অ্যামাইনো এসিড, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন নিয়ে গঠিত খাদ্য উপাদানকে প্রোটিন বলে।
শক্তির প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট।
দৈনিক শক্তি চাহিদার ৬০%-৮০% আমরা কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্রহণ করি। দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য এটি তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে। মস্তিষ্কের কাজ সচল রাখে গ্লুকোজ জাতীয় কার্বোহাইড্রেট। সেলুলোজ জাতীয় কার্বোহাইড্রেট কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়া এটি স্নেহ পদার্থ দহনে সহায়তা করে আমাদের কিটোসিস নামক রোগ থেকে রক্ষা করে। এসব কারণে খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট গুরুত্বপূর্ণ।
রহিমা বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত।
শরীরে থায়ামিনের অল্প ঘাটতি হলে শারীরিক ও মানসিক অবসাদ, ক্ষুধামন্দা, অনিদ্রা, ওজন হ্রাস ও দুর্বলতা, খিটখিটে মেজাজ, বুক ধড়ফড় করা এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। থায়ামিনের ঘাটতি খুব বেশি হলে বেরিবেরি রোগ হয়। এ রোগ দুই ধরনের হয়। যথা- ভেজা ও শুকনা বেরিবেরি। বেরিবেরি রোগের লক্ষণ হলো- হাত-পা অবশ হওয়া, হৃৎপিন্ডের দুর্বলতা, এনিমিয়া, স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইসিস হওয়া। এছাড়া ভেজা বেরিবেরি হলে হাতে-পায়ে পানি জমে। বেরিবেরি রোগ যেকোনো বয়সে হতে পারে।
রহিমা পুষ্টিকর খাবার খায় না এবং তার ঘুম হয় না; অর্থাৎ তার অনিদ্রা দেখা দিয়েছে। সে অস্থিরতা বোধ করে। এছাড়া সে অনুভব করে যে, তার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, উল্লিখিত লক্ষণগুলো থেকে বোঝা যায় যে, রহিমা বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
সালেহার কোমরের ও পায়ের ব্যথা দূর করতে ভিটামিন 'ডি' বা ক্যালসিফেরল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিটামিন 'ডি' এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিফেরল। এটি রিকেট রোগ প্রতিরোধ করে বলে একে রিকেট প্রতিরোধক ভিটামিন বলে। এটি চর্বিতে দ্রবণীয় কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয়।
তৃতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার পর সালেহার দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস কমে যায়। তার কোমরে ও পায়ে ব্যথা হয়। সে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারে না এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী মা এবং বয়স্কদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। এ রোগে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ক্ষয় হয়ে যায়; ফলে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই রোগে কোমরে ও পায়ে ব্যথা হতে পারে; ক্রমশ পা দুর্বল হয়ে যায় ও হাতের উপর ভর দিয়ে চলতে হয়। এক পর্যায়ে পায়ের হাড় ও মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে। সালেহা অস্টিওম্যালেসিয়া রোগে আক্রান্ত। তার ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কড, শার্ক ও হ্যালিবার্ট মাছের তেল, কলিজা, দুধজাতীয় খাদ্য, ডিমের কুসুম ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। আমাদের ত্বকের নিচে কোলেস্টেরল থাকে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সহায়তায় কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। তাই সালেহাকে প্রতিদিন কিছু সময় সূর্যের আলোতে থাকতে হবে। উল্লিখিত বিষয়গুলো মেনে চললে অস্টিওম্যালেসিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
সুতরাং, সালেহার কোমর ও পায়ের ব্যথা দূর করতে ভিটামিন 'ডি' বা ক্যালসিফেরল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View Allপ্রোটিন ছাড়া প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাঙলে প্রথমে অ্যামাইনো এসিড পরবর্তীতে কার্বন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়।
বড় আকারের এক একটি প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসিড অণু পাওয়া যায়। প্রত্যেকটা অণুতে কমপক্ষে ১টি অ্যামাইনো দল (-NH2) ও ১টি কার্বক্সিল দল (-COOH) বিদ্যমান থাকে। এদেরকে অ্যামাইনো এসিড বলে।
সানার দেহে প্রোটিনের অভাবে উল্লিখিত সমস্যাগুলো হচ্ছে।
সানা তার সমবয়সীদের তুলনায় আকৃতিতে ছোট অর্থাৎ তার দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং ওজন কমে গেছে। সে অল্পতেই রেগে যায় অর্থাৎ তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। আবার তার চুলের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এগুলো প্রোটিনের অভাবজনিত লক্ষণ।
প্রোটিনের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে দেহকোষের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করা। আমাদের দাঁত, চুল, নখ থেকে শুরু করে দেহের অস্থি, পেশি সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের কোষ সবসময় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নতুন কোষ গঠন করে ক্ষয়পূরণের কাজ করে প্রোটিন। এই প্রোটিনের অভাবে মানবদেহে বিভিন্ন রকমের অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়, যা সানার মধ্যেও দেখা দিয়েছে।
ঘসানার শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় তার দেহে প্রোটিনের অভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার তাকে প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য সানার প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ প্রোটিন জাতীয় খাবার দেহ গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। মানসিক বিকাশের সময় প্রোটিনের অভাব হলে বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়। আর এই উপাদানের ঘাটতি যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে তার দেহে আরো বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- হাত পা ফুলে গিয়ে মুখে পানি এসে কোয়াশিয়রকর (kwashiorkor) দেখা দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন প্রোটিন ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব হলে ম্যারাসমাস (marasmus) দেখা দিতে পারে। এ রোগে শিশুরা খুবই শুকিয়ে যায়। অর্থাৎ পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য এবং বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ডাক্তারের পরামর্শটি অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদান হলো স্নেহ পদার্থ।
খাদ্য দেহ গঠন, বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয় পূরণ, তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান করে। এছাড়া খাদ্য দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শরীরে এ সকল কাজগুলো সম্পাদন হওয়া জরুরি যা খাদ্যের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, খাদ্যই বেঁচে থাকার নিয়ামক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!