উদ্দীপকে রহিমা বেগমের আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস মহীয়সী নারী রাবেয়া বসরি (র.)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সকল নারীর অনুকরণীয় আদর্শ। মহান আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনকারী নারীদের মধ্যে হযরত রাবেয়া বসরি (র.) ছিলেন অন্যতম। বাল্য বয়সে পিতামাতার ইন্তেকাল এবং দুর্ভিক্ষের ফলে তিনি ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রিত হন। তিনি দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করতেন। আবার রাতের বেলা বিনিদ্র থেকে আল্লাহর ইবাদতে কাটাতেন। আল্লাহর অনুগ্রহে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি দুঃখে-কষ্টে, সুস্থতা-অসুস্থতায় সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন। পার্থিব বিষয়ে কারও সাহায্য তিনি অপছন্দ করতেন। অসুস্থতা, দরিদ্রতা ইত্যাদি দূরাবস্থাতে আল্লাহর ইচ্ছা বলে সন্তুষ্ট থাকতেন। তিনি সর্বদা আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে আল্লাহর 'ওলি' বা বন্ধু হতে পেরেছিলেন।
উদ্দীপকের রহিমা নানা অভাব-অনটনের মাঝেও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে অটল থাকেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রহিমার এ বিশ্বাস রাবেয়া বসরি (র.) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হযরত রাবেয়া বসরি (র.) নারী জাতির জন্য অনুকরণীয় অনন্য আদর্শ। দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটনের মধ্যে আল্লাহর প্রতি তার অটল ও অবিচল বিশ্বাস সকল নারীর জীবনে অনুসরণীয়।
Related Question
View Allইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলা হয়।
অশ্লীলতা সমাজকে কলুষিত করে, পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জাশীলতা মানুষের পশুত্বকে দূর করে পরিশুদ্ধ করে। এজন্যই রাসুল (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে, তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে। আর যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি)
লিমন সাহেব হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম সানিয়া রেখেছেন।
মহান তাপসী রমণী রাবেয়া বসরি (র.) ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় রাবেয়া (চতুর্থা)। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, লিমন সাহেব তার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখেন 'সানিয়া'। বন্ধুরা কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন আরবিতে 'সানিয়া' অর্থ দ্বিতীয়া। সুতরাং বলা যায়, লিমন সাহেব রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম রেখেছেন।
ছাত্র-শিক্ষকের আলোচনায় যে খলিফার কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। তাঁর কৃতিত্ব ও চরিত্র অতুলনীয়।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-কে দ্বিতীয় উমর ও ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায় আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সক্রিয়তা তা তাঁকে অনেক মর্যাদাবান করেছে। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) খলিফা হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর আমলে ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলিত হতে থাকে। উদ্দীপকেও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক বললেন যে, যার শাসনামলে মানুষের আর্থিক বৈষম্য দূর হয়েছে এবং মানুষ গণতান্ত্রিক শান্তি লাভকরেছে, তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি হাদিস সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সুতরাং, উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) হলেন উক্ত খলিফা, যার চরিত্র এবং কৃতিত্ব অতুলনীয়।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ১০০ দিনার ভাতার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) সর্বগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। একইসাথে তিনি গৃহস্থালী বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জ্ঞান দান করতেন। এজন্য মহানবি (স.) আয়েশা (রা.)-কে সারিদ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ খাদ্য যা রুটি, গোশত ও ঝোলের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার সাথে তুলনা করে বলেছেন, "নারী জাতির ওপর আয়েশা (রা:)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যদ্রব্যের ওপর সারিদের মর্যাদা।" (বুখারি ও ইবনে মাজাহ)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!