মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল যেমন- ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম অনঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অনালে ইদানীং প্রায়ই মৃদু ভূমিকম্প হচ্ছে। ২০১১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর সংঘটিত ভূমিকম্প ছিল বেশ ভয়াবহ। এতে সারা বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের সীমানা প্লেটে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।
উদ্দীপকটি পরিবেশ ভারসাম্যহীনতার অন্যতম কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে নির্দেশ করেছে।
গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করে। সূর্যের তাপ এ আচ্ছাদনটি শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকের রহিম ও করিম ঢাকা শহরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে যায়। যাওয়ার সময় তারা রাস্তার দুপাশে প্রচুর ইটভাটা ও শিল্পকারখানা যত্রতত্র দেখতে পেল। তারা উপলব্ধি করে, তাদের গ্রামের তুলনায় ঢাকা শহরের তাপমাত্রা অনেক বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটে পরিবেশকে ভারসাম্যহীন করে তোলে। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠাণ্ডা থাকে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণরূপে মহাশূন্যে মিলিয়ে না গিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। এভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। যার ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পরিবেশ ভারসাম্যহীনতার কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে নির্দেশিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে বন উজাড়করণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবেশ দূষণের পিছনের যে কারণটি সবচেয়ে বেশি দায়ী তা হলো বন উজাড়করণ।
উদ্দীপকে রহিম ও করিম ঢাকায় বেড়াতে যায়। তারা পরিবেশ ভারসাম্যহীনতার বিভিন্ন উপাদান দেখতে পায়। ক্রমাগত নগরায়ণের ফলে বন উজাড় করে বসবাসের স্থান ও কারখানা নির্মাণ করা হয় বলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
আমরা জানি, সবুজ উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। কিন্তু ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন বা বন উজাড়করণের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিবেগুনি রশ্মি প্রবেশ করে পরিবেশকে ভারসাম্যহীন করে তুলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত বাসস্থানের প্রয়োজন বলে নির্বিচারে, বৃক্ষনিধন হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে।
অতএব বলা যায়, বনাঞ্চল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এই বন উজাড়করণের ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তাই আমি প্রশ্নের বক্তব্যের সাথে একমত।
Related Question
View Allকোনো জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তিকাল কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তাকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা, শিলাবৃষ্টি, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। এছাড়া শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্য ও উষ্ণ প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণ। বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এসব দুর্যোগের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন প্রভৃতি।
বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ একদিকে যেমন তার জীবনকে করেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, বৃক্ষনিধন ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনসহ বড়ো বড়ো শিল্প-কারখানার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয় নানা সমস্যার। এসবের ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। একেই বলা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর একটি হলো 'গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া'। এটি একটি জটিল সমস্যা। গ্রিনহাউস মূলত কতকগুলো গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন। গ্রিনহাউস গ্যাসকে তাপ বৃদ্ধিকারক গ্যাসও বলে। এই গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমন্ডলে চাদরের মতো আচ্ছাদন তৈরি করে আছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করেছে। সূর্যের তাপ এই চাদর শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে, মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হয়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণভাবে মহাশূন্যে মিলিয়ে 'না যেয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!