রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ কাজ করছে আকলিমা খাতুন। এক কথায় সে তাদের সংসারটা শুধু বাঁচিয়ে রেখেছে তা নয় বরং তাদের সমৃদ্ধির মূলে তার অবদান সীমাহীন। বয়সের ভারে আজ সে অক্ষম হয়ে বিদায় নিতে চায়। কেননা তার পক্ষে এখন আর গতর খাটানো অসম্ভব। তার এ প্রস্তাবে রহিম বলে, 'আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। জীবনের বাকি সময়টুকু আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে কাটাবেন।'

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ নিমগাছের পাতা।

উত্তরঃ

ঔষধি গুণসম্পন্ন নিমগাছ যত্ন না করলেও বেড়ে ওঠে। এ কারণে নিমগাছটি না কাটলেও কেউ তার যত্ন করে না।

'নিমগাছ' বনফুলের একটি প্রতীকী গল্প। এতে সাধারণ অর্থে নিমগাছের ঔষধি গুণ ও উপকারী দিক তুলে ধরা হয়েছে। ও নিমফল থেকে উৎপন্ন নিম তেল বিভিন্ন ওষুধ, কৃমিনাশক ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে নিমগাছ কেউ কাটে না। অন্যদিকে কেউ যত্নও করে না। কারণ যত্ন ছাড়াও এ গাছ বেড়ে ওঠে। তাই এ গাছের জন্য আলাদা যত্নের ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখায় না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো- নিমগাছের প্রতীকে এক গৃহলক্ষ্মী বধূর সীমাহীন অবদান।

পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা প্রতিনিয়তই নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্য নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কৃতজ্ঞচিত্তে নারীর সে অবদান স্বীকার করে তাকে যথার্থ মর্যাদা দিতে না পারলে মানুষের সার্বিক মুক্তি কখনো সম্ভব নয়।

উদ্দীপকে রহিমদের বাড়িতে আকলিমা খাতুনের দীর্ঘদিন কাজ করা এবং তাদের সংসারে উন্নতির ক্ষেত্রে তার অবদানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আকলিমার প্রতি ঐ সংসারের লোকদের সহনশীল মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও পরোপকারী ঔষধি বৃক্ষ নিমগাছের মতোই সংসারের উপকারে নিয়োজিত। নিমগাছ যেমন অযত্নে বেড়ে ওঠে, গৃহলক্ষ্মী বধূটিও তেমনই সংসারে অযত্ন-অবহেলার শিকার। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের আকলিমার চেয়েও তার অবস্থা করুণ।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিককে তুলে ধরে- মন্তব্যটি যথার্থ। 

আমাদের সমাজ-সংসারে এমন অনেক মানুষ আছে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সেই পরিশ্রমের সমান মূল্য বা মর্যাদা পায় না। বরং তারা অযত্ন-অবহেলার শিকার হয়। বাঙালি পরিবারে গৃহবধূরা সংসারের নানা কিছু দেখাশোনার কাজ করে ক্লান্ত হয়। অথচ তারাই অবহেলিত হয় সবচেয়ে বেশি। সবাইকে নিজ নিজ কর্মের যথার্থ মূল্য ও মর্যাদা দেওয়া উচিত।

উদ্দীপকে একজন গৃহপরিচারিকার দীর্ঘদিনের কাজের প্রতিদান সম্পর্কে বলা হয়েছে। একটি সংসারের জন্য তার অবদান এবং জীবনের শেষ লগ্নে ঐ পরিবারের লোকজনের আচরণগত দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'নিমগাছ' প্রতীকী গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটির তার সংসারের প্রতি অবদানের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া গল্পের অন্যান্য বিষয় ও মূলভাবে প্রতিফলিত বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। 'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের আড়ালে মূলত আমাদের সমাজের গৃহবধূদের অবস্থাটি তুলে ধরেছেন। তারা সংসারের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেন। তাদের অবদানেই সংসার প্রাণময় হয়ে ওঠে। অথচ তারাই সংসারে থাকেন মূল্যহীন।

