায়। এ মুল্যবোধ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা সর্বব্য জাঁকজমক শক্তিমতা বিশিষ্ট পরিচয় চিন্দ বা সম্মানসূচক চিন্মগুলোকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যাক্তিরা সর্বদা নেতৃত্ব প্রদান করতে চায়। অর্থাৎ এদের মধ্যে প্রভুত্ব বিস্তার করার - ইচ্ছা অত্যন্ত প্রবল ও শক্তিশালী। সবার উপরে প্রভাব বিস্তার করা এদের চরিত্রের উল্লেখযোগ্য দিক। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, রখমান সাহেব একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করেন যা দেখে সকলেই মুখ যায়। তার মধ্যে আবার অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার ও প্রতিযোগিতা করার মানসিকতা বিদ্যমান। তার আচরণের এসর বৈশিষ্ট্য লক্ষ করলে দেখা যায় তার মধ্যে সৌন্দর্যবোম ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allমূল্যবোধ গঠনের প্রধান মাধ্যম পরিবার।
মূল্যবোধ সমাজের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার মাধ্যমে সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
মূল্যবোধ সামাজিক ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
জনাব সালাম তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি।
তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তি নিজেকে বাস্তব প্রয়োগ, সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন ও সৃজনশীল বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে। এরা জ্ঞানমূলক মনোভাব গ্রহণ করে, সত্য আবিষ্কারের প্রতি তাত্ত্বিক আগ্রহ রয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তারে ব্যাপক আগ্রহ থাকে। ব্যক্তির তাত্ত্বিক মূল্যবোধ তার মনোভাবের সাথে জড়িত। তাত্ত্বিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা সত্যানুসন্ধানী, সত্যকে আবিষ্কার করাই এদের প্রধান লক্ষ্য। এরা সুবিন্যস্ত জ্ঞান ও সুসংহত নিয়মের প্রতি আবদ্ধ থাকতে চায়। তাত্ত্বিক মূল্যবোধের ব্যক্তিরা অনেকটা বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিকের মতো।
উদ্দীপকে জনাব সালাম ব্যতিক্রমধর্মী এবং গবেষণাধর্মী কাজে আগ্রহবোধ করেন। জ্ঞান অন্বেষণে তিনি প্রবল উৎসাহী ও মনোযোগী। সুতরাং বলা যায়, জনাব সালামের মধ্যে তাত্ত্বিক মূল্যবোধের উপস্থিতি রয়েছে।
জনাব রহমানের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ লক্ষণীয়।
সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক আচরণবিধির সাথে সম্পৃক্ত। সমাজের যেসব আচরণের প্রতি অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে সে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সহজেই সকল ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ও প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। মানুষের প্রতি এদের প্রবল ভালোবাসা থাকে। এরা দয়ালু, পরোপকারী, সহানুভূতিশীল এবং নিঃস্বার্থ হয়ে থাকে।
এরা কখনো নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন না। অন্যদিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ হলো সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং তার সান্নিধ্য অর্জনে নির্ধারিত আচরণ প্রকাশ করা। এ মূল্যবোধ মূলত সৃষ্টিকর্তা ও কিছু ধর্মীয় বিধি-বিধানভিত্তিক বিশ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে এবং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব রহমান খুবই মিশুক এবং পরোপকারী। তিনি অত্যন্ত সৎ এবং কর্তব্যপরাযণ। এ ধরনের গুণাবলি জনাব রহমানের সামাজিক মূল্যরোধের পরিচায়ক। আবার তিনি পরকালীন কল্যাণ কামনায় ইহকালীন সুখ বিসর্জন দিতে সদা তৎপর। ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা এ ধরনের বিমূর্ত ধারণার অধিকারী হন। তার এ ধরনের ধারণা ধর্মীয় মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব রহমানের মধ্যে একাধিক অর্থাৎ সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান।
Edward Spranger মূল্যবোধকে ছয় ভাগে ভাগ করেছেন।
মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে সমাজ তার লক্ষ্য অর্জন করে থাকে বিধায় মূল্যবোধকে সমাজের চালিকাশক্তি বলা হয়।
মূল্যবোধ সামাজিক. ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষা করে। সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের নিজ নিজ মূল্যবোধের শিক্ষা অনুযায়ী সমাজে ঐক্যবদ্ধভাবে সংহতি ওস্থিতিশীলতা রক্ষা করে বসবাস করে। এক এক সমাজে এক এক ধরনের মূল্যবোধ প্রাধান্য পায়। ব্যক্তি সেই মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে উল্লিখিত সমাজের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হয়। তাই ব্যক্তি তার সমাজের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নিজ আচরণকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন করে চলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!