হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপে ননী তোলা দুধ খাওয়া ভালো।
বেশি আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল বিশেষ করে টকজাতীয় ফল যেমন- লেবু, জাম্বুরা, কমলা, আনারস ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সাদা চাল ও সাদা আটার চেয়ে লাল চালের ভাত ও গমের ভূসিসহ আটার রুটি বেশি উপকারী। মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস, ডিম প্রয়োজনীয় পরিমাণে খাওয়া যাবে। ডাল, বাদাম খাওয়া যাবে। ননী তোলা দুধ ও এই দুধের তৈরি টকদই খাওয়া। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ খাওয়া যাবে না। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য শক্তি গ্রহণ করা যাবে না।
রহমান সাহেবের সম্প্রতি হৃদরোগ দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ তার জন্য উপযুক্ত খাদ্য তালিকাটি হবে হৃদরোগীর জন্য উপযুক্ত খাদ্য তালিকা।
রহমান সাহেব একজন হৃদরোগী। তার খাদ্য তালিকা এমন হবে যেন তার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তির চেয়ে বেশি খাদ্য শক্তি গৃহীত না হয় এবং খাদ্য সুষম হয়। লাল চালের ভাত ও ভুসিসহ আটার রুটি রহমান সাহেবের জন্য উপকারী তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে। তাকে খাদ্যে চিনি, লবণ ও ফ্যাটের পরিমান কমাতে হবে। খাবারে বাড়তি টেস্টিং সল্ট, চায়নিজ লবণ খাওয়া যাবে না। মাখন, ঘি, ডালডা, নারকেল, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। আইসক্রিম, মিষ্টি, ফাস্টফুড, লবণযুক্ত ও লবণে সংরক্ষিত খাবার, বেকারির খাবার, বিভিন্ন ড্রিংস ও কফি ইত্যাদি সব খাবার বাদ দিতে হবে। রহমান সাহেবকে প্রচুর আঁশজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আঁশজাতীয় শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। খাদ্য তালিকায় টক জাতীয় ফল রাখতে হবে। একই সাথে রঙিন ও মৌসুমি শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে- মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম ইত্যাদি,। এছাড়া ননী তোলা দুধ ও এই দুধে তৈরি দই রহমান সাহেবের জন্য উপকারী।
মানুষের জীবনে সুস্বাস্থ্যই সকল সফলতা ও সুখের চাবিকাঠি। আর সুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
উদ্দীপকে রহমান সাহেব অফিসে কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে গেলে ইসিজি করে হাটে দুটি ব্লক ধরা পড়ে। ডাক্তার তাকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে বলেন।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন প্রতিষ্ঠায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস 'গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। সুষম খাদ্য গ্রহণ, খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা, পরিমিত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করা ইত্যাদির মাধ্যমে রহমান সাহেব স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন করতে পারেন। নিয়মতান্ত্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দীর্ঘজীবন লাভের জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এর মাধ্যমে শরীরের ওজন স্বাভাবিক রেখে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন। তিনি ঘুমের সময় ও জেগে ওঠার সময় মেনে চলতে পারেন। তিনি যথাযথ সময় পরিকল্পনা করে তাতে নিজেকে অভ্যস্ত করতে পারেন। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি নিষেধ মেনে চলে তিনি নিয়মতান্ত্রিক সুস্থ জীবনযাপন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। সুস্থ ও নিরোগ জীবনযাপন এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই।
এভাবেই রহমান সাহেব নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
Related Question
View Allসুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। জীবনের দীর্ঘতা বা আয়ু বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
মিসেস শীলা অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করেন এবং তার খাদ্যাভ্যাসও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তার ওজন বেড়ে যাচ্ছে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় তার খাদ্যাভ্যাস যেরূপ হওয়া দরকার তা হলো-
১. চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের ছয়টি উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. যথাযথ সময় পরিকল্পনা করতে হবে। খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হবে। খাওয়ার কমপক্ষে দু ঘণ্টা পর ঘুমাতে যেতে হবে।
৩. পরিমিত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
৪. ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অতিরিক্ত ক্যালরি এবং ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।
৫. দৈনিক কিছু শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
৬. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্য গ্রহণে সচেতন থাকতে হবে।
৭. খাদ্য সম্পর্কিত কুসংস্কার পরিহার করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে মিসেস শীলা খুব সহজেই তার স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।
মিসেস শীলার জীবনপ্রণালি সংশোধন না করলে তার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
মিসেস শীলার বয়স ৪৫ বছর। এই বয়সে সাধারণত মানুষের প্রোটিন ও ফ্যাটের চাহিদা হ্রাস পায় এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময় প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য তার খাদ্য তালিকা থেকে কমাতে হবে এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মিসেস শীলা পরোটা, মাংস, মিষ্টি, ডিম ইত্যাদি বেশি, পরিমাণে গ্রহণ করেন। এসকল খাদ্য গ্রহণের ফলে তার দেহে অতিরিক্ত ফ্যাট সঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তার সময় ব্যবস্থাপনায়ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তিনি সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান। দুপুরে খাওয়ার পর ২ ঘণ্টা ঘুমান, আবার রাতে খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই ধরনের জীবনযাপনের ফলে তার গৃহীত খাদ্য পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং মিসেস শীলার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য তার জীবন প্রণালির সংশোধন আবশ্যক।
বিপাকজনিত একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস।
স্বাস্থ্যরক্ষায় আঁশ জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। এছাড়া আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে পিত্তথলির রোগ, মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ্ব, এ্যাপেন্ডিকস, হৃদরোগ, স্থূলতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রোগের প্রকোপ কমে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!