মিয়ানমারে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা পুরোহিতরা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে।
মিয়ানমারে প্রায় সর্বত্রই ফুঙ্গিদের দেখা যায়। ফুঙ্গি হলো বৌদ্ধ ভিক্ষু অর্থাৎ বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা পুরোহিত।
পথেঘাটে, বাসের চালে যাত্রীদের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রায় সর্বত্রই ফুঙ্গিদের দেখা যায়। সকালে তারা খালি পায়ে ভিক্ষা করতে বের হন। ভিক্ষাই তাদের জীবিকা। ভিক্ষুদের পরিধেয় চীবর সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো। তাদের গায়ে আলাদা অন্য এক টুকরো চীবর থাকে। হাত, কাটা ও এক কাঁধ কাটা একটা গেঞ্জি থাকে, কোমরে বেল্ট জাতীয় অর্থাৎ সেলাই করা কাপড়ের কোমরবন্ধনী থাকে। তাদের হাতে থাকে ছাবাইক বা ভিক্ষাপাত্র। ভিক্ষুদের চীবর বিশেষ মাপে এবং অনেক জোড়া দিয়ে সেলাই করা হয়। সাধারণত লাল ও লালের কাছাকাছি রঙে চীবরে রং করা হয়। মিয়ানমারে ফুঙ্গিদের অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়।
উদ্দীপকের রহমান সাহেবের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও পার্বত্য অঞ্চলের মেয়েদের বর্ণনার দিকটি 'মংডুর পথে' রচনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এর মাধ্যমে মানুষ একটি স্থানের মানুষের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের রহমান সাহেব পার্বত্য এলাকায় ঘুরতে যান এবং সেখানকার মানুষ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পার্বত্য অঞ্চলের মেয়েরা অনেক পরিশ্রমী। তাদের শরীরের গঠন অনেক শক্ত এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিরাম নেই। পুরুষের তুলনায় এখানকার মেয়েরা বেশি পরিশ্রম করে। 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতেও লেখক মিয়ানমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনায় সেখানকার মানুষ সম্পর্কে তাঁর অর্জিত জ্ঞানের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের মেয়েরা অনেকটা স্বাধীনভাবে ব্যাবসা-বাণিজ্য করে। এক্ষেত্রে তারা পুরুষদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আর এই দিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে 'মংডুর পথে' রচনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ভ্রমণ মানে কেবল ঘোরা নয়'- উদ্দীপকের এই উক্তিটি 'মংডুর পথে' রচনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও যথার্থ।
জীবনে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো দেশ ভ্রমণ। কোনো দেশকে জানার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সেই দেশ ভ্রমণ। ভ্রমণপিপাসু মানুষ তাই মনের খোরাক মেটাতে যুগ যুগ ধরে ঘুরছে। এই ভ্রমণের মাধ্যমে তারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে পারে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় এ সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে। মিয়ানমারের মংডু শহর ভ্রমণের মাধ্যমে লেখক সেখানকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ব্যবসায়-বাণিজ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। লেখক মংডুর সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির অনেক মিল খুঁজে পেয়েছেন। উদ্দীপকের রহমান সাহেবও সপরিবারে পার্বত্য এলাকায় ঘুরতে বের হয়ে পার্বত্য অঞ্চল এবং সেখানকার মানুষ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সম্পর্কে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, সেখানকার মেয়েরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রমী। তাদের শরীরের গঠন বেশ শক্ত হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিরাম নেই। এ কারণেই রহমান সাহেব মনে করেন ভ্রমণ মানে কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থান ভ্রমণ নয়, ভ্রমণের মাধ্যমে সেই স্থান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়।
ভ্রমণে মানুষ চোখ দিয়ে দেখে, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে সমৃদ্ধ করে তার অভিজ্ঞতার ভান্ডার। এর মাধ্যমে একটি দেশ সম্পর্কে জানতে পারে। 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনি এবং উদ্দীপকের রহমান সাহেবের উক্তিতে ভ্রমণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টি অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই দিক বিবেচনায় বলা যায়, ভ্রমণ মানে কেবল ঘোরা নয়। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো বস্তুটির নাম চীবর।
"ব্যান্ডেল রোড তাদের স্মৃতি বহন করছে" বলতে পাদরি ও পর্তুগিজদের বসবাসের স্মৃতির কথা বোঝানো হয়েছে।
মংডু টেকনাফের ওপারে, মাঝখানে নাফ নদী। এটি পার হয়ে ব্রিটিশ যুগের বহু আগে থেকেই চট্টগ্রামে অনেকে এসেছেন। পাদরি মেস্ট্রো সেবাস্টিন মানরিক সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এ পথে আসেন। তারও একশ বছর আগে পর্তুগিজরা চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করে। তারা নিজেদের বসতির জায়গাকে ব্যান্ডেল বলত। মংডু ও চট্টগ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম রাস্তাটি অর্থাৎ ব্যান্ডেল রোডটি সেই পাদরি ও পর্তুগিজদের স্মৃতি বহন করছে।
উদ্দীপক-১-এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম নারকেল গাছ এবং মংডুদের খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রতিটি দেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। তবে ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ নিজের দেশের সাথে ভ্রমণরত দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য বুঝতে পারে।
'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনিতে দেখা যায়, মংডুর অধিবাসীদের বাড়ির সামনে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে নারকেল গাছ। বাড়ির সামনের নারকেল গাছটির গোড়ার দিকে মাথা সমান উঁচুতে রয়েছে অর্কিড। তাতে রঙিন ও সাদা ফুল ফোটে। উদ্দীপক-১ এ শ্রীলংকার অস্তিত্বের সঙ্গে নারকেলের জড়িয়ে থাকার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। উদ্দীপক-১-এ নারকেলতেল ছাড়া শ্রীলংকানরা রান্না করে না এবং রান্নায় প্রচুর মসলা এবং লাল মরিচ ব্যবহার করে। এই বিষয়টি চাকমা-মারমারা যে ধানিলঙ্কা পুড়িয়ে নুন ও পেয়াজ দিয়ে ভর্তা করে, ভ্রমণকাহিনির সেই বিষয়ে বর্ণনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক-১ এ 'মংডুর পথে' ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিষয়টি এবং খাবারের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা 'পদ্মাবতী'।
"লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা- এই তিন নিয়ে মিয়ানমার।"ー উক্তিটি দ্বারা লেখক বুঝিয়েছেন যে, মিয়ানমারের সর্বত্রই লুঙ্গি, ফুঙ্গি ও প্যাগোডা দেখা যায়।
মিয়ানমারের নারী-পুরুষ সবাই লুঙ্গি পরে। মেয়েরা লুঙ্গির সাথে ব্লাউজ পরে, আর পুরুষরা লুঙ্গির সাথে জামা পরে। ফুঙ্গিরা হলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। তাদের পেশা হলো ভিক্ষা করা এবং ধর্ম প্রচার করা। আর প্যাগোডা হলো বৌদ্ধদের প্রার্থনার স্থান। মিয়ানমারে এগুলো বেশি রয়েছে এবং বেশি দেখা যায়। তাই আলোচ্য কথাটি লেখক বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!