চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ নিমগাছের পাতা।
ঔষধি গুণসম্পন্ন নিমগাছ যত্ন না করলেও বেড়ে ওঠে। এ কারণে নিমগাছটি না কাটলেও কেউ তার যত্ন করে না।
'নিমগাছ' বনফুলের একটি প্রতীকী গল্প। এতে সাধারণ অর্থে নিমগাছের ঔষধি গুণ ও উপকারী দিক তুলে ধরা হয়েছে। ও নিমফল থেকে উৎপন্ন নিম তেল বিভিন্ন ওষুধ, কৃমিনাশক ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে নিমগাছ কেউ কাটে না। অন্যদিকে কেউ যত্নও করে না। কারণ যত্ন ছাড়াও এ গাছ বেড়ে ওঠে। তাই এ গাছের জন্য আলাদা যত্নের ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখায় না।
উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো- নিমগাছের প্রতীকে এক গৃহলক্ষ্মী বধূর সীমাহীন অবদান।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা প্রতিনিয়তই নানা রকম অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্য নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কৃতজ্ঞচিত্তে নারীর সে অবদান স্বীকার করে তাকে যথার্থ মর্যাদা দিতে না পারলে মানুষের সার্বিক মুক্তি কখনো সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে রহিমদের বাড়িতে আকলিমা খাতুনের দীর্ঘদিন কাজ করা এবং তাদের সংসারে উন্নতির ক্ষেত্রে তার অবদানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এতে আকলিমার প্রতি ঐ সংসারের লোকদের সহনশীল মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও পরোপকারী ঔষধি বৃক্ষ নিমগাছের মতোই সংসারের উপকারে নিয়োজিত। নিমগাছ যেমন অযত্নে বেড়ে ওঠে, গৃহলক্ষ্মী বধূটিও তেমনই সংসারে অযত্ন-অবহেলার শিকার। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের আকলিমার চেয়েও তার অবস্থা করুণ।
উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিককে তুলে ধরে- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের সমাজ-সংসারে এমন অনেক মানুষ আছে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সেই পরিশ্রমের সমান মূল্য বা মর্যাদা পায় না। বরং তারা অযত্ন-অবহেলার শিকার হয়। বাঙালি পরিবারে গৃহবধূরা সংসারের নানা কিছু দেখাশোনার কাজ করে ক্লান্ত হয়। অথচ তারাই অবহেলিত হয় সবচেয়ে বেশি। সবাইকে নিজ নিজ কর্মের যথার্থ মূল্য ও মর্যাদা দেওয়া উচিত।
উদ্দীপকে একজন গৃহপরিচারিকার দীর্ঘদিনের কাজের প্রতিদান সম্পর্কে বলা হয়েছে। একটি সংসারের জন্য তার অবদান এবং জীবনের শেষ লগ্নে ঐ পরিবারের লোকজনের আচরণগত দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'নিমগাছ' প্রতীকী গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটির তার সংসারের প্রতি অবদানের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া গল্পের অন্যান্য বিষয় ও মূলভাবে প্রতিফলিত বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। 'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের আড়ালে মূলত আমাদের সমাজের গৃহবধূদের অবস্থাটি তুলে ধরেছেন। তারা সংসারের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেন। তাদের অবদানেই সংসার প্রাণময় হয়ে ওঠে। অথচ তারাই সংসারে থাকেন মূল্যহীন।
উদ্দীপকে রহিমদের বাড়িতে দীর্ঘ চল্লিশ বছর কাজ করার পর আকলিমা খাতুন ক্লান্ত। 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটিও অনুরূপভাবে ক্লান্ত। রহিমদের বাড়িতে শেষ আশ্রয় লাভের যে আশ্বাস আকলিমা পেয়েছেন তা সহানুভূতির। গল্পের বধূটি সে ধরনের কোনো আশ্বাসবাণী শোনেননি। এদিক থেকে তিনি বাঙালি বধূদের প্রতিনিধি। সংসারজীবনে তার কোনোকিছু না পাওয়া নিমগাছের মতো কারও কাছ থেকে যত্ন না পাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। লেখক 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানা উপকারী দিকের সঙ্গে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির তুলনা করেছেন, যা উদ্দীপকের আকলিমার সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কারণ উদ্দীপকে আকলিমা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা নিমগাছের উপকারী দিকের সামান্য অংশই প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই বলা হয়েছে, উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে নয় বরং বিশেষ একটা দিক তুলে ধরে।
Related Question
View Allনিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবিরাজরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!