মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য যে কাজ করে থাকে তাকে অর্থনৈতিক কার্যাবলি বলে।
বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়, কারণ এদেশের অর্থনীতি অনুন্নত দেশের মতো স্থবির ও প্রাথমিক পর্যায়ের নয়।
যেসব দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশের তুলনায় কম, কিন্তু ইতোমধ্যে উন্নয়নের সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তাকে উন্নয়নশীল দেশ বলে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার সার্বিক ক্রমপরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এদেশে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হয়েছে। সেই সাথে মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান ধীরে হলেও বাড়ছে। কাজেই এসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়।
রহিম মিয়াকে সীমিত সম্পদের জন্য অসীম অভাব (Unlimited wants) এবং নির্বাচন (Choice) সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
মানুষের অভাব অসীম। এ অভাব বা আকাঙ্ক্ষার কোনো শেষ নেই। একটি অভাব পূরণ হলে নতুন নতুন অভাব বিভিন্ন প্রকৃতিতে দেখা দেয়। জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অভাবের পূরণ হলেই, আবার নতুন করে আরামপ্রদ দ্রব্য ও সেবার অভাব দেখা দেয়, এটা পূরণ হলে বিলাসজাতীয় দ্রব্য ও সেবা ভোগের আকাঙ্ক্ষার উদ্ভব ঘটে। এভাবে ক্রমাগত অসীম অভাব মানুষকে তাড়িত করে। অপরদিকে, অসীম অভাব ও দুষ্প্রাপ্য সম্পদের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে মানুষ সম্পদের বিকল্প ব্যবহার করে। তখনই নির্বাচনের মতো সমস্যায় পড়তে হয়। সুতরাং নির্বাচন বা পছন্দ হচ্ছে সীমিত সম্পদ দ্বারা অসীম অভাবের মধ্যে কোন গুরুত্বপূর্ণ অভাবটি প্রথমে পূরণ করা হবে, তা নির্ধারণ বা চিহ্নিত করা। উদ্দীপকের রহিম মিয়া একজন বর্গাচাষি, তার আয় সীমিত। কিন্তু পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি। সীমিত আয় দিয়ে এতবড় পরিবার চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থাতে রহিম মিয়াকে পরিবারের অসংখ্য অভাবের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে অভাব পূরণের চেষ্টা করতে হয়।
হ্যাঁ, রহিম মিয়া সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে তার সমস্যা দূর করতে পারবে।
সম্পদের সীমাবদ্ধতা বা দুষ্প্রাপ্রতার কারণে মানুষ তার সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে তাকে সম্পদের বিকল্প ব্যবহারগুলোর মধ্য থেকে উত্তম ব্যবহারটি এবং অসীম অভাবের মধ্য থেকে তীব্রতর বা অতি প্রয়োজনীয় অভাবটি নির্বাচন করতে হয়। তাছাড়া সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে মানুষের অভাবের পরিধিও প্রসারিত হতে থাকে। তখন একটি অভাব পূরণ হতে না হতেই নতুন অভাবের সৃষ্টি হয়। আর মানুষ সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না, কারণ সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এজন্য মানুষকে সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, অসংখ্য অভাবের মধ্যে গুরুত্বের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাব, স্বাচ্ছন্দ্য বা আরামদায়ক দ্রব্যের অভাব এবং বিলাসজনিত দ্রব্যের অভাব পূরণের মাধ্যমে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। উদ্দীপকের রহিম মিয়া একজন বর্গাচাষি। তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি, তাই অভাব সর্বদা লেগেই থাকে। এজন্য রহিম মিয়া তার পরিবারের অসংখ্য অভাবের মধ্যে সীমিত সম্পদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণের মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন। মানুষের অভাবের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে অপেক্ষাকৃত তীব্র অভাব সীমিত সম্পদের সাহায্যে প্রথমে পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো একটি দ্রব্য নির্বাচন করা হয় পরবর্তী বিকল্প দ্রব্যটির পরিবর্তে। অর্থাৎ সীমিত সম্পদ কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা হলে, অন্যক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ ত্যাগ করতে হয়। আর এভাবেই মানুষ সীমিত সম্পদের সাহায্যে সর্বাধিক তৃপ্তি লাভ বা কল্যাণ অর্জনে সক্ষম হয়।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!