লক্ষ্য একটি কাম্য উদ্দেশ্য, যার সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে এবং যা ব্যক্তির কার্যাবলিকে নির্দেশ দান করে।
সংগঠনের মাধ্যমে কাজ, কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়।
গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের বিভিন্ন কাজগুলোর মধ্যে সংযোগ সাধন করার নাম সংগঠন। সংগঠনের প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি তার করণীয় কাজের বিভিন্ন অংশের একটি ধারাবাহিক বিন্যাস রচনা করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যক্তি তার কোন কাজ আগে এবং কোন কাজ পরে হবে তার ধারাবাহিকতা তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়ে ব্যক্তি তার একটি নির্দিষ্ট কাজ বা কাজসমূহ বিভিন্ন ব্যক্তি দ্বারা সম্পন্ন করার জন্য একটি কর্ম কাঠামো তৈরি করে।
সম্পদের পরস্পর পরিবর্তনশীলতার বৈশিষ্ট্যটি কাজে লাগিয়ে রহিম মিয়া নতুন কিছু সৃষ্টি করেছে।
সম্পদ হলো চাহিদা পূরণের হাতিয়ার। প্রতিটি পরিবারেই কিছু না কিছু সম্পদ থাকে। এর সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমেই পরিবার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে সক্ষম হয়।
সম্পদের পরিবর্তনশীলতা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন- বিকল্প সম্পদ ব্যবহার, বহুবিধ ব্যবহার, বিনিময়, রূপান্তর, সৃষ্টি ইত্যাদি। রহিম মিয়া পুরাতন কাপড় কিনে তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের কাঁথা, ঘরের পর্দা তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করেন। অর্থাৎ সম্পদের রূপান্তরযোগ্যতা ও সৃষ্টি এ দুটি বিষয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। রূপান্তর বলতে একটি সম্পদকে অন্য সম্পদে পরিবর্তন করাকে বোঝায়। যেমন- পুরানো শাড়ি দিয়ে কাঁথা, ঘরের পর্দা, শিশুর জামা তৈরি করা। রহিম মিয়াও তাই করেছিলেন। এভাবেই তিনি নতুন কিছু সৃষ্টি করার জন্য সম্পদের রূপান্তরযোগ্যতা তথা পরিবর্তনশীলতা বৈশিষ্ট্যটি কাজে লাগিয়েছেন।
রাজুর ব্যবসায় লেগে থাকাই তার উন্নতির একমাত্র সোপান-বক্তব্যটি যথার্থ।
যেকোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শেষ পর্যন্ত কাজটি করে যাওয়াই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। গৃহ ব্যবস্থাপকের অধ্যবসায় গুণের কারণে যেকোনো কঠিন কাজও সহজেই সম্পন্ন হয়। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, একাগ্রত ইত্যাদি গুণাবলি অধ্যবসায়ী হতে সাহায্য করে। যেমন- বিশেষ কোনো নতুন কাজ যদি একবারে করা না যায়, তাহলে বারবার চেষ্টা করে তা রপ্ত করা যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির এই গুণটি থাকা প্রয়োজন। তাহলে সুষ্ঠুভাবে যেকোনো কাজ সম্পন্ন করা যায়।
রহিম মিয়া অল্প পুঁজিতে কাপড় ক্রয় করে তার স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের কাঁথা, ঘরের পর্দা তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করেন। তিনি তার ছেলে রাজুকে যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবসায় কাজে লাগান। রাজু তার ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসাকে নতুন ফ্যাক্টরীতে রূপ দেয়। তার অধ্যবসায় গুণাবলির কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, রাজুর ব্যবসায় লেগে থাকা বা অধ্যবসায় তার উন্নতির একমাত্র সোপান।
Related Question
View Allশন্তি গুণগত দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ।
বস্তুগত সম্পদ হস্তান্তরযোগ্য। এদের বিনিময় মূল্য আছে এবং এগুলো দুর্লভ ও পরিমাপযোগ্য। যেমন- অর্থ, জমি, বাড়ি, অলংকার ইত্যাদি বস্তুগত সম্পদ। এগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করা যায়।
আয়শা বেগমের কাজের মাধ্যমে সম্পদের পরস্পর পরিবর্তনশীলতা বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটেছে।
সম্পদের পরস্পর পরিবর্তন কয়েক ভাগে করা যায়। যেমন- বিকল্প সম্পদ ব্যবহার। এক্ষেত্রে ভাতের পরিবর্তে রুটি খাওয়ার মাধ্যমে সম্পদের বিকল্প ব্যবহার করা যায়। একই সম্পদকে বহুবিধ কাজে ব্যবহার করা যায়। যেমন- খাবার ঘরের চেয়ার টেবিলকে পড়াশোনা, আলোচনা প্রভৃতি কাজে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া একটি সম্পদ ব্যবহার করে অন্য সম্পদ সৃষ্টি করা যায়। যেমন- জমিতে চাষ করে ফসল উৎপাদন করা।
আমাদের সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজনীয় অভাব মেটাতে হয়। সম্পদের সুষ্ঠু পরিচালনায় অভাব মোকাবিলা করা যায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা যায়। আয়েশা বেগম তার পুরাতন শাড়ি দিয়ে ঘরের পর্দা, পাপোস তৈরি করেন। এর ফলে একটি সম্পদ অন্য একটি সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, আয়েশা বেগমের কাজের মাধ্যমে সম্পদ রূপান্তরযোগ্য এই বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সম্পদ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো এর ব্যবহার দ্বারা সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ এবং লক্ষ্য অর্জন করা।
অসীম চাহিদাকে সীমিত সম্পদ দ্বারা পূরণ করতে হলে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার প্রয়োজন। তাই আয়েশা বেগম তার নিজস্ব প্রচেষ্টার ফলে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের চাহিদা মেটান।
তিনি যেভাবে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করেন তা নিচে দেওয়া হলো-
১. তিনি পরিবারের আয় বাড়াতে ও ব্যয় হ্রাস করার উদ্দেশ্যে সদস্যদের সময়, শক্তি, ক্ষমতা, দক্ষতা, বুদ্ধি ইত্যাদি মানবীয় সম্পদকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করেন।
২. তিনি সীমিত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কাজ সম্পাদন করেন। প্রয়োজনে তিনি পুরাতন কাপড়কে নানাভাবে ব্যবহার করেন।
৩. আয়েশা বেগম বাজেট ও সময় তালিকা করে চলেন। ফলে মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং অল্প সম্পদ দ্বারাই অধিক তৃপ্তি লাভ করা যায়।
৪. তিনি গৃহের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বিশেষ করে রেফ্রিজারেটর, ইস্ত্রি, প্রেসারকুকার, ওভেন ইত্যাদির সঠিক যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন। ফলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয় না, যা পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
পরিশেষে বলা যায়, পরিবারকে সুচারুরূপে পরিচালিত করতে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আয়েশা বেগম এই কাজটি সুনিপুণ হাতে অত্যন্ত সহজভাবে সম্পন্ন করে থাকেন। তাই তার পরিবারের সকল সদস্য তার কাজে সন্তুষ্ট।
সীমাবদ্ধতা সম্পদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সম্পদ গুণগত ও পরিমাণগত দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ। যেমন- শক্তি গুণগত দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ এবং সময় পরিমাণগত দিক থেকে সীমাবদ্ধ। সময়ের সীমাবদ্ধতা সার্বজনীন। আবার শক্তির সীমাবদ্ধতা ব্যক্তি বিশেষে তারতম্য ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!