একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয় তাকে জনসংখ্যা নীতি বলে।
সরকার নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেমন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
যুবকদের দ্বারা বিবাহ বন্ধ করার কাজটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (NGO) বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পারিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যক্তিগত এবং বেসরকারি উদ্যোগে কিছু কার্যক্রম আছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি কার্যক্রম হলো- পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের আওতায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকা, ইনজেকশন ও পুষ্টি বিষয়ে সেবা প্রদান করে। পাশাপাশি সচেতনতা কার্যক্রম হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাময়িকী, পোস্টার, ক্যালেন্ডার, চার্ট, নিউজলেটার, ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রদর্শন ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিমপুর গ্রামের যুবকেরা গ্রামের বাল্যবিবাহ রোধ করেছে। আর এটি হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটি বেসরকারি উদ্যোগ। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
হ্যাঁ, যুবকদের পরবর্তী কাজের মাধ্যমে রহিমপুর গ্রামের লোকজনকে মানবসম্পদে পরিণত করা যাবে বলে আমি মনে করি। কোনো দেশের সম্পদ যদি সীমিত হয় তখন বিশাল জনসংখ্যা তার জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে উপযুক্ত পরিকল্পনা নিলে বিশাল জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হয়। উদ্দীপকে রহিমপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সংস্থা কাজ করে। তারা নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামে একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রামের অদক্ষ জনগণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হবে। উদ্দীপকের মতোই উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করা যায়। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তাই যেকোনো বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান একজন অদক্ষ মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে। বিশ্বের অনেক দেশ কারিগরি শিক্ষাকে তাদের জনগণকে সম্পদে রূপান্তর করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এ ব্যাপারে আমরা চীনের উদাহরণ দিতে পারি। তাদের বিশাল জনগোষ্ঠী তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২৩ ভাগ ভারতীয় দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল। পরিশেষে বলা যায়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ জনসংখ্যাকে জনসম্পদ পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allউন্নয়ন শব্দটি অগ্রগতি বা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বৃদ্ধি সৃষ্টি করে, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সাধারণত, উন্নয়ন শব্দটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে বর্ণনা করে।
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা। কোনো দেশের নারী-পুরুষ মিলে যে মোট লোকসংখ্যা হয় তাকে ওই দেশের জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের একক জনগোষ্ঠীকে ওই ভূখণ্ডের জনসংখ্যা বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয় ৮১,৬৯৫ মার্কিন ডলার (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ২০২৩)।
একটি দেশ ভবিষ্যতে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশি সত্যি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!