উদ্দীপকে রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ চল্লিশ বছর কাজ করার পর আকলিমা খাতুন ক্লান্ত। 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটিও অনুরূপভাবে ক্লান্ত। রহিমদের বাড়িতে শেষ আশ্রয় লাভের যে আশ্বাস আকলিমা পেয়েছেন তা সহানুভূতির। গল্পের বধূটি সে ধরনের কোনো আশ্বাসবাণী শোনেননি। এদিক থেকে তিনি বাঙালি বধূদের প্রতিনিধি। সংসারজীবনে তার কোনোকিছু না পাওয়া নিমগাছের মতো কারও কাছ থেকে যত্ন না পাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। লেখক 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানা উপকারী দিকের সঙ্গে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির তুলনা করেছেন, যা উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কারণ উদ্দীপকে আকলিমা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা নিমগাছের উপকারী দিকের সামান্য অংশই প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই বলা হয়েছে, উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিক তুলে ধরে।

512

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ! কেউবা ভাজছে গরম তেলে । খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে । কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে । এমনি কাঁচাই ...
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ ।
কিম্বা ভেজে বেগুন-সহযোগে ।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক দাঁত ভালো থাকে । কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ । বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
বলে- “নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না ৷'
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না ।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ— সে আর-এক আবর্জনা । হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো ।
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু ।
বলে উঠল,– ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি ... কী রূপ ! থোকা থোকা ফুলেরই বা কী বাহার.... একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাহ্-' খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল ।
কবিরাজ নয়, কবি ।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।

Related Question

View All
উত্তরঃ দাঁত পরিষ্কার করার জন্য এবং দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে লোকে নিমগাছের কচি ডাল চিবোয়।
Satt AI
Satt AI
21 hours ago
573
উত্তরঃ

বনফুলের 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছটির লোকটির সাথে চলে যেতে ইচ্ছা হয়েছিল কারণ লোকটি নিমগাছের ঔষধি গুণ ও উপযোগিতা সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং তাকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে দেখেছিল, যা গাছটিকে বাড়ির অন্যদের একঘেয়ে ব্যবহারের বিপরীতে এক নতুন অনুভূতি দিয়েছিল।

বাড়ির লোকজন নিমগাছটিকে কেবল তার ছাল, পাতা, ডাল ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করত, যা ছিল তার জন্য কেবল যন্ত্রের মতো এক ব্যবহার। কিন্তু কবিরাজ লোকটি যখন নিমগাছটির প্রশংসা করে তার গুণাগুণ উপলব্ধি করে, তখন নিমগাছের প্রাণিক সত্তায় এক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। এই প্রশংসা ও কদরই তাকে লোকটির সাথে চলে যাওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে, যেখানে তার আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সে ভাবে।

Satt AI
Satt AI
21 hours ago
626
উত্তরঃ

নিমগাছটি নতুন লোকটির সাথে চলে যেতে চেয়েছিল কারণ নতুন লোকটি নিমগাছের বাহ্যিক উপকারিতার বাইরে গিয়ে তার প্রতি এক গভীর সহানুভূতি ও প্রশংসা প্রকাশ করেছিল। সে নিমগাছের বাকল, পাতা, ডালপালার ভেষজ গুণের পাশাপাশি তার নীরব বেদনা ও অবহেলিত সত্তাটিকেও উপলব্ধি করতে পেরেছিল, যা অন্যদের চোখে ধরা পড়ত না।

এই আকাঙ্ক্ষা মূলত নিমগাছের এক অবরুদ্ধ জীবনের প্রতীকী প্রকাশ। বনফুলের ‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, সমাজে অনেক উপকারী ব্যক্তি বা বস্তু থাকে যারা নীরবে অন্যের সেবা করে যায় কিন্তু তাদের নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া বা কষ্ট কেউ বুঝতে পারে না। নতুন লোকটির সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টিতে নিমগাছটি ক্ষণিকের জন্য হলেও তার সীমাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিল।

Satt AI
Satt AI
21 hours ago
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews